৮০ কোটির সম্পদ, আয়ের অর্থ দিতেন কৃষকদের, নানা পাটেকারের অন্য জীবন

পর্দায় শক্তিশালী অভিনয় আর ব্যক্তিজীবনে সাদামাটা জীবনযাপনের জন্য বরাবরই আলাদা ছিলেন নানা পাটেকার। হিন্দি ও মারাঠি সিনেমায় প্রায় পাঁচ দশকের ক্যারিয়ারে খ্যাতি ও সম্পদ দুটোই অর্জন করেছিলেন এই অভিনেতা। তবে অভিনয়ের বাইরেও তাঁর একটি পরিচয় ছিল, সমাজসেবী হিসেবে। বিশেষ করে কৃষক ও তাঁদের পরিবারের পাশে দাঁড়াতে নিজের অর্থ ব্যয় করে আলোচনায় এসেছিলেন তিনি।

বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) ভারতের গোয়া রাজ্যের ডোনা পাওলায় নিজ বাসভবনে হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত হয়ে ৭৫ বছর বয়সে মারা যান নানা পাটেকার। তাঁর মৃত্যুর পর অভিনেতার সম্পদের পরিমাণ এবং সমাজসেবামূলক কাজ নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

কত সম্পদ রেখে গেলেন নানা পাটেকার?

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম মানি কন্ট্রোল, দ্য ইকোনমিক টাইমস ও আউটলুকের বিভিন্ন প্রতিবেদনে নানা পাটেকারের মোট সম্পদের পরিমাণ ৫০ থেকে ৮০ কোটি রুপি বলে উল্লেখ করা হয়েছে। বাংলাদেশি মুদ্রায় এর পরিমাণ আনুমানিক ৬৩ কোটি থেকে ১০১ কোটি টাকা।

তবে এই সম্পদের পরিমাণ কোনো আনুষ্ঠানিক আর্থিক বিবরণী থেকে পাওয়া নয়। সংবাদমাধ্যমের প্রকাশিত তথ্য ও সম্পত্তির আনুমানিক মূল্য ধরে এই হিসাব করা হয়েছে।

প্রতিবেদনগুলো অনুযায়ী, মুম্বাইয়ের আন্ধেরিতে তাঁর একটি ফ্ল্যাট এবং গোয়ায় একটি বাড়ি ছিল। এ ছাড়া পুনের কাছে খামারবাড়ি ও কৃষিজমির মালিকানার কথাও বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। অভিনয়ের পাশাপাশি বিজ্ঞাপন ও অন্যান্য কাজ থেকেও আয় করেছেন তিনি।

আয়ের অর্থ দিতেন কৃষকদের সহায়তায়

নানা পাটেকারের সমাজসেবামূলক কাজের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য দিক ছিল কৃষকদের পাশে দাঁড়ানো। ২০১৫ সালে মহারাষ্ট্রের মারাঠওয়াড়া অঞ্চলে খরা ও কৃষক আত্মহত্যার ঘটনা তাঁকে গভীরভাবে নাড়া দেয়। কৃষকের পরিবারের দুর্দশা নিয়ে টেলিভিশনের একটি প্রতিবেদন দেখার পর তাঁদের সহায়তায় এগিয়ে আসার সিদ্ধান্ত নেন তিনি।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, শুরুতে নিজের অর্থ থেকে কৃষকের পরিবারগুলোকে আর্থিক সহায়তা দেন নানা। পরে মারাঠি অভিনেতা মকরন্দ আনাসপুরের সঙ্গে প্রতিষ্ঠা করেন ‘নাম ফাউন্ডেশন’। প্রতিষ্ঠানটি খরায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক ও তাঁদের পরিবারের সহায়তা, পানিসংরক্ষণ এবং গ্রামীণ উন্নয়নে কাজ করে।

দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের ৮ অক্টোবরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, নাম ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে ৭৭ লাখের বেশি কৃষক, ৫১ হাজার দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার এবং প্রায় পাঁচ হাজার বিধবা নারী সহায়তা পেয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

সমাজসেবায় নানা পাটেকারের সম্পৃক্ততা অবশ্য এরও আগে থেকে। ‘পাঠশালা’ সিনেমায় অভিনয়ের পারিশ্রমিক পাঁচটি দাতব্য প্রতিষ্ঠানে দান করেছিলেন তিনি। এ ছাড়া মহারাষ্ট্র সরকারের রাজ কাপুর বিশেষ অবদান পুরস্কারের সঙ্গে পাওয়া ১০ লাখ রুপি খরার্তদের সহায়তায় দিয়েছিলেন বলে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।

তবে নিজের মোট আয়ের ৯০ শতাংশ দান করতেন, এমন দাবির পক্ষে নির্ভরযোগ্য তথ্য পাওয়া যায়নি। বরং কৃষকদের সহায়তায় ব্যক্তিগত অর্থ ব্যয়, পারিশ্রমিক দান এবং দীর্ঘদিনের সমাজসেবামূলক কাজই তাঁর এই পরিচয়ের পক্ষে প্রতিষ্ঠিত তথ্য।

কারা পাবেন তাঁর সম্পদ?

নানা পাটেকারের পরিবারে রয়েছেন স্ত্রী নীলকান্তি পাটেকার ও ছেলে মালহার পাটেকার। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, স্ত্রীর সঙ্গে তাঁর দীর্ঘদিনের দাম্পত্য দূরত্ব থাকলেও তাঁদের আইনগত বৈবাহিক সম্পর্কের অবস্থা এবং উত্তরাধিকার বণ্টন নিয়ে বিস্তারিত প্রকাশ্য তথ্য নেই।

তাঁর কোনো উইল ছিল কি না, থাকলে তাতে কী নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, কিংবা সম্পত্তি বণ্টনের আইনি প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে কি না, সে বিষয়ে নির্ভরযোগ্য তথ্য প্রকাশিত হয়নি। ফলে স্ত্রী ও ছেলে ঠিক কতটা সম্পদ পাবেন, তা এখনই নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।

অভিনয়ের মাধ্যমে বিপুল সম্পদ অর্জন করলেও নানা পাটেকারের জীবনের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় ছিল অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো। বিশেষ করে কৃষকদের জন্য তাঁর কাজ তাঁকে পর্দার বাইরেও আলাদা পরিচিতি দিয়েছিল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *