লোকসংগীত শিল্পী, সুরকার ও সংগীত পরিচালক মুজিব পরদেশীকে এবার চার লাখ ৪০ হাজার টাকা চেক প্রতারণার মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত। আজ মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) ঢাকার যুগ্ম মহানগর দায়রা জজ- ৫ম এর বিচারক মো. সাদিক আহম্মেদ এই আদেশ দেন।
আদালতের বেঞ্চ সহকারী (পেশকার) শাহ আলম মিয়া বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, ২০০৭ সালের ২১ নভেম্বর আসামি মুজিব পরদেশীকে এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং আট লাখ ৮০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড করা হয়। এর মধ্যে বাদী পাবেন পাঁচ লাখ টাকা এবং অবশিষ্ট তিন লাখ ৮০ হাজার টাকা যাবে রাষ্ট্রীয় কোষাগারে।
নথি থেকে জানা গেছে, ২০০৩ সালে মামলার বাদী মজিবুর রহমানের ছোট ভাই মো. সোলায়মান সরদারকে ইংল্যান্ডে নিয়ে যাওয়ার কথা বলে মুজিব পরদেশী চার লাখ ৪০ হাজার টাকা নেন। এর মধ্যে ব্যাংকের মাধ্যমে দুই লাখ ২০ হাজার এবং নগদে আরও দুই লাখ ২০ হাজার টাকা গ্রহণ করা হয়। পরবর্তী সময়ে সোলায়মানকে ইংল্যান্ডে নিয়ে যেতে ব্যর্থ হলে বাদী টাকা ফেরত চান। তখন মুজিব পরদেশী দুই লাখ ২০ হাজার টাকা করে দুটি চেক দেন। কিন্তু চেক দুটি ব্যাংকে জমা দিলে ‘ফান্ড অপর্যাপ্ত’ উল্লেখ করে তা একাধিকবার ডিজঅনার হয়। এ ঘটনায় বাদী একাধিকবার লিগ্যাল নোটিশ পাঠায়। লিগ্যাল নোটিশের পরেও টাকা না দেওয়ায় ২০০৪ সালের ১ জুন মামলা মামলা করেন মজিবুর রহমান।
নথি থেকে আরও জানা যায়, মুজিব পরদেশী তার সংগীতশিল্পী হিসেবে পরিচিতিকে কাজে লাগিয়ে বিদেশে নেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে আরও কয়েকজনের কাছ থেকে টাকা নিয়েছেন।
এর আগে গত ৪ আগস্ট মাগুরার আরেকটি চেক প্রতারণার মামলায় মুজিব পরদেশীকে কারাগারে পাঠানো হয়।
প্রখ্যাত শিল্পী মুজিবুর রহমান মোল্লা থেকে মুজিব পরদেশী হয়ে উঠেন ১৯৮৬ সালে। সে সময় গীতিকার হাসান মতিউর রহমান একজন শিল্পী খুঁজছিলেন, যিনি পঙ্কজ উদাসের মতো হারমোনিয়াম বাজিয়ে গজল গাইতে পারেন। তখন মুজিব পরদেশী শৌখিন শিল্পী হিসেবে বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে ঘুরে গান করতেন। হাসান মতিউর রহমান মুজিবুরকে ক্যাসেট বের করার প্রস্তাব দেন। প্রস্তাবে সাড়া দিয়ে মুজিবুর রহমান মোল্লা একটি অডিও ক্যাসেট বের করতে আসেন। তখন হাসান মতিউর রহমান মুজিবুর রহমান মোল্লা নামটির বদলে রাখলেন মুজিব, সাথে যোগ করলেন ‘পরদেশী’ শব্দটা। এভাবে হাসান মতিউর রহমানের হাতে জন্ম নেয় একজন নতুন শিল্পী ‘মুজিব পরদেশী’।
১৯৮৬ সালের ২৮ ডিসেম্বর মাত্র পৌনে ২ ঘণ্টায় ১১টা গান রেকর্ডও করে ফেললেন; যা পরে হয়ে যায় এক ইতিহাস। অ্যালবামটি বিক্রি হয়েছিল ৬০ লাখ কপি (মূল কোম্পানির)। আর নকল করে আরও প্রায় ২৫ থেকে ৩০ লাখ কপি। যেটি অডিও শিল্পের সর্বাধিক বিক্রিত ক্যাসেটের রেকর্ড।
মুজিব পরদেশীর আরও কয়েকটি বিখ্যাত গান হলো, ‘কলমে নাই কালি’, ‘তোমায় আমি হলেম অচেনা’, ‘আমার সাদা দিলে কাদা লাগাই গেলি রে বন্ধুয়া’, ‘আমি যার লাগি হইলাম অনুরাগী গো প্রাণসজনী’, ‘আমার জনম গেলো কাঁদিতে’, ‘আমারে নি পড়ে তোমার মনে’ এবং ‘আমার সোনা বন্ধু রে’।