মাঠে জার্সির পেছনে ‘মেসি’ নামটা দেখলেই কিছুক্ষণের জন্য থেমে যান ভক্তরা। মনে করেন প্রিয় তারকা লিওনেল মেসির কথা। অপেক্ষা করেন দারুণ কিছুর। ভক্তদের হতাশ করেননি লিওনেল মেসির ছোট ছেলে চিরো মেসি। উপহার দিলেন ঠিক বাবার মতোই দারুণ এক মুহূর্ত। যা দ্রুতই চলে এসেছে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে।
আপাতত বাবার ক্লাব ইন্টার মায়ামির একাডেমিতেই খেলছেন চিরো মেসি। এই একাডেমির হয়েই খেলতে নেমে ফ্রি-কিক থেকে বাবার মতোই চোখ জুড়ানো একটি করেছেন চিরো। নজর কেড়েছে গোলের পর তার উদযাপনও।
সম্প্রতি ‘ড্রিমস কাপ’-এ ইন্টার মায়ামি অনূর্ধ্ব-৮ দলের একটি ম্যাচ চলাকালীন ফ্রি-কিক নিতে বক্সের ঠিক বাইরে দাঁড়ায় আট বছর বয়সী চিরো। ফ্রি-কিক নেওয়ার আগে গোলপোস্টের দিকে তার তাকিয়ে থাকার ভঙ্গি যেন মনে করিয়ে দেয় মেসির নেওয়া বাঁ-পায়ের জাদুকরী ফ্রি-কিকগুলোর কথা।
চিরোর নিখুঁত শটে বল মানব প্রাচীর টপকে সোজা গিয়ে জায়গা করে নেয় জালে। ঠিক যেনো বাবার বক্সের বাইরে থেকে নেওয়া ফ্রি-কিক গোলগুলোরই একটি। তাই স্বাভাবিকভাবেই চিরোর এমন গোলের পর ভক্তরা তুলনা টানছেন বাবা লিওনেল মেসির সঙ্গে।
মেসির সঙ্গে অবশ্য একটি পার্থক্য আছে চিরোর। বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম সেরা আর্জেন্টাইন তারকার দক্ষতা বেশি বাঁ-পায়ে। এই পায়ের জাদুতেই তিনি মুগ্ধ করেছেন গোটা ফুটবল বিশ্বকে। সেখানে চিরোর দক্ষতা বেশি ডান-পায়ে।
তবে আসল চমকটি ছিল গোলের পরের উদ্যাপনে। সতীর্থদের সঙ্গে উল্লাস করার সময় হঠাৎ করেই একজনের বাড়িয়ে দেওয়া একটি সানগ্লাস চোখে পরে নেয় চিরো। এরপর দুই হাত বুকের ওপর আড়াআড়ি করে বাকিদের সঙ্গে চমৎকার এক ভঙ্গিমায় পোজ দেয় চিরো। গোল যতটা নান্দনিক ছিল, তার চেয়েও বেশি রঙিন ছিল এই সেলিব্রেশন।
লিওনেল মেসির সন্তান হওয়ার সুবাদে চিরোর প্রতিটি পদক্ষেপে বাবার সঙ্গে তুলনা হওয়াটাই স্বাভাবিক। তবে এই খুদে তারকা কেবল বাবার পরিচয়ের ওপর নির্ভর করে না। নিজে দারুণ পারফরম্যান্স উপহার দিয়েই সবার নজর কাড়ছে।
ফাইনাল ম্যাচে ওয়েস্টন এফসিকে ১০-২ গোলের বড় ব্যবধানে উড়িয়ে দিয়ে ড্রিমস কাপের শিরোপা জিতেছে ইন্টার মায়ামি। সেই ম্যাচে জোড়া গোল করে দলকে জেতাতে বড় ভূমিকা রেখেছিল চিরো। তবে শুধু ফাইনাল নয়, পুরো টুর্নামেন্টেই দারুণ করেছেন ‘খুদে মেসি’। যে কারনে টুর্নামেন্টের সেরা খেলোয়াড়ের সঙ্গে সর্বোচ্চ গোলদাতার পুরস্কারও নিজের করে নিয়েছে চিরো।
অবশ্য চিরো একা নয়, মেসি পরিবারের তিন ছেলেই ফুটবলকে ভালোবেসে বড় হচ্ছেন। তার দুই বড় ভাই থিয়াগো ও মাতেও– দুজনেই ইন্টার মায়ামির যুব একাডেমির অংশ। কিংবদন্তি বাবার বর্ণিল ক্যারিয়ারের ছায়ার নিচে থেকে তিন ভাই এখন নিজেদের মতো করে ফুটবলটা উপভোগ করছেন।
মাত্র আট বছর বয়সী এক শিশুর ভবিষ্যৎ কোন পথে হাঁটবে, তা এখনই নিশ্চিত করে বলা মুশকিল। তাছাড়া সর্বকালের অন্যতম সেরা খেলোয়াড়ের সঙ্গে তুলনা টানাও খুদে এই তারকার ওপর বাড়তি একটা চাপ তৈরি করতে পারে। তবে আপাতত সেসবে না ভিড়ে মাঠে নিজের ফুটবল দারুণভাবে উপভোগ করছে চিরো।