নেত্রকোনার মদনে ১১ বছরের শিশু মাদ্রাসার শিক্ষক দ্বারা ধর্ষণের শিকার হয়ে ছয় মাসের অন্তঃসত্ত্বা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। শিশুর জীবন নিয়ে শঙ্কায় ভুগছে পরিবার। মেয়েটির মা গত ২৩ এপ্রিল মদন থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মাদ্রাসার শিক্ষক আমান উল্লাহ সাগরকে আসামি করে একটি মামলা করেছেন।
মামলা হলেও ১৩ দিনে ওই শিক্ষককে গ্রেপ্তার করতে পারেনি মদন থানার পুলিশ। এ নিয়ে গতকাল সোমবার (৪ মে) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে স্থানীয় এমপি ও সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর তার ব্যক্তিগত ফেসবুক পেজে তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দা জানিয়েছেন। আসামিকে দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আসামি আমান উল্লাহ সাগরের বাড়ি উপজেলার কাইটাইল ইউনিয়নের পাঁচহাড় বড়বাড়ি গ্রামে। তিনি ওই গ্রামের হযরত ফাতেমা-তুজ-জোহরা মহিলা কওমি মাদ্রাসার পরিচালক ও শিক্ষক। ২০২২ সালে এ মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা করেন তিনি। মাদ্রাসাতে তার স্ত্রীও শিক্ষিকা হিসেবে কর্মরত আছেন।
ওই এলাকার বাসিন্দা বিধবা নারীর একমাত্র মেয়ে ভুক্তভোগী শিশু। জীবিকা নির্বাহের তাগিদে ভুক্তভোগীর মা সিলেটে গৃহপরিচালিকার কাজ করেন। ভুক্তভোগী শিশু নানির কাছে থেকে কওমি মাদ্রাসায় লেখাপড়া করত। এর মধ্যে গত নভেম্বরে আমান উল্লাহ সাগর ওই শিশুকে ধর্ষণ করেন বলে মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়।
এজাহার সূত্রে আরও জানা গেছে, ধর্ষণের ঘটনা কাউকে না জানাতে ভুক্তভোগী শিশুকে প্রাণনাশের ভয় দেখান আসামি আমান উল্লাহ সাগর। পরে ওই শিশুকে মাদ্রাসা থেকে বিতারিত করা হয়। পাঁচ মাস পার হওয়ার পর শিশুটির শারীরিক পরিবর্তন আসে। জিজ্ঞাসাবাদ করার একপর্যায়ে শিশুটি তার মায়ের কাছে জানায়, মাদ্রাসার শিক্ষক আমান উল্লাহ সাগর তাকে ধর্ষণ করেছে।
ঘটনাটি জেনে শিশুটির মা এলাকাবাসীর কাছে বিচার চান। আমান উল্লাহ সাগরের পরিবার প্রভাবশালী হওয়ায় তাদের হুমকি দেয় এবং এলাকা ছেড়ে চলে যেতে বাধ্য করে। গত ২৩ এপ্রিল শিশুটির মা মদন থানায় গিয়ে শিক্ষক আমান উল্লাহ সাগরকে আসামি করে মামলা করেন।
এ ব্যাপারে ভুক্তভোগী শিশুর মা বলেন, আমি গরিব মানুষ। আমি সিলেটে কাজ করে খাই। আমি এ ব্যাপারে মদন থানায় একটি মামলা করেছি। মামলার ১৩ দিন পার হলেও এখন পর্যন্ত ওই শিক্ষককে গ্রেপ্তার করা হয়নি। আমি তার ফাঁসি চাই।
এ বিষয়ে মদন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ তরিকুল ইসলাম বলেন, শিশুটির মা থানায় একটি মামলা করেছেন। আমরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। বিষয়টি পুলিশ সুপার দেখছেন। আমাদেরও নির্দেশনা দিয়েছেন আসামিকে দ্রুত গ্রেপ্তার করার জন্য। আশা করছি, দ্রুত তাকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হবে।