আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটে ঘরমুখো যাত্রী ও যানবাহন পারাপার নির্বিঘ্ন করতে ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে ঘাট সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। গত ঈদুল ফিতরে সৌহার্দ্য পরিবহণের একটি যাত্রীবাহী বাস নদীতে ডুবে ২৬ জন নিহত হওয়ার মর্মান্তিক ঘটনার পর, এবার যাত্রী নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা।
গত ঈদুল ফিতরে কর্মস্থলে ফেরার পথে দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটের ৩ নম্বর ফেরিঘাটে সৌহার্দ্য পরিবহণের একটি বাস নদীতে ডুবে শিশু, নারী ও পুরুষসহ ২৬ জনের প্রাণহানির ঘটনা ঘটে। দেশজুড়ে আলোড়ন সৃষ্টি করা সেই ভয়াবহ দুর্ঘটনার ক্ষত এখনও বয়ে বেড়াচ্ছেন নিহতদের স্বজনরা। একইসঙ্গে আসন্ন ঈদযাত্রা ঘিরে সাধারণ যাত্রীদের মাঝেও এক ধরণের উদ্বেগ ও শঙ্কা কাজ করছে।
তবে এবার যাতে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর দুর্ঘটনা বা ভোগান্তি না ঘটে, সেজন্য আগেভাগেই কঠোর প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছে স্থানীয় প্রশাসন ও ঘাট কর্তৃপক্ষ। দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২১টি জেলার লাখো মানুষের ঈদযাত্রা নিরাপদ করতে ইতোমধ্যে মেরামত করা হয়েছে ঘাটের সংযোগ (এপ্রোচ) সড়ক এবং বাড়ানো হয়েছে ফেরি ও লঞ্চের সংখ্যা। বিশেষ করে পন্টুনে ওঠার আগে বাস থেকে সব যাত্রী নামিয়ে পায়ে হেঁটে ফেরিতে ওঠার কড়া নির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে।
বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহণ করপোরেশন (বিআইডব্লিউটিসি) সূত্রে জানা গেছে, ঈদযাত্রায় যাত্রী ও যানবাহনের অতিরিক্ত চাপ সামাল দিতে এবার নৌরুটে ছোট-বড় মিলিয়ে ১৭টি ফেরি ও ২০টি লঞ্চ প্রস্তুত রাখা হয়েছে। পাশাপাশি পন্টুন ও ফেরিঘাট এলাকায় দুর্ঘটনা এড়াতে ও নিরাপত্তা নিশ্চিতে নতুন করে স্থাপন করা হয়েছে শক্তিশালী ‘সেফটি সাইড রেলিং’।
দৌলতদিয়া ঘাটের ব্যবস্থাপক (বাণিজ্য শাখা) মোহাম্মদ সালাউদ্দিন জানান, যাত্রীদের জীবনের নিরাপত্তার স্বার্থে পন্টুনে বাস ওঠার আগেই যাত্রীদের নেমে হেঁটে ফেরিতে ওঠার পরামর্শ ও নির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া ঘাট এলাকায় বিশৃঙ্খলা এড়াতে সার্বক্ষণিক কঠোর নজরদারি রাখা হবে এবং ১৭টি ফেরি দিয়ে দিন-রাত যানবাহন পারাপার করা হবে।
রাজবাড়ীর জেলা প্রশাসক আফরোজ পারভীন বলেন, ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন ও নিরাপদ করতে ফেরিঘাট ব্যাবস্থাপনা কমিটির বিশেষ সভায় সংশ্লিষ্ট সব দপ্তরকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। যাত্রীদের শতভাগ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন। ঘাট এলাকায় অতিরিক্ত ভাড়া আদায়, যাত্রী হয়রানি ও যেকোনো বিশৃঙ্খলা ঠেকাতে সার্বক্ষণিক ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হবে। একই সাথে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকেও কঠোর ও সতর্ক অবস্থানে রাখা হয়েছে।