বিনা-২৫ বাংলাদেশ পরমাণু কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (BINA) উদ্ভাবিত একটি আধুনিক, উচ্চফলনশীল ও সরু বাসমতি মানের বোরো ধানের জাত। এটি তিন বিঘা জমিতে চাষ করেছেন চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুর উপজেলার বিশুক্ষেত্র গ্রামের কৃষি উদ্যোক্তা মো. আব্দুল আলিম রিপন।
বিনা-২৫ জাতের ধানটি জীবনকাল ১৪৩ থেকে ১৪৫ দিন, ফলে একই জমিতে বছরে চার ফসল উৎপাদন সম্ভব হয়। প্রতিকূলতা ও সহিষ্ণুতার মধ্যেও হেক্টরপ্রতি সাড়ে সাত থেকে সাড়ে আট টন ফলন হতে পারে। প্রিমিয়াম মানের, চিকন, লম্বা এবং সুস্বাদু এই ধানটি বাসমতি চালের মতো যা বিদেশে রপ্তানিযোগ্য। তুলনামূলকভাবে অন্যান্য ধানের তুলনায় রোগ বালাই কম হওয়ায় খরচও কম হয়। বিঘাপ্রতি মাত্র ৮-১০ হাজার টাকা খরচ হয়।
হঠাৎ ঝড়-বৃষ্টি বা বৈরী আবহাওয়াতে গাছ হেলে পড়লেও ২-৩ দিনে ধানের গাছ আবার সোজা হয়ে যায় এবং স্বাভাবিক ফলন হয়।
এই ধান রোপণের সময় হলো অগ্রহায়ণের প্রথম সপ্তাহ থেকে পৌষের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত। আবার এটি হাইব্রিড নয়, তাই কৃষক নিজেই বীজ সংরক্ষণ করতে পারেন।
গভীর নলকূপের অপারেটর মো. আজিজুল বলেন, আমার স্কিমে প্রথম এই ধান এসেছে। এর ফলাফল খুবই ভালো, কেউ কল্পনা করতে পারিনি যে এত বড় শীষ হয়।
কৃষক মনিরুল জানান, ধানের সবকিছু ভালোই, বিঘাপ্রতি প্রায় ৩০-৩৫ মণ ধান হবে মনে হচ্ছে। আমি পেলে সামনেরবার এই ধান লাগাব।
কৃষি উদ্দোক্তা আব্দুল আলিম রিপন বলেন, আমার তিন বিঘা জমিতে পরীক্ষামূলকভাবে বিনা-২৫ জাতের ধান চাষ করেছি। আল্লাহর রহমতে এ পর্যন্ত সবকিছুই ভালো দেখছি। রোগবালাই কম, খরচও কম। ফলনও ভালো হবে, কারণ ধানের শিষ বেশ লম্বা।
গোমস্তাপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. সাকলাইন হোসেন জানান, বিনা-২৫ আধুনিক ধানের বৈশিষ্ট্য সম্পন্ন। পুষ্টিগুণ বেশি থাকায় ও আকারে চিকন, সরু, লম্বা হওয়ায় বাজারে ব্যাপক চাহিদা রয়েছে।