মানিকগঞ্জে ভূমি নিবন্ধন ফি এ-চালানে সরাসরি সরকারি কোষাগারে জমা দিয়ে দীর্ঘদিনের পে-অর্ডারনির্ভর ব্যবস্থার অবসান ঘটতে যাচ্ছে। এখন থেকে দলিল নিবন্ধনের ফি ও করাদি ব্যাংকের পে-অর্ডারে জমা রেখে সরকারি কোষাগারে পাঠানোর অপেক্ষা করতে হবে না, এ-চালানের মাধ্যমে সরাসরি ও রিয়েল টাইমে সরকারি কোষাগারে জমা হবে।
মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) বিকেলে এই আধুনিক রাজস্ব ব্যবস্থাপনার পাইলটিং কার্যক্রম শুরু হয়েছে মানিকগঞ্জ সদর সাব-রেজিস্ট্রার অফিসে। অনলাইন জুম প্ল্যাটফর্মে যুক্ত হয়ে এ কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন নিবন্ধন অধিদপ্তরের আইজিআর শামীমা আফরোজ।
এত দিন ভূমি নিবন্ধন ফি ও করাদি সোনালী ব্যাংকের পে-অর্ডারের মাধ্যমে ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে জমা দেওয়া হতো। ফলে রাজস্বের অর্থ ব্যাংকে পড়ে থাকত এবং সরকারি কোষাগারে পৌঁছাতে সময় লাগত। নতুন এ-চালান ব্যবস্থায় সেই দীর্ঘসূত্রতার অবসান ঘটিয়ে অর্থ সরাসরি সরকারি কোষাগারে জমা হবে।
উদ্বোধনী বক্তব্যে আইজিআর শামীমা আফরোজ বলেন, ভূমি নিবন্ধন ফি ও অন্যান্য করাদি এ-চালানের মাধ্যমে রিয়েল টাইমে সরকারি কোষাগারে জমার মধ্য দিয়ে নিবন্ধন অধিদপ্তরের নতুন অধ্যায়ের সূচনা হলো। এর ফলে ভূমি নিবন্ধনের বিপুল অঙ্কের রাজস্ব আর সরকারি কোষাগারের বাইরে পড়ে থাকবে না। পাশাপাশি নাগরিকদের জন্য ভূমি নিবন্ধন প্রক্রিয়াও আরও দ্রুত ও সহজ হবে।
অনুষ্ঠানে অর্থ বিভাগের বিএসিএস ও আইবাস প্লাস প্লাস স্কিমের এ-চালান সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা সরাসরি অংশ নেন।
এ-চালান টিমের সিনিয়র ফাংশনাল পরামর্শক এ কে এম মুখলেছুর রহমান সূচনা বক্তব্যে এ-চালান ব্যবস্থার লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য তুলে ধরেন।
আইবাস প্লাস প্লাসের পিইসি মোহাম্মদ আনিসুজ্জামান সরকারি রাজস্ব অন-ডেটে কোষাগারে জমার একক প্ল্যাটফর্ম হিসেবে এ-চালানের গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, ভূমি নিবন্ধন অধিদপ্তরকে এ ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত করা নিবন্ধন ব্যবস্থার অটোমেশনে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি। তার ভাষায়, এ কার্যক্রমের মাধ্যমে মানিকগঞ্জ সদর সাব-রেজিস্ট্রার অফিস একটি নতুন পরিবর্তনের সাক্ষী হয়ে থাকল।
সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, মানিকগঞ্জ সদর সাব-রেজিস্ট্রার অফিসে পাইলটিং সফল হলে দ্রুত সারা দেশের সাব-রেজিস্ট্রার অফিসগুলোতে এ-চালান ব্যবস্থার মাধ্যমে ভূমি নিবন্ধন ফি ও করাদি জমা নেওয়া হবে। এতে দীর্ঘদিনের ম্যানুয়াল রাজস্ব ব্যবস্থাপনা থেকে বেরিয়ে ডিজিটাল ও রিয়েল টাইম রাজস্ব ব্যবস্থাপনায় প্রবেশ করবে ভূমি নিবন্ধন খাত।
জেলা সাব-রেজিস্ট্রার মো. জাহিদ হোসেনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে ভূমি নিবন্ধন অধিদপ্তরের এআইজিআর (অর্থ) মহসীন আলম, ভূমি নিবন্ধন ব্যবস্থাপনা অটোমেশন প্রকল্পের উপপ্রকল্প পরিচালক মুনিরুল হাসান ও সহকারী প্রকল্প পরিচালক মো. জুবায়ের হোসেন উপস্থিত ছিলেন।
কর্মকর্তারা জানান, এ-চালান সিস্টেমের সঙ্গে ভূমি নিবন্ধন ব্যবস্থাপনা সিস্টেমের পূর্ণাঙ্গ আন্তসংযোগ সম্পন্ন হলে নিবন্ধন ফি জমার প্রক্রিয়া আরও দ্রুত, নির্ভুল ও স্বয়ংক্রিয় হবে। এতে নাগরিক হয়রানি কমার পাশাপাশি সরকারি রাজস্ব আদায়ে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি বাড়বে।
পাইলটিংয়ের প্রথম দিনেই নতুন ব্যবস্থার কার্যকারিতা যাচাই করা হয়। অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে সোনালী ও রূপালী ব্যাংকের ইউজারদের উপস্থিতিতে দুটি দলিলের নিবন্ধন ফি এ-চালানের মাধ্যমে জমা দিয়ে রাজস্ব আদায়ের কার্যক্রম সফলভাবে সম্পন্ন করা হয়।
এর ফলে ভূমি নিবন্ধনের রাজস্ব ব্যবস্থাপনায় পে-অর্ডারনির্ভর পুরোনো পদ্ধতি পেরিয়ে সরাসরি সরকারি কোষাগারে রিয়েল টাইমে অর্থ জমার নতুন যুগের সূচনা হলো মানিকগঞ্জ থেকে।