হামজা-জামালদের নতুন কোচ থমাস ডুলি

হাভিয়ের কাবরেরার অধ্যায় শেষ হওয়ার পর বেশ কিছুদিন ধরেই নতুন কোচের সন্ধানে ছিল বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে)। নানা আলোচনা ও টানাপোড়েনের অবসান ঘটিয়ে অবশেষে হামজা চৌধুরী-জামাল ভূঁইয়াদের প্রধান কোচ হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন থমাস ডুলি।

আজ শুক্রবার (২২ মে) এক ফেসবুক স্ট্যাটাসে ডুলিকে বাংলাদেশের প্রধান কোচ নিয়োগ দেওয়ার কথা নিশ্চিত করেছে বাফুফে। ফুটবলার ও কোচ হিসেবে দীর্ঘ ৪৫ বছরের অভিজ্ঞতা সম্পন্ন এই মার্কিন কিংবদন্তি এখন থেকে সামলাবেন লাল-সবুজের ডাগআউট।

বাফুফের ফেসবুক স্ট্যাটাসে জানানো হয়েছে, নতুন দল গড়ে তোলার ক্ষেত্রে থমাস ডুলি বিশেষভাবে পারদর্শী। এ ছাড়া এশিয়ার ফুটবলের বাস্তব চিত্র, চ্যালেঞ্জ ও সমর্থকদের আবেগ নিয়ে তার দারুণ ধারণা রয়েছে।

আগামী মাসে নিজেদের ফুটবল ইতিহাসে প্রথমবার ইউরোপ সফর করবে বাংলাদেশ। ৫ জুন ইউরোপের দেশ সান মারিনোর বিপক্ষে একটি প্রীতি ম্যাচ খেলবে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। ম্যাচের মাত্র দুই সপ্তাহ আগে ৬৫ বছর বয়সী ডুলির নিয়োগ চূড়ান্ত করল বাফুফে।

এর আগে বাংলাদেশের কোচ হওয়ার দৌঁড়ে সবচেয়ে এগিয়ে ছিলেন ক্রিস কোলম্যান। কিন্তু শেষ মুহূর্তে বনিবনা হয়নি তার সঙ্গে। পরবর্তীতে আলোচনায় ছিলেন জার্মান কোচ বার্ন্ড স্টর্ক। তার সঙ্গেও আলোচনা পাকাপোক্ত হয়নি বাফুফের।

মার্কিন সেনাবাহিনীতে কর্মরত বাবা এবং জার্মান মায়ের সন্তান থমাস ডুলি খেলোয়াড় হিসেবে ছিলেন বেশ ভালো। ১৯৯২ থেকে ১৯৯৯ সাল পর্যন্ত তিনি যুক্তরাষ্ট্র জাতীয় দলের হয়ে রক্ষণভাগ সামলেছেন। ১৯৯৪ বিশ্বকাপে তার অভিষেক হয় এবং ১৯৯৮ সালের বিশ্বকাপে তিনি যুক্তরাষ্ট্র দলকে নেতৃত্ব দেন।

জার্মানি ও যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন ক্লাবে ২০ বছর পেশাদার ফুটবল খেলার পর ২০০২ সালে কোচিং পেশায় পা রাখেন ডুলি। কোচ হিসেবেও তার প্রোফাইল বেশ ভারী। ২০১১ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত তিনি যুক্তরাষ্ট্র জাতীয় দলের সহকারী কোচ ছিলেন। সে সময় যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান কোচ ছিলেন জার্মানির বিশ্বকাপজয়ী কিংবদন্তি ইয়ুর্গেন ক্লিন্সমান।

থমাস ডুলির জন্য এশিয়ার ফুটবল পরিবেশ একেবারেই নতুন নয়। ২০১৪ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত এশিয়ার দেশ ফিলিপাইনের প্রধান কোচ ছিলেন তিনি। তার অধীনেই ফিলিপাইন দল অপরাজিত থেকে এশিয়ান কাপের মূল পর্বে খেলার যোগ্যতা অর্জন করে এবং নিজেদের ইতিহাসের সেরা ফিফা র‍্যাঙ্কিংয়ে পৌঁছায়।

পরবর্তীতে ২০২২ সালে আবারও সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্য ফিলিপাইনের দায়িত্ব নেন তিনি। আর বাংলাদেশ দলে আসার ঠিক আগে ২০২৫ সাল থেকে মধ্য আমেরিকার দেশ গায়ানার প্রধান কোচ হিসেবে কাজ করছিলেন ডুলি। তার অধীনে খেলা ৪ ম্যাচের চারটিতেই জয় পেয়েছিল গায়ানা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *