এবার সারাকে মধুবালা বানাচ্ছেন বানসালি

‘ধুরন্ধর’ সিনেমায় ইয়ালিনা চরিত্রে অভিনয় করে নতুন করে আলোচনায় এসেছেন সারা অর্জুন। এবার তার ক্যারিয়ারে যোগ হতে যাচ্ছে আরও বড় এক অধ্যায়। কিংবদন্তি অভিনেত্রী মধুবালার চরিত্রে পর্দায় হাজির হতে যাচ্ছেন এই অভিনেত্রী।

শিশুশিল্পী হিসেবে মাত্র ছয় বছর বয়সে তামিল সিনেমা ‘দেবিয়া থিরুমাগাল’-এ অভিনয় করে প্রশংসা পেয়েছিলেন সারা। এরপর তামিল, তেলেগু ও হিন্দি ভাষার বিভিন্ন সিনেমায় কাজ করেছেন তিনি। তবে ‘ধুরন্ধর’-এর সাফল্যের পর বলিউডে তার পরিচিতি আরও বিস্তৃত হয়েছে। এবার মধুবালার মতো ঐতিহাসিক এক চরিত্রে অভিনয়ের সুযোগ তার ক্যারিয়ারে নতুন মাত্রা যোগ করতে যাচ্ছে।

মধুবালার জীবন নিয়ে নির্মিতব্য এই বায়োপিকটি পরিচালনা করবেন ‘ডার্লিংস’খ্যাত নির্মাতা জসমিত কে. রিন। সিনেমাটির প্রযোজনায় থাকছেন সঞ্জয় লীলা বানসালি। ২০২৪ সালের মার্চে মধুবালার বায়োপিক নির্মাণের ঘোষণা আসে। পরে চলতি বছরের এপ্রিল থেকে সারা অর্জুনকে কেন্দ্রীয় চরিত্রে নেওয়ার খবর প্রকাশিত হতে থাকে।

সর্বশেষ প্রতিবেদনে জানা গেছে, ‘লাভ অ্যান্ড ওয়ার’-এর কাজ শেষ করেই মধুবালার বায়োপিকের শুটিংয়ে যাবেন সঞ্জয় লীলা বানসালি। আগামী সেপ্টেম্বর মুম্বাইয়ের গোড়েগাঁওয়ের রয়্যাল পামসে শুটিং শুরুর পরিকল্পনা রয়েছে। বর্তমানে একই জায়গায় ‘লাভ অ্যান্ড ওয়ার’-এর শেষ গানের দৃশ্যের শুটিং চলছে। আগামী সপ্তাহে সেই কাজ শেষ হওয়ার কথা।

মধুবালার চরিত্রে নিজেকে বিশ্বাসযোগ্য করে তুলতে প্রস্তুতিও শুরু করেছেন সারা। মধুবালার ব্যক্তিত্ব, চলন, অঙ্গভঙ্গি এবং তার সময়ের পরিবেশ—সবকিছু পর্দায় ফুটিয়ে তুলতে কাজ করছেন নির্মাতা জসমিত। সারা কেন এই চরিত্রের জন্য উপযুক্ত, তা নিয়ে নির্মাতাদের পাশাপাশি বলিউডেও আগ্রহ তৈরি হয়েছে।

২০০৫ সালের ১৮ জুন জন্ম সারা অর্জুনের। অভিনেতা রাজ অর্জুনের মেয়ে তিনি। মাত্র ১৮ মাস বয়সে বিজ্ঞাপনে কাজ শুরু করেন। পাঁচ বছর বয়সের মধ্যেই শিশুশিল্পী হিসেবে পরিচিতি পান এবং পরবর্তী সময়ে শতাধিক বিজ্ঞাপনে অভিনয় করেন।

অন্যদিকে, মধুবালা ভারতীয় চলচ্চিত্রের ইতিহাসে অন্যতম স্মরণীয় অভিনেত্রী। ‘মুঘল-ই-আজম’-এর আনরকলি চরিত্রসহ প্রায় ৬০টি সিনেমায় অভিনয় করেছেন তিনি। ১৯৬৯ সালে মাত্র ৩৬ বছর বয়সে মারা যান এই কিংবদন্তি অভিনেত্রী। 

সারা অর্জুনের জন্য তাই এই চরিত্র শুধু আরেকটি সিনেমা নয়, বরং ভারতীয় চলচ্চিত্রের এক কিংবদন্তিকে নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরার বড় দায়িত্বও।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *