উত্তর কোরিয়ায় শি জিনপিং,  কিম জন উনের রাষ্ট্রীয় অভ্যর্থনা

চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং দুই দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে উত্তর কোরিয়ার রাজধানী পিয়ংইয়ংয়ে পৌঁছেছেন বলে জানিয়েছে রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম। সোমবার (৮ জুন) সকালে তার আগমনের মধ্য দিয়ে ২০১৯ সালের পর এটি তার প্রথম উত্তর কোরিয়া সফর। দুই দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে উত্তর কোরিয়ার রাজধানী পিয়ংইয়ংয়ে পৌঁছেছেন বলে জানিয়েছে রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম। সোমবার (৮ জুন) সকালে তার আগমনের মধ্য দিয়ে ২০১৯ সালের পর এটি তার প্রথম উত্তর কোরিয়া সফর।

সফরের শুরুতেই তাকে লাল গালিচা সংবর্ধনায় স্বাগত জানান উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন ও তার স্ত্রী রি সোল জু। রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম প্রকাশিত ফুটেজে দেখা যায়, কিম জং উন ও রি সোল জু হাসিমুখে শি জিনপিংকে অভ্যর্থনা জানান। বিমানবন্দর এলাকায় লাল গালিচা বিছানো ছিল এবং উত্তর কোরিয়ার সেনারা দুই পাশে সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে গার্ড অব অনার প্রদান করে।

চীনের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা সিনহুয়া পৃথক প্রতিবেদনে জানায়, শি জিনপিং ও কিম জং উন হাত মিলিয়ে কুশল বিনিময় করেন। এ সময় উত্তর কোরিয়ার শিশুরা শি জিনপিং ও তার স্ত্রী পেং লিইউয়ানকে ফুল উপহার দেয়। তবে এখন পর্যন্ত দুই দেশের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম সফরের বিস্তারিত আলোচ্যসূচি বা শীর্ষ বৈঠকের বিষয়বস্তু প্রকাশ করেনি। ফলে দুই নেতার মধ্যে কোন বিষয়ে আলোচনা হচ্ছে, তা আনুষ্ঠানিকভাবে জানা যায়নি।

এর আগে সফরের প্রাক্কালে উত্তর কোরিয়ার সরকারি সংবাদপত্র রোদং সিনমুনে প্রকাশিত এক প্রবন্ধে শি জিনপিং চীন ও উত্তর কোরিয়ার সম্পর্ককে ‘রক্তে গড়া কমব্যাট ফ্রেন্ডশিপ’ হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, দুই দেশের মধ্যে পার্টি, সরকার ও সামরিক পর্যায়ে ঘনিষ্ঠ আস্থা ও সহযোগিতা সময়ের পরীক্ষায় টিকে আছে এবং আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির পরিবর্তনের মধ্যেও সম্পর্ক আরও শক্তিশালী হয়েছে।

শি জিনপিং আরও বলেন, চীন ও উত্তর কোরিয়া ‘আত্মীয়দের মতো’ নিয়মিত যোগাযোগ বজায় রেখে কাজ করবে এবং ‘নতুন ঐতিহাসিক সূচনাবিন্দু’ থেকে সম্পর্ককে আরও কৌশলগত উচ্চতায় নিয়ে যাবে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই সফর এমন এক সময়ে অনুষ্ঠিত হচ্ছে যখন কোরীয় উপদ্বীপে যুক্তরাষ্ট্র, দক্ষিণ কোরিয়া, উত্তর কোরিয়া এবং চীনের মধ্যে কূটনৈতিক ও নিরাপত্তা পরিস্থিতি জটিল অবস্থায় রয়েছে। চীন দীর্ঘদিন ধরে উত্তর কোরিয়ার অন্যতম প্রধান কৌশলগত সহযোগী হিসেবে ভূমিকা রেখে আসছে।

দক্ষিণ কোরিয়ার কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, তারা আশা করছেন শি জিনপিংয়ের এই সফর পিয়ংইয়ংকে যুক্তরাষ্ট্র ও সিউলের সঙ্গে আলোচনায় ফিরতে কিছুটা উৎসাহিত করতে পারে। তবে অনেক পর্যবেক্ষকের মতে, সেই সম্ভাবনা এখনো সীমিত।

পর্যবেক্ষকদের মতে, লাল গালিচা সংবর্ধনা, সেনা কুচকাওয়াজ এবং দুই দেশের রাষ্ট্রীয় মিডিয়ায় প্রচারিত ‘চিরস্থায়ী বন্ধুত্ব’ বার্তা বেইজিং ও পিয়ংইয়ংয়ের দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত সম্পর্ককে আরও দৃশ্যমানভাবে তুলে ধরছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *