প্রথম সবকিছুই ঐতিহাসিক। বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দলও তাই এক ঐতিহাসিক ম্যাচে মাঠে নামতে যাচ্ছে। ওয়ানডে ক্রিকেটে টাইগ্রেসদের পথচলা বেশ কিছু দিনের হলেও এবারই প্রথম দ্বিপাক্ষিক ওয়ানডে সিরিজ খেলতে অস্ট্রেলিয়া গেছে নিগার সুলতানা জ্যোতির দল। স্বাগতিকদের বিপক্ষে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ খেলবে তারা।
শুক্রবার (৯ অক্টোবর) বাংলাদেশ সময় সকাল ৯টা ৫০ মিনিটে ব্রিসবেনে প্রথম ওয়ানডেতে মুখোমুখি হবে দুই দল। তবে টাইগ্রেস সমর্থকদের জন্য দুঃসংবাদ হলো, বাংলাদেশে কোনো টেলিভিশন চ্যানেল ম্যাচটি সরাসরি সম্প্রচার করবে না। তাই অনলাইনে নজর রাখতে হবে সমর্থকদের। স্পোর্টসজিফাই, ক্রীড়া টিভি কিংবা ক্রিক পিকের মতো থার্ড-পার্টি অ্যাপে দেখা যাবে ম্যাচটি।
অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে বাংলাদেশের লড়াইটা অসম। শক্তি-সামর্থ্য, র্যাঙ্কিং ও অতীত ইতিহাসে দুই দলের পার্থক্যটা আকাশ-পাতাল। ওয়ানডে ক্রিকেটে একচ্ছত্র আধিপত্য অস্ট্রেলিয়ার। ওয়ানডে বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ ৭ বারের চ্যাম্পিয়ন তারা। ওয়ানডে র্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষ দলও অস্ট্রেলিয়া। সেখানে বাংলাদেশ আছে র্যাঙ্কিংয়ের ৭ নম্বরে।
পরিসংখ্যানেও ঢের এগিয়ে থেকেই মাঠে নামবে স্বাগতিকরা। এখন পর্যন্ত পাঁচটি ওয়ানডে ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছে বাংলাদেশ ও অস্ট্রেলিয়া। যেখানে শতভাগ জয় অসি নারীদের। এর মধ্যে ২০২৪ সালে বাংলাদেশ সফরে এসেও তিন ম্যাচ সিরিজে ৩-০ ব্যবধানে জয় তুলে নিয়ে ফিরেছিল অস্ট্রেলিয়া।
বাংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়ার এই সিরিজটি আইসিসি উইমেন্স চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ। উইমেন্স চ্যাম্পিয়নশিপে এখন পর্যন্ত ৩টি করে ম্যাচ খেলেছে বাংলাদেশ ও অস্ট্রেলিয়া। তিন ম্যাচের সবগুলো জিতে ৬ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের ছয় নম্বরে আছে অসি নারীরা। আর বাংলাদেশ তিন ম্যাচের একটি জিতে ২ পয়েন্ট নিয়ে আছে টেবিলের ৮ নম্বরে।
সবকিছু অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে কথা বললেও স্বাগতিকদের চমকে দিতে চান বাংলাদেশ অধিনায়ক নিগার সুলতানা জ্যোতি। ম্যাচের আগে সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেছেন, ‘আমাদের দল হিসেবে খেলতে হবে। আমরা বিশ্বাস করি, দল হিসেবে খেলতে পারলে এবং একটি ইউনিট হিসেবে পারফর্ম করতে পারলে যেকোনো দলকে চমকে দিতে পারি।’
তবে বাংলাদেশকে অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেটারদের সঙ্গে সঙ্গে লড়াই করতে হবে সে দেশের কন্ডিশনের সঙ্গেও। তাসমানপাড়ের কন্ডিশন বরাবরই এশিয়ার দেশগুলোর জন্য বেশ কঠিন। তবে কয়েক দিন আগেই অস্ট্রেলিয়ায় গিয়ে নিজেদের সেভাবেই প্রস্তুত করেছেন বলে জানিয়েছেন জ্যোতি।
টাইগ্রেস অধিনায়ক বলেন, ‘এখানে একেবারেই ভিন্ন কন্ডিশন। আমরা চেষ্টা করছি নিজেদের সেভাবেই প্রস্তুত করার। প্রস্তুতি ম্যাচ খেলে এবং অনুশীলন করে চেষ্টা করছি উইকেট সম্পর্কে ধারণা নেওয়ার। এখানে মাইন্ডসেটের ব্যাপার আছে। আমরা ম্যাচ খেলতে মুখিয়ে আছি।’
বাংলাদেশ অধিনায়ক জ্যোতি অস্ট্রেলিয়াকে চমকে দিতে চাইলেও সেটি যে সহজ হবে না, সবকিছুই তা বলে দিচ্ছে। এখন মাঠে কতটা পারফর্ম করতে পারে টাইগ্রেসরা, সেটাই নির্ধারণ করবে ম্যাচের ফলাফল।