ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ আলী খামেনির শোক অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে যেকোনো ধরনের হামলা বা আগ্রাসনের বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছে দেশটির এলিট ফোর্স ‘ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর্পস’ (আইআরজিসি)। স্থানীয় সময় শুক্রবার (৩ জুলাই) আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে বাহিনীটি সাফ জানিয়ে দিয়েছে, এই মুহূর্তে ইরানকে নিশানা করার যেকোনো চেষ্টা চালানো হলে তার চড়া মূল্য দিতে হবে। খবর সিএনএনের।
আইআরজিসি বিবৃতিতে জানায়, শত্রুপক্ষের যেকোনো ভুল হিসাব-নিকাশের জবাব দেওয়া হবে এমন এক নিষ্পত্তিমূলক ও স্মরণকালের সবচেয়ে ভয়াবহ ক্রাশিং রেসপন্সের মাধ্যমে, যা তাদের লজ্জাজনক ইতিহাসে চিরকাল লিপিবদ্ধ থাকবে।
আইআরজিসির এই হুঁশিয়ারি মূলত ইসরায়েলি প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজের বিতর্কিত মন্তব্যের পর এলো। গত সোমবার ইসরায়েলি সংবাদ সংস্থা ‘ওয়াইনেটের’ বরাতে জানা যায়, প্রতিরক্ষামন্ত্রী কাটজ হুমকি দিয়ে বলেছেন, ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি এখন ইসরায়েলের ‘হিট লিস্ট’ বা মৃত্যু তালিকায় রয়েছেন।
যেহেতু আয়াতুল্লাহ খামেনির শোক অনুষ্ঠানে লাখ লাখ ইরানি নাগরিকের পাশাপাশি বহু বিদেশি রাষ্ট্রপ্রধান ও উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি অংশ নিচ্ছেন, তাই এই বিশাল জনসমাবেশকে কেন্দ্র করে সম্ভাব্য যেকোনো বিমান বা স্থল হামলা প্রতিহত করতে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রয়েছে ইসলামি প্রজাতন্ত্রটি। জনসমক্ষে আসা ইরানি শীর্ষ কর্মকর্তাদের ওপর ড্রোন হামলা বা গুপ্তহত্যার ঝুঁকি থাকায় তেহরানের রাস্তায় রাস্তায় নিরাপত্তা বাহিনীর টহল ও নজরদারি ব্যাপক হারে বাড়ানো হয়েছে। এছাড়া নিরাপত্তার স্বার্থে আগামী সোমবার তেহরানের আকাশসীমা সম্পূর্ণ বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছে ইরান সরকার।
ইসরায়েলের সামরিক গোয়েন্দা সংস্থার ইরান শাখার সাবেক প্রধান ড্যানি সিট্রিনোভিচ মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনকে জানিয়েছেন, ইরানিরা আকাশপথ এবং স্থলপথ- উভয় দিক থেকেই সম্ভাব্য হুমকির কথা মাথায় রাখছে। তারা কোনো ধরনের ঝুঁকি নিতে রাজি নয়। সে কারণেই সবকিছুকে কঠোর নিরাপত্তার চাদরে ঢেকে ফেলা হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মনে বড় প্রশ্ন ছিল, যুদ্ধ শুরুর প্রথম দিনে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলি হামলায় বাবা ও পরিবারের সদস্যরা নিহত হওয়ার পর এই শোক অনুষ্ঠানেই নতুন নেতা মোজতবা খামেনি প্রথমবারের মতো জনসমক্ষে আসেন কি না।
বিশেষজ্ঞরা মনে করাচ্ছেন, ইরানের জন্য হুমকি কেবল যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েলের মতো বাহ্যিক শক্তিগুলোই নয়; দেশের অভ্যন্তরে থাকা কুর্দি যোদ্ধা, আরব ও বেলুচ বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীগুলোর পাশাপাশি নির্বাসিত দল ‘মুজাহাদিন-ই খালকের’ পক্ষ থেকেও তেহরান বড় ধরনের অন্তর্ঘাতমূলক হামলার আশঙ্কা করছে। তবে সিট্রিনোভিচ যোগ করেন, সমস্ত ঝুঁকি জানা সত্ত্বেও আইআরজিসি প্রধান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আহমাদ ভাহিদিসহ একাধিক শীর্ষ কর্মকর্তার প্রকাশ্যে আসার ঘটনাটি প্রমাণ করে, নিজেদের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ব্যবস্থার ওপর তেহরানের যথেষ্ট আস্থা রয়েছে।
ইরান আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি আইআরজিসি
sn/sks