তিন বছর আগের এই দিনে ইসরায়েলে হামলা চালায় হামাস, এরপর যা হলো

ইসরায়েলে হামাসের প্রাণঘাতী হামলার তিন বছর পূর্ণ হলো আজ। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের ওই নজিরবিহীন সামরিক হামলা ও পরবর্তী যুদ্ধের স্মৃতি স্মরণে আজ দেশজুড়ে শোক পালন করছেন ইসরায়েলিরা। সংঘাত অনেকটা থেমে গেলেও একদিকে নির্বাচনে বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ, অন্যদিকে গাজার সংকটাপন্ন পরিস্থিতি ঘিরে পুরো অঞ্চলে এখনও থমথমে পরিবেশ বিরাজ করছে। খবর রয়টার্সের। 

প্রতিবেদনে জানানো হয়, গাজা সীমান্তের কাছে ‘নোভা মিউজিক ফেস্টিভ্যালে‘ অনুষ্ঠানস্থলে এক বিশেষ প্রার্থনা সভার (ভিজিল) আয়োজন করা হয়েছে, যেখানে হামাসের হামলায় ৩৪৮ জন তরুণ প্রাণ হারিয়েছিলেন। এ ছাড়া তেল আবিবের বিখ্যাত ‘হোস্টেজ স্কয়ারে‘ স্বজনহারা ও সাধারণ মানুষ একত্র হয়ে বিশেষ স্মরণসভার আয়োজন করেছে।

এটিই প্রথম বর্ষপূর্তি, যখন গাজায় কোনো ইসরায়েলি বন্দি অবশিষ্ট নেই। ফিলিস্তিনি বন্দিদের বিনিময়ে হামাসের কাছ থেকে জীবিত ও মৃত সব জিম্মিকে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে, যার মধ্যে সর্বশেষ ইসরায়েলি জিম্মির দেহাবশেষ উদ্ধার করা হয় গত জানুয়ারি মাসে।

তবে গাজা যুদ্ধের ধ্বংসযজ্ঞের ক্ষত এখনও শুকায়নি। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের হামলায় ১ হাজার ২০০ ইসরায়েলি নিহত হন এবং ২৫১ জনকে জিম্মি করে নিয়ে যাওয়া হয়। এর জবাবে ইসরায়েলের টানা বিমান হামলা ও স্থল অভিযানে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয় গাজা উপত্যকা। তিন বছরে ৭৪ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনি প্রাণ হারিয়েছেন বলে জানিয়েছে অঞ্চলটির স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ। 

২০২৫ সালের ১০ অক্টোবর যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তি স্বাক্ষরিত হলেও তা পুরোপুরি গাজায় হামলা বন্ধ করতে বা হামাসকে নিরস্ত্রীকরণ করতে পারেনি। সেখানকার চরম মানবিক সংকট এখনও বিদ্যমান। এখনও থেমে থেমে হামলা চালায় ইসরায়েলি বাহিনী।

আগামী ২০ দিন পর ইসরায়েলে সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে, যা মূলত প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর দীর্ঘ শাসনকালের ওপর এক ধরনের গণভোট। হামলার সময়ের নিরাপত্তাজনিত ব্যর্থতার দায় নিতে অস্বীকৃতি জানানো এবং কোনো স্বাধীন তদন্ত কমিটি গঠন না করায় নেতানিয়াহুর প্রতি দেশজুড়ে তীব্র ক্ষোভ রয়েছে। ইসরায়েল ডেমোক্রেসি ইনস্টিটিউটের জরিপ অনুযায়ী, ৬৮ শতাংশ সাধারণ নাগরিকের ভোট দেওয়ার ক্ষেত্রে ৭ অক্টোবরের ঘটনাটি মূল নিয়ামক হিসেবে কাজ করবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *