মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং কৃষি মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ বলেছেন, আমাদের সরকার কৃষি কার্ড চালু করার উদ্যোগ নিয়েছে। এই কার্ড চালু হলে আপনি কতটুকু জমিতে আলু রোপণ করেছেন তা সরকারের রেকর্ডে থাকবে। আপনার কী পরিমাণ সারের প্রয়োজন সেটিও সরকারের রিপোর্টে উল্লেখ থাকবে। সেই অনুযায়ী আলু তোলার আগেই সরকার একটি পরিকল্পনা তৈরি করে ফেলতে পারবে। এতে কিছুটা সময় লাগবে তবে এই কার্ডের মাধ্যমেই কৃষকের সব সমস্যার সমাধান সম্ভব হবে।
আজ বুধবার (২৬ আগস্ট) দুপুরে মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ায় উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর ও ভেটেরিনারি হাসপাতাল কর্তৃক আয়োজিত মানিকগঞ্জ, ঢাকা, মুন্সীগঞ্জ, রাজবাড়ী, ফরিদপুর, মাদারীপুর ও শরীয়তপুর জেলার নদীবিধৌত চরাঞ্চলের সমন্বিত প্রাণিসম্পদ উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় দুই দিনব্যাপী প্রশিক্ষণের সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এ কথা বলেন।
কৃষিমন্ত্রী বলেন, ‘এ দেশের ৭৫ ভাগ মানুষ কৃষির সঙ্গে জড়িত। এই ৭৫ ভাগ মানুষের অর্থনীতি যদি শক্তিশালী হয় তবে অবশ্যই দেশের অর্থনীতিও শক্তিশালী হবে। এই সরকারের প্রধান লক্ষ্য কৃষক যেন তার উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্যমূল্য পায়।’
প্রকল্প পরিচালক ড. আবদুর রহিম বলেন, ‘৭টি জেলার ৩১টি উপজেলার ৬৩৩টি চরাঞ্চলের মানুষের জীবনমান উন্নয়নে ২০২৩ সালে ৩০৪ কোটি টাকা ব্যয়ে সরকার এই প্রকল্পটি চালু করে। এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে প্রায় ৬৫ হাজার পরিবার সরাসরি সুফল পাবে। এ পর্যন্ত প্রকল্পের ২০ শতাংশ অগ্রগতি হয়েছে। নদীভাঙনকবলিত অঞ্চলের মানুষ ভিটেমাটি ও সম্পদ হারিয়ে যাতে শহরমুখী না হয়ে যায়। তারা যেন চরাঞ্চলে থেকেই পশুপালন, মাছ চাষ ও কৃষিকাজ করে স্বাবলম্বী হতে পারে—আমরা সেই ব্যবস্থা করছি।’
জেলা প্রশাসক সৈয়দা নুরমহল আশরাফীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মুন্সীগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য কামরুজ্জামান রতন, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. দেলোয়ার হোসেন, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. শাহজামান খান, মৎস্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মো. খালেদ কনক, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক গোলাম মোস্তফা খান।
এ সময় মুন্সীগঞ্জ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য রফিকুল ইসলাম ভিপি মাসুম, ইসহাক আলী, মাসুদ ফারুক, অধ্যাপক এ কে এম গিয়াস উদ্দিন, গজারিয়া উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক সৈয়দ সিদ্দিক উল্লাহ ফরিদ, ভবেরচর ইউনিয়ন বিএনপির সদস্য সচিব নুরুল আমিন সরকার, গজারিয়া উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব নাজির আহমেদ সিকদারসহ স্থানীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
সমাপনী অনুষ্ঠান শেষে সুফলভোগী খামারিদের মধ্যে ২৫টি বকনা বাছুর ও প্রতিজনকে ৫০ কেজি করে গোখাদ্য দেওয়া হয়। পরে অন্য একটি প্রকল্পের আওতায় উপকারভোগীদের মধ্যে বিভিন্ন প্রজাতির গাছের চারা বিতরণ করেন মন্ত্রী। এরপর মাথাভাঙ্গা খালে বিভিন্ন প্রজাতির মাছের পোনা অবমুক্ত করা হয়।