খামেনির প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত, তেহরানে দুই কোটির সমাগমের দাবি

ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি ও তাঁর পরিবারের চার সদস্যের প্রথম জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়েছে। জানাজা শেষে খামেনির কফিন তেহরানের ইমাম খোমেনি গ্র্যান্ড মোসাল্লার ভেতরে নেওয়া হয়।

রোববার (৫ জুলাই) বাংলাদেশ সময় সকাল সাড়ে ১০টায় গ্র্যান্ড মোসাল্লায় জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। এতে ইমামতি করেন আয়াতুল্লাহ জাফর সোবহানি। ইরানি কর্তৃপক্ষের দাবি, জানাজায় প্রায় দুই কোটি মানুষ অংশ নিয়েছেন।

ইরানের আধা-সরকারি সংবাদমাধ্যম তাসনিম নিউজ জানায়, শনিবার থেকেই ইমাম খোমেনি গ্র্যান্ড মোসাল্লায় সর্বসাধারণের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য খামেনির মরদেহ রাখা হয়েছিল। জানাজার নামাজ শুরুর কয়েক ঘণ্টা আগেই মোসাল্লার প্রধান চত্বর কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায়।

শনিবারও খামেনিকে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে লাখো মানুষ মোসাল্লায় সমবেত হন। কালো পোশাক পরা শোকাহতদের অনেকেই বুকে আঘাত করে শোক প্রকাশ করেন এবং ‘আমেরিকার মৃত্যু হোক’ ও ‘প্রতিশোধ’ স্লোগান দেন। খামেনির কফিনের পাশে তাঁর পরিবারের আরও চার সদস্যের কফিন রাখা হয়।

ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান বলেন, জনগণের বিপুল উপস্থিতি খামেনির প্রতি ইরানিদের ভালোবাসা ও শ্রদ্ধার বহিঃপ্রকাশ। একই সঙ্গে তিনি ইসরায়েলকে মধ্যপ্রাচ্যে অস্থিতিশীলতার জন্য দায়ী করে বলেন, মুসলিমরা নিপীড়ন ও আগ্রাসনের কাছে আত্মসমর্পণ করবে না।

রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের তথ্যমতে, অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায় হামাস, হিজবুল্লাহ, ফিলিস্তিনি ইসলামিক জিহাদ এবং ইয়েমেনের হুথি আন্দোলনের প্রতিনিধিরাও অংশ নিয়েছেন।

সূচি অনুযায়ী, সোমবার (৬ জুলাই) তেহরানে এবং মঙ্গলবার (৭ জুলাই) পবিত্র শহর কোমে শোক শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত হবে। এরপর খামেনির মরদেহ ইরাকের নজফ ও কারবালায় নেওয়া হবে। সব আনুষ্ঠানিকতা শেষে বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) ইরানের মাশহাদে তাঁকে দাফন করা হবে।

অন্ত্যেষ্টিক্রিয়াকে কেন্দ্র করে তেহরানজুড়ে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি তীব্র গরমে অংশগ্রহণকারীদের স্বস্তি দিতে বিভিন্ন স্থানে শীতল পানির কুয়াশা ছিটানোর ব্যবস্থাও করা হয়েছে।

ফেব্রুয়ারির ২৮ তারিখে ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার মাধ্যমে যুদ্ধ শুরুর প্রথম দিনেই নিহত হয়েছিলেন ইরানের সবোর্চ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি।

শিয়া ধর্মীয় নেতা জাফর সোবহানি জানাজার নামাজে নেতৃত্ব দেন। গতকালই জানিয়ে দেয়া হয়েছিল যে মুজতবা খামেনি পিতার জানাজা পড়াবেন না।

বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, এই জানাজা উপলক্ষে শুক্রবার থেকেই তেহরান মসজিদে কড়া নিরাপত্তা জারি করা হয়।

ইরানের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় শহর মাশহাদের একটি ধর্মীয় পরিবারে ১৯৩৯ সালের ১৯শে এপ্রিল জন্ম হয়েছিল আলী খামেনির। আট ভাই-বোনের মধ্যে তিনি ছিলেন দ্বিতীয়।

তার বাবা সৈয়দ জওয়াদ খামেনি ছিলেন স্থানীয়ভাবে সুপরিচিত একজন শিয়া পণ্ডিত। মা খাদিজে মির্দামাদীও একজন ধার্মিক নারী ছিলেন।

এসএন/পিডিকে

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *