ছাত্রীকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে শিক্ষক আটক, মাদ্রাসায় অগ্নিসংযোগ

পাবনা সদরের একটি আবাসিক মহিলা মাদ্রাসার চতুর্থ শ্রেণির এক মেয়ে শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় মাদ্রাসার শিক্ষক ও পরিচালক আবু ইউসুফকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেছে স্থানীয় জনতা। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী মাদ্রাসায় ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করেন।

বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) দিনগত রাতে পাবনা সদর উপজেলার ভাঁড়ারা ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের ভাউডাঙ্গা কালুরপাড়া এলাকার ‘নুরে মদিনা আবাসিক মহিলা মাদ্রাসা’য় এ ঘটনা ঘটে।

​আটককৃত আবু ইউসুফ জেলার আতাইকুলা থানার খালিশপুর গ্রামের বাসিন্দা। তিনি স্থানীয় বাসিন্দা ইসাই প্রাংয়ের কাছ থেকে ভবনটি ভাড়া নিয়ে ওই মাদ্রাসাটি পরিচালনা করতেন।

​ স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার দিনগত গভীর রাতে মাদ্রাসার পরিচালক আবু ইউসুফ চতুর্থ শ্রেণির ওই শিশু শিক্ষার্থীকে জোরপূর্বক নিজের শয়নকক্ষে নিয়ে যান এবং তাকে ধর্ষণের চেষ্টা চালান। এ সময় ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর এক সহপাঠী বিষয়টি দেখতে পেয়ে দ্রুত বাইরে গিয়ে স্থানীয় লোকজনকে ডেকে আনে। পরে স্থানীয়রা এসে ওই শিক্ষার্থীকে উদ্ধার করেন এবং পরিচালক আবু ইউসুফকে হাতেনাতে ধরে ফেলেন।

​এ ঘটনার খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। বিক্ষুব্ধ জনতা তাৎক্ষণিক মাদ্রাসায় ব্যাপক ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করেন। খবর পেয়ে পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং অভিযুক্ত পরিচালক আবু ইউসুফকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়।

​স্থানীয়দের অভিযোগ, এর আগেও আবু ইউসুফের বিরুদ্ধে ছাত্রীদের সঙ্গে অসদাচরণের কিছু মৌখিক অভিযোগ উঠেছিল, যা সে সময় স্থানীয়ভাবে ধামাচাপা দেওয়া হয়েছিল।

​এ ঘটনায় ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর চাচা শফিকুল ইসলাম বাদী হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে পাবনা সদর থানায় মামলা করেছেন।

​এ বিষয়ে জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) আবু আশ্রাফ বলেন, মাদ্রাসার পরিচালক আবু ইউসুফকে রাতেই আটক করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা রুজু করা হয়েছে। এলাকায় বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে এবং অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *