দীর্ঘ প্রায় এক দশকের মধ্যে প্রথম কোনো মার্কিন প্রেসিডেন্ট হিসেবে চীনে পৌঁছেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। তার এই সফরের প্রধান উদ্দেশ্য হলো মার্কিন ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য চীনের বাজার উন্মুক্ত করা ও ইরান যুদ্ধের ফলে ক্ষতিগ্রস্ত নিজের জনপ্রিয়তা পুনরুদ্ধার করা। খবর রয়টার্সের।
আজ বুধবার (১৩ মে) ট্রাম্পের এই সফরে সফরসঙ্গী হিসেবে রয়েছেন টেসলার ইলন মাস্ক ও শেষ মুহূর্তে যুক্ত হওয়া এনভিডিয়ার প্রধান জেনসেন হুয়াং। বিশেষ করে এনভিডিয়ার জন্য এই সফর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ প্রতিষ্ঠানটি চীনে তাদের শক্তিশালী এইচ২০০ এআই চিপ বিক্রির জন্য প্রয়োজনীয় নিয়ন্ত্রক অনুমোদন পেতে দীর্ঘ সময় ধরে চেষ্টা চালাচ্ছে।
ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে লিখেছেন, শি জিনপিংয়ের কাছে তার প্রথম অনুরোধই হবে চীনের বাজার ‘উন্মুক্ত’ করা, যাতে এই মেধাবী মানুষগুলো সেখানে তাদের কর্মদক্ষতা দেখাতে পারেন।
ট্রাম্প যখন বেইজিংয়ে আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি নিচ্ছেন, তখন তার শীর্ষ বাণিজ্য আলোচক স্কট বেসেন্ট দক্ষিণ কোরিয়ায় চীনা কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করছেন। গত বছর দুই দেশের মধ্যে হওয়া ভঙ্গুর বাণিজ্য চুক্তিটি টিকিয়ে রাখাই এই আলোচনার মূল লক্ষ্য। উল্লেখ্য, গত অক্টোবরে ট্রাম্প চীনা পণ্যের ওপর তিন অঙ্কের শুল্ক স্থগিত করেছিলেন। বিনিময়ে শি জিনপিং বিরল মৃত্তিকা সরবরাহ স্বাভাবিক রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন।
বাণিজ্য ছাড়াও এই সফরে ইরান যুদ্ধ এবং তাইওয়ানের কাছে মার্কিন অস্ত্র বিক্রির মতো সংবেদনশীল বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা হবে। ট্রাম্প আশা করছেন, ইরানকে একটি চুক্তিতে আনতে চীন তেহরানকে প্রভাবিত করবে। এদিকে তাইওয়ানের জন্য প্রস্তাবিত ১৪ বিলিয়ন ডলারের একটি অস্ত্র প্যাকেজ এখনও ট্রাম্পের অনুমোদনের অপেক্ষায় ঝুলে আছে, যা নিয়ে বেইজিং ইতোমধ্যে তাদের তীব্র বিরোধিতা পুনর্ব্যক্ত করেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে মার্কিন ভোটারদের কাছে নিজের অর্থনৈতিক সাফল্য তুলে ধরতে ট্রাম্পের জন্য এই সফর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে ইরান যুদ্ধের ফলে সৃষ্ট মুদ্রাস্ফীতি এবং আদালতের বিভিন্ন আইনি বাধ্যবাধকতার কারণে ট্রাম্পের দরকষাকষির ক্ষমতা আগের তুলনায় কিছুটা সীমিত। বেইজিংয়ের সাধারণ মানুষের মধ্যে এই সফর নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ কেউ এটিকে ইতিবাচক দেখলেও অনেকে ট্রাম্পের আন্তরিকতা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন।