কুমিল্লার দেবিদ্বারে চরবাকর গোমতী গ্যাস ফিল্ডে সশস্ত্র হানা দিয়ে নৈশপ্রহরীদের হাত-পা বেঁধে মারধর করে দুর্ধর্ষ ডাকাতির ঘটনায় জড়িত ৫ জন আন্তঃজেলা ডাকাতকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ সময় ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত একটি সিলভার রঙের জি করোলা প্রাইভেটকার জব্দ করা হয়।
সোমবার (২৬ অক্টোবর) দুপুরে বিজ্ঞ আদালতের মাধ্যমে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এই চক্রের পলাতক বাকি সদস্যদের আইনের আওতায় আনতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
রোববার রাতে চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড, আকবরশাহ ও পাহাড়তলী থানাধীন বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন—মো. নুরুন্নবী (৪৭), মহিউদ্দিন (৪০), মো. জসীম (৪১), রুবেল মজুমদার (৩২) এবং সাজ্জাদ হোসেন (২৭)।
পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ৭ অক্টোবর দিবাগত রাত আড়াইটা থেকে সাড়ে তিনটার মধ্যে ৯-১০ জনের একদল সশস্ত্র ডাকাত দেবিদ্বারের চরবাকর গোমতী গ্যাস ফিল্ডের প্রধান ফটক টপকে ভেতরে প্রবেশ করে। এ সময় রাত্রীকালীন পাহারায় থাকা নাইট গার্ডদের ওপর চড়াও হয়ে তাদের বেধড়ক মারধর করা হয়। পরে তাদের হাত-পা এবং পরনের শার্ট দিয়ে মুখ ও চোখ বেঁধে গেটের গার্ড রুমে ফেলে রাখা হয়।
ডাকাত দল গ্যাস ফিল্ডের ভেতর থেকে বিপুল পরিমাণ বৈদ্যুতিক তার (হাফ ড্রাম), একটি পানির পাম্পসহ নগদ টাকা ও মূল্যবান মালামাল লুট করে। এ সময় বাধা দিতে গেলে নাইট গার্ড মো. মোহর আলীসহ (৬০) কয়েকজন প্রলীকে লোহার রড ও দেশীয় অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি পিটিয়ে গুরুতর আহত করা হয়। পরে আশঙ্কাজনক অবস্থায় মোহর আলীকে উদ্ধার করে কুমিল্লা সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) ভর্তি করা হয়। লুটকৃত মালামাল একটি ট্রাকে তুলে পালিয়ে যায় ডাকাত দল।
এ ঘটনায় বাঙ্গুরা গ্যাস ফিল্ডের (তালু বাংলাদেশ) পাবলিক রিলেশন অফিসার মো. এনায়েত ই মওলা খান বাদী হয়ে দেবিদ্বার থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা (আইও) বাঁধন চন্দ্র দাস জানান, তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় চট্টগ্রাম থেকে গ্রেপ্তারকৃত আসামিরা প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে চাঞ্চল্যকর এই ডাকাতির সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। বিশেষ করে প্রধান আসামি মো. নুরুন্নবীর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই অপরাধে ব্যবহৃত একটি সিলভার রঙের জি করোলা প্রাইভেটকার (রেজি: নম্বর: ১১-৭৪৭৩) জব্দ করা হয়েছে।
এ বিষয়ে দেবিদ্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুজ্জামান বলেন, গ্যাস ফিল্ডে সংঘটিত চাঞ্চল্যকর ডাকাতির মামলা রুজুর পর পুলিশ অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে ছায়া তদন্ত শুরু করে। এরই ধারাবাহিকতায় প্রযুক্তির সহায়তায় ৫ আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।