কক্সবাজারের উখিয়ায় ইনানী সৈকতসংলগ্ন মেরিন ড্রাইভের ‘টুপটুপ রেস্টো অ্যান্ড রিসোর্টে’ ঘটে যাওয়া ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ১০ জন পর্যটকের মৃত্যু হয়েছে। আজ শনিবার (১৭ অক্টোবর) সকালে ঘটে যাওয়া এই বিয়োগান্তক ঘটনার পর কাঠের তৈরি ওই রিসোর্টটির অনুমোদন ও চরম ঝুঁকিপূর্ণ অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে তীব্র সমালোচনা ও নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
অগ্নিঝড় থেকে অলৌকিকভাবে প্রাণ বেঁচে ফিরেছেন এক চিকিৎসক দম্পতি। ভোরের দিকে কালো ধোঁয়ায় রুম আচ্ছন্ন হয়ে গেলে জীবন বাঁচাতে রিসোর্টের বারান্দা থেকে নিচে লাফ দেন ডা. শাহাবুদ্দিন ও ডা. নাফিসা নাওয়ার খান। নিচে টিনের চাল ভেঙে মাটিতে পড়ে আঘাত পেলেও বেঁচে যান তারা।
স্থানীয় সূত্র ও ফায়ার সার্ভিস জানায়, আজ সকালে বাঁশ ও কাঠ দিয়ে পরিবেশবান্ধব নকশায় তৈরি রিসোর্টটিতে হঠাৎ আগুনের সূত্রপাত হয়। মুহূর্তের মধ্যেই শুকনো কাঠের কাঠামো পেরিয়ে লেলিহান শিখা পুরো রিসোর্টে ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের একাধিক ইউনিট ও স্থানীয়রা উদ্ধার তৎপরতা শুরু করলেও আগুন ও বিষাক্ত ধোঁয়ায় শ্বাসরোধ হয়ে ও পুড়ে ঘটনাস্থলেই ১০ জন পর্যটক মারা যান। নিহতদের মধ্যে একই পরিবারের নারী ও শিশুসহ একাধিক স্বজন রয়েছেন।
ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে জানা গেছে, পর্যাপ্ত ফায়ার এক্সটিংগুইশার, জরুরি বহির্গমন পথ কিংবা আধুনিক অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থার কোনো কিছুই সেখানে ছিল না। অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়ে জেলা প্রশাসন ও পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল ও কক্সবাজার সদর হাসপাতাল পরিদর্শন করেছেন।
দুর্ঘটনার মূল কারণ অনুসন্ধান ও দায়ীদের চিহ্নিত করতে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে প্রধান করে ৫ সদস্যের একটি শক্তিশালী তদন্ত কমিটি গঠন করেছে জেলা প্রশাসন।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মেরিন ড্রাইভ জুড়ে গড়ে ওঠা অনুমোদনহীন ও ঝুঁকিপূর্ণ কাঠের রিসোর্টগুলোর বিরুদ্ধে দ্রুত মোবাইল কোর্ট ও অভিযান চালানো হবে।
ইনানী ও মেরিন ড্রাইভ এলাকায় সম্প্রতি নিরাপত্তা বিধি না মেনে গড়ে ওঠা দৃষ্টিনন্দন কাঠের রিসোর্টগুলোর ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন পর্যটন সংশ্লিষ্টরা। কার্যকর তদারকি ও নিয়মিত ফায়ার অডিট না হলে ভবিষ্যতে এমন মর্মান্তিক দুর্ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটবে বলে মনে করছেন সচেতন মহল।