দুর্নীতি প্রতিরোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধি ও সেবা গ্রহীতাদের সরাসরি অভিযোগ শুনতে গাইবান্ধায় অনুষ্ঠিত হয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) ১৯৩তম গণশুনানি। আজ সোমবার (১১ মে) গাইবান্ধা জেলা ইনডোর স্টেডিয়ামে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
গণশুনানিতে ভূমি অফিস, সাব-রেজিস্ট্রি অফিস, স্বাস্থ্য বিভাগ, শিক্ষা ও পাসপোর্ট অফিসসহ মোট ১৭টি সরকারি দপ্তরের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষ তাদের হয়রানি, ঘুষ দাবি ও দীর্ঘসূত্রিতার চিত্র তুলে ধরেন। এদিন ৪৩টি লিখিত ও মৌখিক অভিযোগ সরাসরি উত্থাপন করা হয়। অভিযোগকারীরা জানান, সরকারি সেবা পেতে গিয়ে তারা কীভাবে পদে পদে বাধা ও অনিয়মের শিকার হচ্ছেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে দুদক সচিব মো. খালেদ রাহিম বলেন, দুর্নীতি দমনে কমিশন ‘জিরো টলারেন্স’ নীতিতে কাজ করছে। জনগণের দোরগোড়ায় দুদককে পৌঁছে দেওয়ার একটি কার্যকর মাধ্যম হলো এই গণশুনানি। আজকে যেসব অভিযোগ উত্থাপিত হয়েছে, সেগুলো আমলে নিয়ে আগামী ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
দুদকের প্রধান কার্যালয়ের মহাপরিচালক মো. মোতাহার হোসেন বলেন, অনুসন্ধান ও তদন্তের পাশাপাশি বর্তমানে প্রতিরোধমূলক কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। সেবা প্রদানকারী কর্মকর্তাদের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে সবাইকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে আরও উপস্থিত ছিলেন প্রতিরোধ শাখার প্রধান আক্তার হোসেন।
সভাপতির বক্তব্যে গাইবান্ধার জেলা প্রশাসক মো. মাসুদুর রহমান মোল্লা জানান, জেলা প্রশাসন দুর্নীতির বিরুদ্ধে দুদকের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করছে। গণশুনানিতে প্রাপ্ত অভিযোগের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট দপ্তর প্রধানদের কারণ দর্শানোর (শো-কজ) নোটিশ দেওয়া হবে।
অনুষ্ঠানে দুদকের রংপুর বিভাগীয় পরিচালক, গাইবান্ধা সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের উপ-পরিচালকসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, সাংবাদিক ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। তিন শতাধিক সেবা গ্রহীতার উপস্থিতিতে বেশ কিছু অভিযোগের তাৎক্ষণিক সমাধান দেওয়া হয় এবং বাকিগুলো অধিকতর তদন্তের জন্য গ্রহণ করা হয়।
উল্লেখ্য, সেবার মান বাড়াতে এবং দুর্নীতি প্রতিরোধে দুদক দেশব্যাপী নিয়মিত এ ধরনের জেলাভিত্তিক গণশুনানির আয়োজন করে আসছে।