সীমিত ওভার বা সাদা বলের ক্রিকেটে সাব্বির রহমান মানেই চড়াও হয়ে মারকুটে ব্যাটিং। তবে জাতীয় ক্রিকেট লিগে (এনসিএল) এবার তাকে দেখা গেল একেবারেই অন্য রূপে। দলের চরম বিপদের মুহূর্তে একপ্রান্ত আগলে রেখে দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ের দারুণ এক দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন এই অভিজ্ঞ ডানহাতি ব্যাটার। কেবল দলের নিশ্চিত হারই বাঁচাননি, সেই সঙ্গে মাটি কামড়ে খেলে দীর্ঘ সাড়ে আট বছরের সেঞ্চুরি খরা কাটিয়ে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে তিন অঙ্কের স্বাদ পেয়েছেন তিনি।
জাতীয় ক্রিকেট লিগের দ্বিতীয় রাউন্ডে সাব্বিরের প্রতিরোধ গড়ে ড্র করার দিনে ব্যাট হাতে শতকের দেখা পেয়েছেন সিলেটের তরুণ আশরাফুল হাসান ও ঢাকার আশিকুর রহমান। অন্যদিকে, চট্টগ্রাম দলের হয়ে বল হাতে ৫ উইকেট শিকার করেছেন আরেক আশরাফুল হাসান। আর একই রাউন্ডের অন্য ম্যাচে বাঁহাতি স্পিনার হাসান মুরাদ প্রথম শ্রেণির ক্যারিয়ারে স্পর্শ করেছেন ২০০ উইকেটের মাইলফলক।
এনসিএলের প্রথম রাউন্ডের মতোই এবার দ্বিতীয় রাউন্ডেও চারটি ম্যাচের তিনটিই ড্রতে শেষ হয়েছে। কেবল মাত্র বরিশাল ও চট্টগ্রামের ম্যাচটিতে ফল এসেছে। যেখানে প্রথম রাউন্ডের মতো এবারও ইনিংস ব্যবধানে হেরে মাঠ ছেড়েছে বরিশাল।
সাব্বিরের প্রতিরোধে রাজশাহীর রোমাঞ্চকর ড্র
খুলনার বিপক্ষে আগের দিনই ইনিংস পরাজয়ের শঙ্কা কাটিয়ে ওঠার পথে অনেকটা এগিয়ে গিয়েছিল রাজশাহী। তবে শেষ দিনে তাদের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ ছিল পুরো দিন ব্যাটিং করে ম্যাচটা বাঁচানো। সেই কঠিন অভিযানে একপ্রান্ত আগলে রেখে সাব্বির রহমান খেললেন ধৈর্যশীল এক ইনিংস।
শেষ পর্যন্ত ২২১ বল মোকাবিলা করে ৮টি চার ও ১টি ছক্কার সাহায্যে ১১৩ রান করেন সাব্বির। সেঞ্চুরি করে যখন তিনি সাজঘরে ফেরেন, ততক্ষণে ম্যাচের বাকি আর মাত্র দেড় ঘণ্টার মতো। ৮৪ ম্যাচের দীর্ঘ প্রথম শ্রেণির ক্যারিয়ারে এটি সাব্বিরের পঞ্চম সেঞ্চুরি।
প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে সাব্বির সর্বশেষ সেঞ্চুরির মুখ দেখেছিলেন ২০১৮ সালের জুনে শ্রীলঙ্কা ‘এ’ দলের বিপক্ষে (১৬৫ রান)। এরপর দীর্ঘ ৫৯ ইনিংস খেললেও তিন অঙ্কের দেখা পাননি। আর জাতীয় ক্রিকেট লিগে তার সেঞ্চুরির অপেক্ষাটি ছিল আরও দীর্ঘ—সর্বশেষ ২০১২ সালের ডিসেম্বরে সিলেটের বিপক্ষে ১৩৬ রান করেছিলেন তিনি।
আজ রাজশাহী ৩ উইকেটে ৩০০ রান নিয়ে শেষ দিনের খেলা শুরু করলেও খুলনা বোলারদের তোপে পড়ে। মাত্র ৭৯ রানের ব্যবধানে মাঝের ৩টি উইকেট হারিয়ে বসে তারা, তখন লিড ছিল মাত্র ১৪ রানের। চরম বিপদের মুখে দাঁড়িয়ে সানজামুল ইসলামকে সঙ্গে নিয়ে সপ্তম উইকেটে ৯৫ রানের গুরুত্বপূর্ণ জুটি গড়েন সাব্বির।
সানজামুল (৩৯) ও নিহাদ উজ জামানকে একই ওভারে ফিরিয়ে খুলনাকে আশার আলো দেখান আফিফ হোসেন। পরের ওভারে সাব্বিরও কট বিহাইন্ড হয়ে বিদায় নিলে মাত্র ৬ বলের ব্যবধানে ৩ উইকেট হারিয়ে হারের শঙ্কায় পড়ে রাজশাহী। তবে শেষ উইকেটে আলি মোহাম্মদ (৫০ বলে ১১*) ও শফিকুল ইসলাম (৫৮ বলে ১৫*) এক ঘণ্টার বেশি সময় কাটিয়ে ১০৮ বলে ২৬ রান যোগ করে ম্যাচ ড্র নিশ্চিত করেন।
চট্টগ্রামের বড় জয়, মুরাদের ২০০
দ্বিতীয় রাউন্ডে ফল আসা একমাত্র ম্যাচে বরিশালকে ইনিংস ও ১ রানের বড় ব্যবধানে হারিয়েছে চট্টগ্রাম। শেষ দিনে ইনিংস হার এড়াতে বরিশালের প্রয়োজন ছিল ১৪৫ রান, হাতে ছিল ৬ উইকেট। কিন্তু চট্টগ্রামের অফ স্পিনার আশরাফুল হাসানের তোপে পড়ে মাত্র ১৪৪ রান তুলতেই বাকি ৬ উইকেট হারায় বরিশাল। রাফসান আল মাহমুদ ৭২ রান ও মইন খান ৩৬ রান করলেও দলের টানা দ্বিতীয় ইনিংস পরাজয় এড়াতে পারেননি।
স্বাগতিকদের ধ্বসিয়ে দিতে ৭৭ রানে ৫ উইকেট নেন আশরাফুল। অন্যদিকে, দুই ইনিংস মিলিয়ে ৬ উইকেট নিয়ে প্রথম শ্রেণির ক্যারিয়ারে ৪৭তম ম্যাচে এসে ২০০ উইকেটের মাইলফলক স্পর্শ করেন বাঁহাতি স্পিনার হাসান মুরাদ।
মাহফিজুলের ব্যাটে ময়মনসিংহের ড্র
সিলেটের একাডেমি মাঠে রংপুর ও ময়মনসিংহের ম্যাচটিও শেষ পর্যন্ত ড্রয়ে নিষ্পত্তি হয়েছে। শেষ দিনে জয়ের জন্য ময়মনসিংহের সামনে ৩৭৩ রানের কঠিন লক্ষ্য দেয় রংপুর। জয়ের পিছু না ছুটে দিন কাটানোর লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে ময়মনসিংহের ওপেনার মাহফিজুল ইসলাম ১০৮ বলে ৬৮ রানের সাবলীল ইনিংস খেলেন। পরবর্তীতে চতুর্থ উইকেটে ১৬৫ বলে ৯৩ রানের জুটিতে ম্যাচ ড্রয়ের দিকে নিয়ে যান আল আমিন (৫৫*) ও আব্দুল মজিদ (৩৯)।
আশরাফুল ও আশিকুরের জোড়া সেঞ্চুরি
সিলেট আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে রান উৎসবে মেতে ওঠা ঢাকা ও সিলেটের মধ্যকার ম্যাচটির শেষ দিনেও দেখা মিলেছে দুটি সেঞ্চুরির। প্রথম ইনিংসে সাত ম্যাচের প্রথম শ্রেণির ক্যারিয়ারে প্রথম ফিফটিকে সেঞ্চুরিতে রূপ দেন সিলেটের আশরাফুল হাসান (১২২ রান)। এতে সিলেট ৪৯৬ রানে অলআউট হলে ৫১ রানের লিড পায় ঢাকা। লেগ স্পিনার আমিনুল ইসলাম ১০৮ রানে পান ৫ উইকেটের দেখা।
দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই চাপে পড়লেও তরুণ ব্যাটার আশিকুর রহমানের অপরাজিত ১০১ রানের সৌজন্যে ২১৯ রানে ইনিংস ঘোষণা করে ঢাকা। ১৭ ম্যাচের প্রথম শ্রেণির ক্যারিয়ারে এটি আশিকুরের ৪র্থ সেঞ্চুরি। এই সেঞ্চুরির সঙ্গে সঙ্গে ১ হাজার রানের মাইলফলকও স্পর্শ করেছেন তিনি। শেষ পর্যন্ত ২৭১ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে সিলেট ২ ওভারে ২ রান তুললে দুই দলই ড্র মেনে নেয়।