ইরানের দেওয়া প্রস্তাব ট্রাম্পের প্রত্যাখ্যান

যুক্তরাষ্ট্রের শান্তি প্রস্তাবের জবাবে ইরানের দেওয়া প্রস্তাবকে ‘সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এর ফলে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত নিরসনের সম্ভাবনা আরও অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে এবং বিশ্ববাজারে তেলের দাম আবারও বেড়েছে।

আজ সোমবার (১১ মে) ট্রাম্প তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে লিখেছেন, আমি এটি পছন্দ করিনি-সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য। যদিও তিনি বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেননি। খবর রয়টার্সের। 

এর আগে যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ বন্ধ করে পরবর্তী সময়ে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিসহ বিতর্কিত বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনার প্রস্তাব দিয়েছিল। জবাবে ইরান যুদ্ধের সব ফ্রন্টে, বিশেষ করে লেবাননে সংঘাত বন্ধের আহ্বান জানায়। পাশাপাশি যুদ্ধের ক্ষতিপূরণ, হরমুজ প্রণালির ওপর ইরানের সার্বভৌমত্বের স্বীকৃতি, মার্কিন নৌ অবরোধ প্রত্যাহার, নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া এবং ইরানি তেল বিক্রির ওপর নিষেধাজ্ঞা বাতিলের দাবি জানায়।

ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন ও আধা-সরকারি সংবাদমাধ্যম তাসনিম নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, তেহরান আরও দাবি করেছে যে যুক্তরাষ্ট্রকে ভবিষ্যতে আর কোনো হামলা না করার নিশ্চয়তা দিতে হবে।

ট্রাম্পের প্রত্যাখ্যানের পর সোমবার বিশ্ববাজারে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি প্রায় ৩ ডলার বেড়ে যায়। কারণ, বিনিয়োগকারীরা আশঙ্কা করছেন যে ১০ সপ্তাহ ধরে চলা এই সংঘাত আরও দীর্ঘায়িত হতে পারে এবং হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক হতে আরও সময় লাগবে। যুদ্ধ শুরুর আগে বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল সরবরাহ এই প্রণালি দিয়ে যেত।

এদিকে, চীনে সফরের আগে ট্রাম্প বলেছেন, ইরান ‘পরাজিত’, তবে ‘তারা শেষ হয়ে যায়নি’। ধারণা করা হচ্ছে, বেইজিংয়ে শি জিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠকে ইরান ইস্যু গুরুত্বপূর্ণ আলোচ্য বিষয় হবে।

অন্যদিকে, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম অপসারণ, পারমাণবিক স্থাপনা ভেঙে ফেলা এবং ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা নিয়ন্ত্রণ না হওয়া পর্যন্ত যুদ্ধ শেষ হয়নি। তিনি জানান, কূটনৈতিক সমাধানকে অগ্রাধিকার দেওয়া হলেও প্রয়োজনে শক্তি প্রয়োগের পথও খোলা রয়েছে।

ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় বলেছেন, ইরান কখনো ‘শত্রুর কাছে মাথা নত করবে না’ এবং জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় কঠোর অবস্থান বজায় রাখবে।

এদিকে যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকলেও সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার ও কুয়েতে ড্রোন হামলার ঘটনা নতুন করে উত্তেজনা বাড়িয়েছে। একইসঙ্গে দক্ষিণ লেবাননেও ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহর মধ্যে সংঘর্ষ অব্যাহত রয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *