উড়ন্ত বার্সাকে মাটিতে নামালো পিএসজি

পিএসজি এগিয়ে যায়, বার্সেলোনা ঘুরে দাঁড়িয়ে সমতা আনে। আবারও লিড নেয় প্যারিসের দল! আরেকবার ম্যাচে ফেরে কাতালানরা। কিন্তু তৃতীয়বার আর পিএসজিকে আটকে রাখতে পারেনি বার্সেলোনা। বরং শেষ দিকে আরও দুই গোল করে ম্যাচের ভাগ্য নিজেদের করে নেয় বর্তমান ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নরা।

মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) প্যারিসের পার্ক দে প্রিন্সেসে দুই দলের হাইভোল্টেজ লড়াইয়ে শেষ হাসি হেসেছে পিএসজি। ৪-২ গোলের জয়ে বার্সেলোনার দুর্দান্ত ছন্দে ছেদ টেনেছে লুইস এনরিকের দল। সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে টানা ১১ ম্যাচ জেতার পর চলতি মৌসুমে প্রথম পরাজয়ের মুখ দেখল হান্সি ফ্লিকের শিষ্যরা।

ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক মেজাজে ছিল পিএসজি। বার্সেলোনার রক্ষণে ফাঁকফোকর খুঁজে নিয়ে দ্রুতই বিপজ্জনক হয়ে ওঠে স্বাগতিকেরা। খিচা কাভারাস্কেইয়ার শক্তিশালী শট সামলাতে উড়ে যান গোলরক্ষক হোয়ান গার্সিয়া। তার নাগাল এড়িয়ে যাওয়া বলটি অবশ্য গোলপোস্টে লেগে ফিরে আসে।

কিছুক্ষণ পর নিজেদের গুছিয়ে নিয়ে পাল্টা আক্রমণে ওঠে বার্সেলোনা। অ্যান্থনি গর্ডন ও পেদ্রির প্রচেষ্টায় সুযোগ তৈরি হয়। দানি ওলমোর জোরালো শটও অল্পের জন্য লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। তবে প্রথমার্ধে দুই দলই হারায় গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়। পায়ের পেছনের পেশিতে চোট পেয়ে মাঠ ছাড়েন পিএসজির উসমান দেম্বেলে। কিছুক্ষণ পর চোটের কারণে উঠে যেতে হয় বার্সেলোনার ওলমোকেও।

দেম্বেলের বদলি হিসেবে মাঠে নামা ফেরান তোরেস গোল করার দুটি সুযোগ পেয়েও ব্যর্থ হন। দুইবারই তার সামনে বাধা হয়ে দাঁড়ান গার্সিয়া। অন্যদিকে ওলমোর পরিবর্তে নামা ফেরমিন লোপেজও গোলের কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছিলেন। পিএসজি গোলরক্ষক মাতভে সাফোনভকে একা পেয়েও তাকে পরাস্ত করতে পারেননি। তার চিপ শট দক্ষতার সঙ্গে আটকে দেন সাফোনভ।

ম্যাচের প্রথম গোল আসে ৩৮ মিনিটে। লামিন ইয়ামালের পাস মাঝপথে আটকে বলের দখল নেয় পিএসজি। এরপর বক্সের বাইরে থেকে নিচু শটে জাল খুঁজে নেন দেজিরে দুয়ে। এগিয়ে যায় প্যারিসের দল।

বিরতির পর আরও আক্রমণাত্মক হওয়ার চেষ্টা করে বার্সেলোনা। কিন্তু দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই ব্যবধান বাড়ানোর সুযোগ পেয়ে যায় পিএসজি। ৫০ মিনিটে গোলরক্ষককে একা পেয়েও সুযোগ কাজে লাগাতে পারেননি আশরাফ হাকিমি। গার্সিয়ার দুর্দান্ত সেভে তখনও ম্যাচে টিকে থাকে বার্সেলোনা।

এরপর সমতা ফেরানোর পালা কাতালানদের। ফেরমিন লোপেজের সঙ্গে চমৎকার বোঝাপড়ার পর পিএসজির বক্সে ঢুকে পড়েন তরুণ জাভি এসপার্ত। ঠান্ডা মাথায় সাফোনভকে পরাস্ত করে চ্যাম্পিয়নস লিগে নিজের প্রথম গোলটি করেন তিনি। ম্যাচে ফিরে আসে বার্সেলোনা।

তবে সমতা ফেরানোর পরও স্বস্তিতে থাকতে পারেনি পিএসজি। চোটের কারণে মাঠ ছাড়তে হয় মার্কিনিওস ও কাভারাস্কেইয়াকে। অন্যদিকে একসঙ্গে তিন খেলোয়াড় পরিবর্তন করে ম্যাচের গতিপথ বদলানোর চেষ্টা করেন ফ্লিক। গাভি, রদ্রি ও কারিম আদেয়েমিকে মাঠে নামান বার্সা কোচ। মাঠে নেমেই গাভি শট নেন, কিন্তু সেই প্রচেষ্টা আটকে যায়।

৭০ মিনিটে ফেরান তোরেসের সামনে আসে পিএসজিকে এগিয়ে দেওয়ার আরেকটি সুযোগ। কাছ থেকে নেওয়া তার শট পোস্টে লেগে ফিরে আসে। তবে কিছুক্ষণ পর আর রক্ষা হয়নি বার্সেলোনার। কর্নার থেকে আসা বলে দুর্দান্ত হেডে পিএসজিকে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে দেন লুকাস এরনান্দেস। আকাশি বলের লড়াইয়ে গর্ডনকে হারিয়ে তার হেড ঠেকাতে পারেননি গার্সিয়া।

এরপর ম্যাচে আবারও উত্তেজনা ছড়ায়। ৭৯ মিনিটে ডান দিক থেকে আক্রমণে উঠে ইয়ামাল বদলি খেলোয়াড় ওয়ারেন জাইরে-এমেরিকে কাটিয়ে বুটের বাইরের অংশ দিয়ে বল তুলে দেন। বল সাফোনভের মাথার ওপর দিয়ে জালে জড়াতেই দ্বিতীয়বারের মতো সমতায় ফেরে বার্সেলোনা।

কিন্তু সেই আনন্দ স্থায়ী হয় মাত্র অল্প সময়। দ্রুত পাল্টা আক্রমণে আবারও এগিয়ে যায় পিএসজি। বক্সের বাইরে থেকে আসা বল বুকে নিয়ন্ত্রণে এনে দুর্দান্ত শটে জালে পাঠান ভিতিনিয়া। ৩-২ ব্যবধানে এগিয়ে গিয়ে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নেয় স্বাগতিকেরা।

শেষ দিকে বার্সেলোনার রক্ষণে একের পর এক চাপ তৈরি করতে থাকে পিএসজি। ডান প্রান্ত দিয়ে হাকিমির ধারাবাহিক আক্রমণ সামলাতে হিমশিম খায় কাতালানরা। শেষ পর্যন্ত তাঁর ক্রস থেকে ফাঁকা জায়গায় বল পেয়ে সহজ টোকায় নিজের নাম স্কোরশিটে লেখান ফাবিয়ান রুইস।

তাতেই ৪-২ গোলের জয় নিশ্চিত হয় পিএসজির। দুইবার পিছিয়ে পড়েও ম্যাচে ফিরে আসা বার্সেলোনা শেষ পর্যন্ত আর পেরে ওঠেনি। প্যারিসের মাঠে বর্তমান ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নদের কাছে হার মেনে থামল ফ্লিকের দলের টানা জয়ের দৌড়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *