ঘুষ, অতিরিক্ত অর্থ আদায় এবং সেবাগ্রহীতাদের হয়রানির অভিযোগে আলোচিত চাঁদপুর সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে আকস্মিক পরিদর্শন করেছেন চাঁদপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য শেখ ফরিদ আহমেদ মানিক। আজ মঙ্গলবার (১২ মে) সকালে তার এই ঝটিকা অভিযানে অফিসজুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয় এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক ও তৎপরতা দেখা দেয়।
দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ ছিল যে, চাঁদপুর সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে দলিল নিবন্ধনের ক্ষেত্রে সরকারি নির্ধারিত ফি’র বাইরে মোটা অঙ্কের অতিরিক্ত টাকা আদায় করা হচ্ছে। সাধারণ মানুষের দাবি, দলিল সম্পন্ন করতে বিভিন্ন টালবাহানায় বাড়তি টাকা দিতে বাধ্য করা হয়; অন্যথায় কাজ ঝুলিয়ে রাখা বা নানাভাবে হয়রানি করা হয়।
এসব অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে সংসদ সদস্য শেখ ফরিদ আহমেদ মানিক হঠাৎ অফিসে উপস্থিত হয়ে বিভিন্ন শাখা ঘুরে দেখেন। তিনি সরাসরি সেবাগ্রহীতাদের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাদের বঞ্চনার কথা শোনেন। ভুক্তভোগীরা এসময় দালালের দৌরাত্ম্য এবং টাকা ছাড়া ফাইল না নড়ার অভিযোগ সরাসরি এমপির কাছে তুলে ধরেন।
পরিদর্শনকালে ক্ষোভ প্রকাশ করে এমপি মানিক সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কঠোরভাবে সতর্ক করে বলেন, সরকারি নিয়মের বাইরে অতিরিক্ত একটি টাকাও নেওয়া যাবে না। জনগণকে হয়রানি করে কেউ পার পাবে না। প্রধানমন্ত্রী দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি ঘোষণা করেছেন। সরকারি অফিস জনগণের সেবা দেওয়ার জায়গা, কাউকে ভোগান্তিতে ফেলার জন্য নয়।
তিনি আরও স্পষ্ট করে বলেন, ঘুষ ও দুর্নীতির মাধ্যমে সাধারণ মানুষের পকেট কাটার প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ও কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মানুষ যেন কোনো প্রকার দীর্ঘসূত্রতা ও অতিরিক্ত খরচ ছাড়া স্বচ্ছভাবে সেবা পায়, তা নিশ্চিত করতে অফিস কর্তৃপক্ষকে মনিটরিং জোরদার করার নির্দেশ দেন তিনি।