ইসরায়েলে সব ধরনের ফ্লাইট বন্ধ করল ফ্লাইদুবাই

ককপিটে পাইলটদের মধ্যে তীব্র তর্কাতর্কি ও হাতাহাতির অপ্রীতিকর ঘটনার জের ধরে ইসরায়েলে নিজেদের সব ফ্লাইট সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে সংযুক্ত আরব আমিরাতভিত্তিক এয়ারলাইন ‘ফ্লাইদুবাই’। দুবাই থেকে ইসরায়েলের তেল আবিবগামী একটি ফ্লাইটে এই ঘটনা ঘটার পর এয়ারলাইন কর্তৃপক্ষ এই সিদ্ধান্ত নেয়।

আজ বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) ফ্লাইট ট্র্যাকিং ও মধ্যপ্রাচ্যের আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের বরাতে এ তথ্য জানা গেছে। খবর আনাদুলুর। 

ফ্লাইদুবাইয়ের এক মুখপাত্র এক বিবৃতিতে জানান, বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) দুবাই থেকে তেল আবিবগামী এফজেড১০৭৩ ফ্লাইটে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাটি ঘটে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে ঘটনার তদন্ত চলায় ইসরায়েলে আসা-যাওয়ার সব ফ্লাইট স্থগিত রাখা হয়েছে। তদন্তের মাধ্যমে ঘটনাটির সঠিক তথ্য উন্মোচন এবং পরিস্থিতি পর্যালোচনার পর পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। যাত্রীদের ভোগান্তির জন্য দুঃখ প্রকাশ করে এয়ারলাইনটি বিকল্প ভ্রমণের ব্যবস্থা করার আশ্বাস দিয়েছে।

ককপিটে ঠিক কী ঘটেছিল?

প্রতিবেদনে বলা হয়, ১৭৪ জন যাত্রী নিয়ে দুবাই থেকে তেল আবিব যাওয়ার পথে উড্ডয়নরত বিমানটির ককপিটে ‘ফ্লাইট ডেকে’ ক্যাপ্টেন ও ফার্স্ট অফিসারের (সহকারী পাইলট) মধ্যে হঠাৎ হাতাহাতি শুরু হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে বিমানে থাকা অন্য কেবিন ক্রুরা ককপিটের সুরক্ষায় এগিয়ে আসেন।

পাইলটদের মধ্যে মারামারিতে ক্যাপ্টেন ও ফার্স্ট অফিসার— উভয়েই আহত হন। এর প্রেক্ষিতে উড়োজাহাজটিকে জরুরিভিত্তিতে গতিপথ পরিবর্তন (ডাইভার্ট) করে সৌদি আরবের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় তাবুক শহরের প্রিন্স সুলতান বিন আব্দুলআজিজ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করানো হয়। অবতরণের পর আহত দুই পাইলটকে দ্রুত স্থানীয় হাসপাতালে নেওয়া হয়। তবে বিমানের ১৭৪ জন যাত্রী ও অন্য সকল ক্রু সম্পূর্ণ সুরক্ষিত ও নিরাপদ ছিলেন।

পরবর্তীতে ফ্লাইদুবাইয়ের পাঠানো বিকল্প একটি বিমানে করে তাবুক থেকে আটকে পড়া যাত্রীদের গন্তব্যে পৌঁছে দেওয়া হয়।

ইতোমধ্যে সৌদি আরবের ন্যাশনাল ট্রান্সপোর্ট সেফটি সেন্টার ঘটনাটির আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু করেছে। বিমান চলাচলের নিরাপত্তা ও সার্বিক তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে তারা সমন্বয় করছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *