ম্যাকাইয়ে বাকিদের ব্যর্থতার ভিড়ে একমাত্র আলো ছড়িয়েছেন শরিফুল ইসলাম। চোট থেকে ফিরেই নিজের পারফরম্যান্স দিয়ে মুগ্ধ করেছেন তিনি। অস্ট্রেলিয়ার প্রথম ইনিংসে অল্প রানে গুটিয়ে দেওয়ার কৃতিত্বও তার। অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে ক্যারিয়ার সেরা বোলিং করেছেন এই বাঁহাতি পেসার।
ম্যাকাইয়ের গ্রেট বেরিয়ার রিফ এরেনায় শরিফুলের বোলিং তোপে পড়ে রোববার সকালে নিজেদের প্রথম ইনিংসে ২১০ রানে গুটিয়ে যায় অস্ট্রেলিয়া। ক্যারিয়ারের অন্যতম সেরা এই দিনে ১৫ ওভার বল করে মাত্র ৪৮ রান খরচায় ৭টি উইকেট শিকার করেছেন শরিফুল।
আগের দিনই ছয় উইকেট নিয়ে দিন শেষ করেছিলেন শরিফুল। আজ দিনের সকালে দারুণ এক ইয়র্কারে এলবিডব্লিউয়ের ফাঁদে ফেলেন বাংলাদেশের পথের কাটা হয়ে থাকা ক্যামেরন গ্রিনকে। খালি চোখে আম্পায়ার আউট না দিলেও রিভিউ নিয়ে সফল হয় বাংলাদেশ। আর এই উইকেটের মধ্য দিয়ে দীর্ঘ ১৪৩ বছরের ইতিহাসে প্রথম বোলার হিসেবে গড়লেন নতুন রেকর্ড।
অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে সফরকারী কোনো বাঁহাতি পেসারের এক ইনিংসে ৭ উইকেট নেওয়ার সর্বশেষ কীর্তিটি ছিল ১৮৮৩ সালে। এরপর মাঝে বিংশ শতাব্দীতে কোনো সফরকারী বাঁহাতি পেসারই এই মাইলফলক ছুঁতে পারেননি। অবশেষে ২০২৬ সালে এসে সেই রেকর্ড ছুঁলেন ২৫ বছর বয়সী শরিফুল।
সব মিলিয়ে সফরকারী দেশের বোলারদের মধ্যে মাত্র তৃতীয় বাঁহাতি পেসার হিসেবে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে ৭ উইকেট নেওয়ার গৌরব অর্জন করলেন শরিফুল। এর আগে এই কৃতিত্ব কেবল ইংল্যান্ডের দুই পেসার টম এমেট (১৮৭৯ সালে ৬৮ রানে ৭ উইকেট) ও রিচার্ড বার্লোর (১৮৮৩ সালে ৪০ রানে ৭ উইকেট) নামের পাশে ছিল।
অন্যদিকে, অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে বাঁহাতি পেসারদের ইনিংসে ৭ বা তার বেশি উইকেট শিকারের রেকর্ড আছে কেবল ৭ জনের। যার মধ্যে ৪ জনই স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়ার (মাইক হুইটনি, ব্রুস রেইড, মিচেল জনসন ও মিচেল স্টার্ক)।
তবে আরেকটি রেকর্ডে ইতিহাসের দ্বিতীয় বোলার শরিফুল। অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে সফরকারী বোলার হিসেবে দ্বিতীয় সেরা বোলিং ফিগার শরিফুলের। ৪৮ রানে ৭ উইকেট শিকার করেছেন তিনি। এই তালিকায় সবার ওপরে আছেন ওয়েস্ট ইন্ডিজ তারকা কার্টলি এমব্রোস। মাত্র ২৫ রানে ৭ উইকেট শিকার করেছিলেন তিনি।