হামজনিত নিউমোনিয়া ও শ্বাসকষ্টে আক্রান্ত শিশুদের চিকিৎসা জোরদার করতে দেশব্যাপী সম্প্রসারিত হচ্ছে আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র, বাংলাদেশের (আইসিডিডিআর,বি) উদ্ভাবিত ‘বাবল সিপ্যাপ’ প্রযুক্তি। এই সাশ্রয়ী ও কার্যকর অক্সিজেন সরবরাহ ব্যবস্থা শিশু মৃত্যুহার কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।
আজ রোববার (৫ এপ্রিল) রাজধানীর মহাখালীতে আইসিডিডিআর,বি’র সাসাকাওয়া মিলনায়তনে আয়োজিত এক আলোচনা অনুষ্ঠান ও প্রশিক্ষণ কর্মশালায় বক্তারা এ তথ্য জানান।
আলোচনায় বক্তারা বলেন, দেশে সাম্প্রতিক সময়ে শিশুদের মধ্যে হাম রোগের প্রাদুর্ভাব এবং এর ফলে নিউমোনিয়া ও শ্বাসকষ্টজনিত জটিলতা বেড়ে যাওয়ায় এ প্রযুক্তি সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সহযোগিতায় এই কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। কারিগরি অংশীদার হিসেবে আইসিডিডিআর,বি দেশজুড়ে বিভিন্ন হাসপাতালের চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীদের হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ দিচ্ছে এবং বিনামূল্যে ‘বাবল সিপ্যাপ’ ইউনিট সরবরাহ করছে।
গত ২ এপ্রিল বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটে আনুষ্ঠানিকভাবে এই কার্যক্রম শুরু হয়। এরপর থেকে এখন পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন জেলার ৬৪ জন স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারীকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে এবং দুটি হাসপাতালে হামজনিত নিউমোনিয়া ও শ্বাসকষ্টের চিকিৎসায় সফলভাবে ‘বাবল সিপ্যাপ’ ব্যবহার শুরু হয়েছে।
এই ধারাবাহিক কর্মসূচির অংশ হিসেবে আজ রোববার গাজীপুর, মানিকগঞ্জ, ফরিদপুর, ময়মনসিংহ, পাবনা, নারায়ণগঞ্জ, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, বরিশাল, বরগুনা ও কক্সবাজারসহ বিভিন্ন জেলার হাসপাতালের চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীদের জন্য একটি ব্যবহারিক প্রশিক্ষণ কর্মশালার আয়োজন করা হয়।
প্রসঙ্গত, ড. মুহাম্মদ যোবায়ের চিশতী উদ্ভাবিত ‘বাবল সিপ্যাপ’ একটি স্থানীয়ভাবে তৈরি সাশ্রয়ী অক্সিজেন সরবরাহ ব্যবস্থা, যা গুরুতর নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত শিশুদের চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সুপারিশকৃত লো-ফ্লো অক্সিজেন থেরাপির তুলনায় এটি অধিক কার্যকর প্রমাণিত হয়েছে। সীমিত সম্পদের পরিবেশে শিশুদের নিউমোনিয়াজনিত মৃত্যুহার কমাতে এটি ইতোমধ্যে আশাব্যঞ্জক সাফল্য দেখিয়েছে।
২০১৩ সালের আগস্ট থেকে আইসিডিডিআর,বির ঢাকা হাসপাতালে তীব্র নিউমোনিয়া ও হাইপোক্সেমিয়ায় আক্রান্ত শিশুদের চিকিৎসায় নিয়মিতভাবে ‘বাবল সিপ্যাপ’ ব্যবহার করা হচ্ছে। বর্তমানে আফ্রিকার বেশ কয়েকটি দেশেও এই প্রযুক্তি ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে।