পেশাদার ক্যারিয়ারে অবিশ্বাস্য এক হাজার গোলের বিরল মাইলফলক ছোঁয়ার স্বপ্নের খুব কাছাকাছি পৌঁছে গেলেও, তা নিয়ে খুব বেশি দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা করছেন না পর্তুগিজ ফুটবল মহাতারকা ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো।
তবে সৌদি ক্লাব আল নাসরের এই ফরোয়ার্ডের আক্ষেপ, ক্যারিয়ার জুড়ে একের পর এক রেকর্ডের পাহাড়ে চড়লেও তার অসাধারণ গোল ও মাঠের পারফরম্যান্সের প্রাপ্য স্বীকৃতি তিনি পাচ্ছেন না। তবে চারপাশের নানা সমালোচনা ও অমূল্যায়নের পরও সিআর সেভেনের দাবি—ফুটবল ইতিহাসের সর্বকালের সেরা খেলোয়াড় তিনিই।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম সিএনএন-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে রোনালদোর মন্তব্য প্রকাশ করেছে ক্রীড়াভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ‘দ্য অ্যাথলেটিক’। সেখানে পর্তুগিজ অধিনায়ক ক্ষোভের সঙ্গে বলেন, ‘মানুষ আমার পারফরম্যান্সের প্রকৃত মান এবং আমার করা গোলগুলোকে কখনোই প্রাপ্য সম্মান ও কৃতিত্ব দেয় না।’
তবে সব বিতর্কের ঊর্ধ্বে উঠে পরিসংখ্যান অবশ্য পর্তুগিজ যুবরাজের দাবির পক্ষেই কথা বলছে। পেশাদার ফুটবলে ক্লাব ও পর্তুগাল জাতীয় দলের জার্সি গায়ে ১ হাজার ৩৩৭টি ম্যাচ খেলে এ পর্যন্ত সর্বমোট ৯৮০টি গোল করেছেন তিনি। বহু কাঙ্ক্ষিত ১ হাজার গোলের অবিশ্বাস্য রেকর্ড গড়া থেকে মাত্র ২০টি গোল দূরে দাঁড়িয়ে আছেন এই মহাতারকা।
এক হাজার গোলের স্বপ্নপূরণ ও ইতিহাস গড়ার বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে নিজের আত্মবিশ্বাসী কণ্ঠে রোনালদো বলেন, ‘যেকোনো বিষয় তার নিজস্ব স্বাভাবিক নিয়মে ঘটা উচিত। আমি যদি ক্যারিয়ার শেষে ৯২০, ৯২৫ কিংবা ৯৩০টি গোলও করে থাকি, এরপরও ফুটবল ইতিহাসের সেরা খেলোয়াড় আমিই থাকব—ব্যস, এখানেই কথা শেষ!’
অবশ্য সেই সঙ্গে ১ হাজার গোলের মাইলফলক স্পর্শ করার স্বপ্ন যে এখনও জিইয়ে রেখেছেন, তা গোপন করেননি পাঁচবারের ব্যালন ডি’অর জয়ী এই ফরোয়ার্ড।
রোনালদো বলেন, ‘পরিসংখ্যানই আসলে শেষ কথা বলে। আমি যদি কোনোভাবে সেই জাদুকরী এক হাজার গোলের সংখ্যা ছুঁতে পারি, তবে তা হবে সত্যিই অসাধারণ এক মুহূর্ত। আর এই লক্ষ্য অর্জনের জন্যই আমি প্রতিদিন পরিশ্রম করে যাচ্ছি। তবে খুব দূরের ভবিষ্যৎ নিয়ে ভেবে এখন থেকে অতিরিক্ত চাপ নিই না।’
নিজের অবসর ও ফুটবল খেলা চালিয়ে যাওয়া প্রসঙ্গে কিছুটা রহস্য রেখে সিআরসেভেন বলেন, ‘আগামীকাল কী ঘটতে যাচ্ছে, তা আমার পক্ষে বলা অসম্ভব। হয়তো এমনও হতে পারে—কোনো একদিন সকালে ঘুম থেকে উঠে দেখলাম মাঠে নামার কোনো তাগিদ বা প্রেরণা আর অবশিষ্ট নেই, তখন আর খেলতে চাইব না। সত্যি বলতে, সামনে ঠিক কী অপেক্ষা করছে, তা এখন বলা কঠিন।’