চামড়াশিল্পকে ঘুরে দাঁড়াতে সহযোগিতা করবে সরকার : বাণিজ্যমন্ত্রী

ঝরে যাওয়া ও দুর্দশাগ্রস্ত চামড়াশিল্প কারখানাগুলোকে ঘুরে দাঁড়াতে সরকার সহযোগিতা করবে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী খন্দকার মুক্তাদির। আজ শুক্রবার (২৯ মে) দুপুরে বিভিন্ন কারখানা কেন্দ্রীয় বর্জ্য শোধনাগার পরিদর্শন করে তিনি এ মন্তব্য করেন।

এ দিকে ঈদের দ্বিতীয় দিনেও সরগরম সাভারের চামড়া শিল্পনগরী। বিকেল ৫টা পর্যন্ত এক হাজার ৬১৬টি ট্রাকে রাজধানী আশপাশের এলাকা ছাড়াও দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে চামড়া শিল্পনগরীতে এসেছে পাঁচ লাখ দুই হাজার ৭৯৬টি চামড়া। এর মধ্যে ৪৮ লাখ ৮৬ হাজার ৬৮৯টি গরু ও মহিষের চামড়া। অবশিষ্ট ১৬ হাজার ১০৭টি ছাগল ও ভেড়ার চামড়া।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বিসিক চামড়াশিল্প নগরীর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মেহরাজুল মাঈয়ান। এদিকে সাভার চামড়া শিল্পনগরীর পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে এসে আজ দুপুরে বিভিন্ন কারখানা ছাড়াও কেন্দ্রীয় বর্জ্য শোধনাগার পরিদর্শন করেন বাণিজ্যমন্ত্রী।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, রাজধানীর হাজারীবাগ থেকে সাভারে ট্যানারি কারখানাগুলো স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত ঠিক ছিল। কারণ সেখানে বর্জ্য পরিশোধনাগার ছিল না। তবে স্থানান্তর প্রক্রিয়াটা যেভাবে হয়েছে সেটা ছিল পুরোপুরি অব্যবস্থাপনামূলক। যে কারণে মাঝপথে অনেক শিল্পপ্রতিষ্ঠান হারিয়ে গেছে। ঝরে যাওয়া শিল্পপ্রতিষ্ঠান ছাড়াও ঋণে দুর্দশাগ্রস্ত চামড়াশিল্প প্রতিষ্ঠানগুলোকে কীভাবে ঘুরে দাঁড় করানো যায় সে বিষয়ে সরকার কাজ করছে। 

মন্ত্রী আরও বলেন, কেন্দ্রীয় বর্জ্য শোধনাগারের কার্যক্রমে ইতালিকে সম্পৃক্ত করার পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার।

এ খাতের দূষণ রোধ করতে ও আন্তর্জাতিক মান বজায় রাখতে সরকার সক্রিয় রয়েছে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, ট্যানারিগুলোর তরল বর্জ্য শোধনের জন্য স্থাপিত সিইটিপির দৈনিক শোধন ক্ষমতা প্রায় ২৫ হাজার ঘনমিটার, যা পিকের সময়ে উৎপাদিত ৪০ থেকে ৫০ হাজার ঘনমিটার বর্জ্যের তুলনায় অত্যন্ত নগন্য।

এ সময় ধলেশ্বরীর মারাত্মক পরিবেশ দূষণ রোধে কেন্দ্রীয় বর্জ্য শোধনাগারের শোধন মান নিশ্চিত করার নির্দেশ দেন মন্ত্রী।

চামড়া শিল্প এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, রাজধানী ও আশেপাশের এলাকা থেকে আসা কাঁচা চামড়া প্রক্রিয়াজাত করতে কর্মব্যস্ত সাভারের গোটা চামড়া শিল্প নগরী।

কাঁচা চামড়া সংগ্রহের পর লবণ দেওয়া, যথাযথভাবে সংরক্ষণ পরিবহণ ও শ্রমিক ব্যবস্থাপনা ঘিরে চলছে বিরামহীন ব্যস্ততা।

কোরবানির মৌসুমকে ঘিরে ব্যাপক প্রাণচাঞ্চল্যে ভরপুর হয়ে উঠেছে ট্যানারি কারখানাগুলো। কাঁচা চামড়া সংগ্রহ, আনলোড ও লবণজাত করতে ব্যস্ত কর্মীরা
বিসিক চামড়াশিল্প নগরীর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মেহরাজুল মাঈয়ান জানান,  ঈদকে কেন্দ্র করে যাবতীয় ব্যবস্থাপনা মসৃণ করতে বিসিক, জেলা ও স্থানীয় প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীসহ মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো যৌথভাবে কাজ করছে। কাঁচা চামড়া বোঝাই গাড়িগুলো যেন নির্বিঘ্নে শিল্প নগরীতে প্রবেশ করতে পারে, সেটা নিশ্চিত করতে অতিরিক্ত স্বেচ্ছাসেবকও নিয়োগ করা হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *