যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি শান্তি চুক্তি খুব কাছাকাছি রয়েছে—কয়েক সপ্তাহ ধরে এমন জোর দাবি জানানোর পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এখন তেহরানের বিরুদ্ধে তার বক্তব্য আরও কঠোর করেছেন। তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, এই সংকট নিরসনে কূটনৈতিক সমাধানে পৌঁছানোর সময় শেষ হয়ে গেছে।
গত মঙ্গলবার, হরমুজ প্রণালিতে একটি হেলিকপ্টার ভূপাতিত করার প্রতিক্রিয়ায় মার্কিন সামরিক বাহিনী ইরানের অভ্যন্তরে বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে হামলা শুরু করে। এরপর থেকে ট্রাম্প ইঙ্গিত দিচ্ছেন যে যুক্তরাষ্ট্রের এই হামলা আরও অব্যাহত থাকতে পারে। খবর আলজাজিরার।
বুধবার (১০ জুন) ফক্স নিউজকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘আমি হয়তো এটা অব্যাহত রাখব, তাদের কাছে একটি চুক্তি সই করার এবং টিকে থাকার সুযোগ ছিল।’
যুক্তরাষ্ট্রের ওই হামলার জবাবে ইরান বাহরাইন, কুয়েত এবং জর্ডানে মার্কিন সেনা অবস্থান করা ঘাঁটিগুলোতে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে প্রতিক্রিয়া জানায়।
গত কয়েক সপ্তাহ ধরে এই ধরনের পাল্টাপাল্টি হামলা সীমিত পরিসরে এবং দ্রুত শেষ হয়ে গেলেও, ট্রাম্পের মন্তব্য ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, লড়াইয়ের সাম্প্রতিক এই পর্বটি এখনই শেষ নাও হতে পারে। যার ফলশ্রুতিতে, ৮ এপ্রিলের যুদ্ধবিরতিটি ভেস্তে গেছে কি না তা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।
ট্রাম্প ফক্স নিউজকে বলেন, দীর্ঘমেয়াদী কোনো চুক্তির দিকে না গিয়ে ইরান আলোচনার নামে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সময় নষ্ট করছে। বেসামরিক অবকাঠামোতে হামলা চালানো যুদ্ধাপরাধ হিসেবে গণ্য হতে পারে—এমন উদ্বেগ থাকা সত্ত্বেও তিনি দেশটির বিদ্যুৎ কেন্দ্র এবং সেতুগুলোতে বোমা হামলার হুমকি পুনর্ব্যক্ত করেন।
এর আগে দিনের শুরুতে, ডোনাল্ড ট্রাম্প তার ট্রুথ সোশ্যাল প্ল্যাটফর্মেও লিখেছিলেন, ইরান সম্পূর্ণরূপে পরাজিত হয়েছে।
ট্রাম্প বলেন, ‘একটি চুক্তি করার জন্য তারা অনেক বেশি সময় নিয়ে নিয়েছে যা তাদের জন্য দারুণ হতে পারত, এখন তাদের এর মূল্য দিতে হবে।’
ইরানি কর্মকর্তারা জোর দিয়ে বলেছেন, তারা এমন কোনো চুক্তিতে স্বাক্ষর করবে না যা তাদের দেশের অধিকারকে স্বীকৃতি দেয় না। তেহরান ইঙ্গিত দিয়েছে যে, তারা পুনরায় যুদ্ধে ফিরে যেতে ভয় পায় না। ট্রাম্পের দাবি—ইরান সামরিকভাবে পরাজিত—তা সত্ত্বেও তেহরান মার্কিন হামলার জবাব দিতে এবং হরমুজ প্রণালিতে তাদের অবরোধ বজায় রাখতে সক্ষম হয়েছে, যার ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দাম আকাশচুম্বী হয়েছে।
বুধবার ইরানি পার্লামেন্টের ডেপুটি স্পিকার হাজি বাবাই বলেন, কূটনীতি তখনই কাজ করবে যখন ইরানি জাতির দাবি পূরণ হবে। রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ইরনা-র বরাত দিয়ে বাবাই বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র অর্থনৈতিক ও সামরিক যুদ্ধে হেরে যাবে।’
ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানও বলেছেন, অঞ্চলটিতে চলমান ‘যুদ্ধও নয়, শান্তিও নয়’ এমন পরিস্থিতি থেকে ইরানকে অবশ্যই বেরিয়ে আসতে হবে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, হুমকির মুখে তাঁর দেশ নতি স্বীকার করবে না।
ইরনা-র তথ্য অনুযায়ী পেজেশকিয়ান বলেন, ‘যুদ্ধ অবশ্যই দেশের স্বার্থে নয়, তবে তারা যদি আমাদের মর্যাদা, আমাদের ভূখণ্ডের সার্বভৌমত্বকে লঙ্ঘন করতে চায়, তবে আমরা আত্মসমর্পণ করব না।’
এদিকে, ইরানের প্রতি ট্রাম্পের সুর কঠোর হওয়া সত্ত্বেও, যুদ্ধ পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার ক্ষেত্রে তিনি নিজ দেশে সমালোচনার মুখোমুখি হচ্ছেন।
বুধবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এ ডেমোক্র্যাট সিনেটর ক্রিস মারফি লিখেছেন, ‘এটি প্রতিদিনের অনুস্মারক যে, প্রেসিডেন্ট ইরান যুদ্ধের ওপর থেকে সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছেন এবং ফলস্বরূপ আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছেন। গ্যাস এবং মুদি পণ্যের দাম যখন আকাশচুম্বী, তখন তিনি এখন কেবল তার বলরুম এবং প্রেসিডেন্ট পদ থেকে কীভাবে মুনাফা নেওয়া যায় সেই পরিকল্পনা নিয়ে আচ্ছন্ন।’