২৩৫ ইউনিটের বিদ্যুৎ বিল ৫০৬ কোটি টাকা!

মাগুরায় ২৩৫ ইউনিট বিদ্যুৎ ব্যবহারের বিপরীতে এক আবাসিক গ্রাহকের নামে বিল হয়েছে ৫০৬ কোটি ৮৩ লাখ ১১ হাজার ৫৯৩ টাকা! এ ঘটনায় চারজনকে শোকজ করেছে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি। পরে এই ভৌতিক বিল ভুল সংশোধন করে পরিশোধ করা হয়েছে মাত্র এক হাজার ৯৬৩ টাকা।

ঘটনাটি ঘটেছে মাগুরা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির শালিখা উপজেলার আড়পাড়া জোনাল অফিসে। বিলটি যায় মাগুরা সদর উপজেলার মঘি ইউনিয়নের কেচুয়াডুবি গ্রামের গ্রাহক মোছা. আলেয়া খাতুনের বাড়িতে।

ভুক্তভোগী গ্রাহক মোছা. আলেয়া খাতুন বলেন, ‘বিদ্যুৎ বিভাগের খামখেয়ালির কারণে এমন বিল এসেছে। এটা আমাকে চরম দুশ্চিন্তায় ফেলে দিয়েছিল।

মাগুরা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জেনারেল ম্যানেজার (জিএম) মো. মহিতুল ইসলাম বলেন, টাইপিং মিসটেকের কারণে এমনটি হয়েছিল। এ ঘটনায় শালিখা উপজেলার আড়পাড় জোনাল অফিসের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার রেজাউল করিমসহ বিলিং সুপারভাইজার, মিটার রিডার কাম ম্যাসেঞ্জার এবং বিলিং সহকারীকে শোকজ করা হয়েছে। সাত দিনের মধ্যে কারণ দর্শাতে বলা হয়েছে।

মাগুরা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির শালিখা উপজেলার আড়পাড়া জোনাল অফিসের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ডিজিএম) মো. রেজাউল করিম বলেন, ‘টাইপিং মিসটেকের কারণে এই ভুলটি হয়েছে। মিটারের ইউনিটের পরিমাণটি ঠিক ছিল। আমরা মানুষ। ভুল হতেই পারে। বিলের কপিটি সংশোধন করে দেওয়া হয়েছে। সংশোধিত বিল এসেছে এক হাজার ৯৬৩ টাকা। গ্রাহক আলেয়া খাতুন ইতিমধ্যে বিলটি পরিশোধ করে দিয়েছেন।

বিলের কপি অনুযায়ী, এক মাসে ওই গ্রাহকের বিদ্যুৎ ব্যবহার হয়েছে মাত্র ২৩৫ ইউনিট। এই বিদ্যুৎ খরচের বিপরীতে মোট বিল দেখানো হয়েছে ৪৮২ কোটি ৬৯ লাখ ৬৩ হাজার ৪২২ টাকা। এর সঙ্গে ২৪ কোটি ১৩ লাখ ৪৮ হাজার ১৭১ টাকা ভ্যাট। সর্বমোট বিল দাঁড়িয়েছে ৫০৬ কোটি ৮৩ লাখ ১১ হাজার ৫৯৩ টাকা। নির্ধারিত সময়ে বিল পরিশোধ না করলে বিলম্ব মাশুলসহ তা বেড়ে দাঁড়াবে ৫৩০ কোটি ৯৬ লাখ ৫৯ হাজার ৭৬৪ টাকা। গত ১০ সেপ্টেম্বর ইস্যু করা বিলটির পরিশোধের শেষ তারিখ ছিল ২৯ সেপ্টেম্বর। বিলটিতে গ্রাহকের শ্রেণি হিসেবে, এলটি-এ (আবাসিক) উল্লেখ করা হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *