মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতি নিয়ে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে পুনরায় আলোচনায় ফিরে এসেছে এবং তাদের সামরিক পদক্ষেপ আপাতত স্থগিত রয়েছে। তবে বাস্তব চিত্র হলো ইরানকে কেন্দ্র করে মধ্যপ্রাচ্যের এই যুদ্ধ হরমুজ প্রণালির বাইরে আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক পথগুলোর ওপর প্রভাব ফেলছে এবং ইরানের অভ্যন্তরীণ বাজারও এর আওতার বাইরে নেই।
কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালি প্রায় পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাওয়া, ইয়েমেনের ইরানপন্থি হুতিদের মাধ্যমে লোহিত সাগরে বিঘ্ন সৃষ্টি করা এবং কাস্পিয়ান সাগরে ইউক্রেন কর্তৃক একটি ইরানি জাহাজে হামলার ঘটনায় সংঘাত ও উত্তেজনার পারদ উঁচুই রয়ে গেছে।
দ্বিতীয়বারের মতো যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী ইরানের দক্ষিণাঞ্চলীয় বন্দরগুলোতে নৌ অবরোধ আরোপ করার ফলে তীব্র সামাজিক ও অর্থনৈতিক অসন্তোষের মধ্যেই জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর সম্ভাব্য সিদ্ধান্তসহ আরও বেশ কিছু কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হচ্ছে দেশটির সরকার।
ইরানের তেল মন্ত্রণালয় শনিবার জানিয়েছে, গত মাসে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে স্বাক্ষরিত ও বর্তমানে স্থগিত হওয়া সমঝোতা স্মারকের সময়কালে ৬৫০ কোটি ডলারসহ, যুদ্ধ চলাকালীন তারা সর্বমোট ১১৫০ কোটি ডলারের অপরিশোধিত তেল বিক্রি করেছে। তবে এতে নির্দিষ্ট কোনো তারিখ উল্লেখ করা হয়নি। মন্ত্রণালয় বলেছে, এই সম্মিলিত আয় বাজেটে নির্ধারিত পূর্ণ বছরের তেল রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রার ৬০ শতাংশ।
গত ১৭ জুনের সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের ফলে হরমুজ প্রণালি আংশিকভাবে পুনরায় খুলে দেওয়া হয় এবং ইরানের ওপর থেকে মার্কিন নৌ অবরোধ তুলে নেওয়া হয়। এটি বিশ্ব তেল বাজারে কিছুটা চাপ কমায় এবং ইরানকে তার আঞ্চলিক জলসীমায় অপেক্ষমাণ সুপারট্যাঙ্কারগুলোতে জমা করে রাখা তেল রপ্তানির সুযোগ দেয়। ইরানের তেল মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বছরের প্রথম অর্ধে তেলের বাড়তি দাম প্রায় ৩০০ কোটি ডলার অতিরিক্ত মূল্য তৈরি করেছে এবং মার্কিন নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও এই আয় থেকে এখন পর্যন্ত ১১০০ কোটি ডলার সরকারি কোষাগারে স্থানান্তর করা হয়েছে।
১৩ এপ্রিলের আরোপ করা পূর্ববর্তী অবরোধটি দুই মাসেরও কিছুটা বেশি সময় স্থায়ী হয়েছিল, যখন ইরানি কর্তৃপক্ষ প্রায় শূন্যের কাছাকাছি অপরিশোধিত তেল রপ্তানির কথা স্বীকার করেছিল। দীর্ঘমেয়াদী দ্বিতীয় অবরোধের ফলে ইরানের রপ্তানি রাজস্ব আরও কমে যাওয়ার ঝুঁকি দেখা দিয়েছে। একইসাথে খার্গ দ্বীপের ওপর চাপ বৃদ্ধি পাচ্ছে, যেটির মধ্য দিয়ে ইরানের প্রায় ৯০ শতাংশ অপরিশোধিত তেল রপ্তানি হয়। এতে করে অন্যান্য ইরানি মজুদ ও রপ্তানি কেন্দ্রগুলোও চাপে পড়বে, যা পেট্রোকেমিক্যাল প্ল্যান্টগুলোর উৎপাদনে প্রভাব ফেলতে পারে।
মার্কিন সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) শনিবার জানিয়েছে, জুলাইয়ের মাঝামাঝি থেকে শুরু হওয়া অবরোধ ভাঙার চেষ্টা করা ১২টি বাণিজ্যিক জাহাজকে সেনাসদস্যরা ঘুরিয়ে দিয়েছে। কথা না শোনা দুটি জাহাজকে অকার্যকর করা হয়েছে এবং শতভাগ কমপ্লায়েন্স নিশ্চিত করতে দুটিতে তল্লাশি চালানো হয়েছে।
মার্কিন সামরিক বাহিনী কিছু সশস্ত্র সেনার ভিডিও প্রকাশ করেছে, যেখানে তাদের একটি হেলিকপ্টার থেকে দড়ি বেয়ে ‘চারমিনার’ নামে ইরানের সঙ্গে সম্পৃক্ত একটি তেল ট্যাঙ্কারের ডেকে নামতে দেখা যায়। শমখানি নেটওয়ার্কের অংশ হওয়ার অভিযোগে গত বছর থেকে যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার তালিকায় রয়েছে ট্যাঙ্কারটি। যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, ইরানি তেল ব্যবসায়ী মোহাম্মদ হোসেন শমখানি ইরান ও রাশিয়ার ছায়া নৌ বহর পরিচালনায় মুখ্য ভূমিকা পালন করেন।
হরমুজ প্রণালি বন্ধ রাখতে ইরানও প্রতিদিন একাধিক জাহাজকে ফেরত পাঠাচ্ছে বলে জানিয়েছে। একইসাথে দেশের সশস্ত্র বাহিনী জোর দিয়ে বলেছে যে, তারা কোনো চাপের কাছে মাথা নত করবে না। রোববার ইরানি গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হরমুজ প্রণালিতে একটি নৌ মাইনের সঙ্গে সংঘর্ষের পর একটি জাহাজ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
সেন্টকম টানা দুই রাত ইরানের ওপর ব্যাপক বোমা হামলা চালানো থেকে বিরত ছিল। জাতিসংঘে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত মাইক ওয়াল্টজ বলেছেন, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তেহরানের সঙ্গে আলোচনার বিষয়ে ‘কিছু সুযোগ’ দিতেই তা করছেন।
ইরানও পুরো অঞ্চলজুড়ে তাদের প্রতিশোধমূলক হামলা বন্ধ রেখেছে। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার বিষয়ে ওমানের সঙ্গে আলোচনা ফলপ্রসূ হয়েছে।
ইরানের অভ্যন্তরীণ চিত্র
তেল রপ্তানির এই বাধাগুলো কিন্তু ইরানের বিদ্যমান অর্থনৈতিক সংকটকে আরও বাড়িয়ে তুলছে, যা দেশের অভ্যন্তরীণ কাঠামোগত সমস্যা, অব্যবস্থাপনা এবং বছরের পর বছর ধরে চলা কঠোর নিষেধাজ্ঞার সঙ্গে জড়িত।
ফেব্রুয়ারির শেষের দিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার মাধ্যমে শুরু হওয়া যুদ্ধে ইরানের অবকাঠামোর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে এবং সংঘাত বাড়লে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে।
দেশটির সরকার গত মাসে জানিয়েছিল, যুদ্ধপূর্ববর্তী দৈনিক প্রায় ৬৫ কোটি ঘনমিটার প্রাকৃতিক গ্যাস উৎপাদনের মধ্যে মার্কিন ও ইসরায়েলি বোমাবর্ষণের কারণে দৈনিক প্রায় ২৩ কোটি ঘনমিটার উৎপাদন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যা বিদ্যুৎ ও পেট্রোকেমিক্যাল ঘাটতিকে আরও তীব্র করে তুলেছে।
এ প্রসঙ্গে পার্স স্পেশাল ইকোনমিক এনার্জি জোনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেখাওয়াত আসাদী রোববার বলেন, আগামী কয়েক মাসের মধ্যে হারানো উৎপাদন ক্ষমতার ১০ কোটি ঘনমিটারেরও বেশি ফিরিয়ে আনার আশা করছে ইরান।
দেশটিতে প্রতিদিন ২ কোটি লিটারেরও বেশি পেট্রোলের ঘাটতি থাকায় কর্তৃপক্ষ জ্বালানির ভারসাম্যহীনতা সামাল দিচ্ছে। এই ঘাটতি পূরণ করা হচ্ছে সীমিত কিন্তু ব্যয়বহুল আমদানি, জ্বালানি উপাদানের মিশ্রণ তৈরি, যুদ্ধের আগে মজুদ করা ইনভেন্টরি ব্যবহার করা এবং নাগরিকদের বারবার কম খরচ করার অনুরোধ জানানোর মাধ্যমে।
ইরানের জ্বালানি মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এই ভারসাম্যহীনতা দীর্ঘায়িত হলে মাসিক জ্বালানি খরচের সীমা আরও কঠোর করা হতে পারে। চলতি সপ্তাহে সরকার জানিয়েছে যে, তারা ব্যক্তিগতভাবে বরাদ্দ করা মাসিক পেট্রোল কোটার তৃতীয় ধাপের দাম দ্বিগুণ করার বিষয়টি গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করছে।
গত ডিসেম্বরেও পেট্রোলের দাম বাড়ানো হয়েছিল। এর কয়েক সপ্তাহ পরেই দেশজুড়ে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে এবং জানুয়ারি মাসে সরকারি দমনপীড়নে হাজার হাজার মানুষ প্রাণ হারায়। এর আগে ২০১৯ সালের নভেম্বরে হঠাৎ গভীর রাতে জ্বালানির দাম বাড়ানোর ফলেও দেশব্যাপী সহিংস বিক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছিল।
বর্তমানে ইরানের রাজধানী তেহরানসহ সারা দেশের শহরগুলো পর্যায়ক্রমিক বিদ্যুৎ বিভ্রাটের সম্মুখীন হচ্ছে, যা পানি সরবরাহ এবং যোগাযোগ ব্যবস্থাতেও বিঘ্ন ঘটাচ্ছে। প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান বলেছেন, তিনি একটি ক্ষতবিক্ষত কর্মসংস্থান বাজারকে আরও উত্তপ্ত করা এড়াতে সেপ্টেম্বরের শেষ পর্যন্ত শিল্প কারখানাগুলোতে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন না করার নির্দেশ দিয়েছেন।
হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে যাওয়ার ফলে ইরানের বৃহত্তম বাণিজ্যিক অংশীদার এবং তেলের ক্রেতা চীনের সাথে দেশটির বাণিজ্যে বড় ধাক্কা লেগেছে। যুদ্ধের কারণে তৈরি হওয়া পরিস্থিতির সাথে খাপ খাওয়াতে চীন সামগ্রিকভাবে তাদের অপরিশোধিত তেল আমদানি অনেকটাই কমিয়ে দিয়েছে।
তবে চীনের শুল্ক তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের একই সময়ের তুলনায় চলতি বছরের মার্চ ও জুনে দুই দেশের মধ্যে তেল ছাড়া অন্যান্য বাণিজ্য ৭৫ শতাংশ কমে গেছে।
কর্তৃপক্ষ দুই দফায় সারা দেশে প্রায় পুরোপুরি ইন্টারনেট বন্ধ করে দেয়— প্রথমটি জানুয়ারির বিক্ষোভের সময় এবং পরবর্তীতে যুদ্ধের সময়। এটি চলতি বছর ইরানের অর্থনীতির পরিস্থিতিকে কেবল আরও অবনতির দিকে নিয়ে গেছে, যেখানে দেশটি দীর্ঘস্থায়ী মুদ্রাস্ফীতি এবং জনগণের ক্রয়ক্ষমতা দ্রুত হ্রাসের সঙ্গে লড়াই করছে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় পেনশন তহবিলের সঙ্গে অধিভুক্ত গবেষণাপ্রতিষ্ঠান ‘সাবা পেনশন স্ট্র্যাটেজিস ইনস্টিটিউট’-এর গত বছরের একটি প্রতিবেদনে দেখা গেছে, পাঁচ বছর আগে যেখানে ৩০ শতাংশেরও বেশি ইরানি দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাস করত, সেখানে এই হার চলতি বছরে ৪৫ শতাংশে পৌঁছাবে বলে অনুমান করা হচ্ছে।
বাব আল-মান্দেব ও কাস্পিয়ান সাগরে সংঘাতের বিস্তার
যুদ্ধ তীব্র হলে সামুদ্রিক চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টির ব্যাপ্তি লোহিত সাগর পর্যন্ত ছড়িয়ে দেওয়ার বারবার হুমকির পর, ইয়েমেনের হুতিরা গত সপ্তাহে সৌদি আরবের বিরুদ্ধে নৌ-অবরোধের ঘোষণা দেয়। তারা বাব আল-মান্দেব প্রণালির কাছাকাছি চলাচলকারী জাহাজগুলোকে ফেরত পাঠায়। পাশাপাশি সৌদি আরবের তেল স্থাপনাগুলোতেও বোমা হামলা চালায়।
চীনা সুপারট্যাঙ্কারসহ বহু পণ্যবাহী জাহাজ এখনো এই প্রণালির মধ্য দিয়ে যাতায়াত অব্যাহত রেখেছে, তবে যুদ্ধজনিত ঝুঁকির প্রিমিয়াম বেড়ে যাওয়ায় সবার জন্যই আমদানি ও বীমা খরচ বেড়ে গেছে।
সৌদি কর্তৃপক্ষ পুরো ইয়েমেন জুড়ে বড় ধরনের বিমান হামলা চালিয়ে এর জবাব দিয়েছে।
অন্যদিকে, উত্তর দিকে কাস্পিয়ান সাগরে ইউক্রেন একটি জাহাজে হামলা চালানোর কথা নিশ্চিত করেছে। প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি অভিযোগ করেছেন, জাহাজটিতে ইরান সংশ্লিষ্ট পক্ষের সামরিক মালামাল বহন করা হচ্ছিল।
ইরানি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এটি রাশিয়ার ভলগা নদীর একটি বন্দর আস্ত্রাখান থেকে লোহা আমদানি করে উত্তর ইরানের বন্দর আনজালি গামী একটি সাধারণ বাণিজ্যিক জাহাজ ছিল। তারা জানায়, এতে একজন নাবিক নিহত এবং তিনজন আহত হয়েছে।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তেহরানে নিযুক্ত ইউক্রেনের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্সকে তলব করে এর তীব্র প্রতিবাদ জানায় এবং সতর্ক করে বলে যে, এ ধরনের কর্মকাণ্ড ‘জবাবহীন’ অবস্থায় থাকবে না।
এই ঘটনাটি এমন এক আশঙ্কার জন্ম দিয়েছে যে, বাণিজ্যিকভাবে নিরাপদে ব্যবহৃত আগের কাস্পিয়ান সাগর জলপথটিও হয়তো আরও সামরিক সংঘাতের ময়দানে পরিণত হতে পারে।
কাস্পিয়ান সাগরে ইরানের বাণিজ্য প্রধানত রাশিয়া, কাজাখস্তান, তুর্কমেনিস্তান এবং আজারবাইজানের সঙ্গে হয়ে থাকে। দেশটি এসব দেশ থেকে গম ও অন্যান্য শস্য যেমন ভুট্টা, বার্লি এবং পশুখাদ্যের পাশাপাশি কাঠ ও সারের মতো নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য আমদানি করে।
উত্তরভাগের এই সামুদ্রিক পথের মাধ্যমে ইরানের রপ্তানি হওয়া পণ্যের মধ্যে রয়েছে নির্মাণ সামগ্রী, ইস্পাত পণ্য, কৃষি পণ্য এবং কিছু প্রক্রিয়াজাত পেট্রোকেমিক্যাল পণ্য।
উদ্বেগের বিষয় হলো- ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক বিশ্লেষক মেহেদি খারাতিয়ান গতকাল রোববার এক্স-এ লিখেছেন, ‘আমরা এখন বলতে পারি যে, মধ্যপ্রাচ্য এবং ইউক্রেনের দুটি যুদ্ধক্ষেত্র ক্রমশ একে অপরের সঙ্গে অঙ্গাঙ্গীভাবে জড়িয়ে পড়ছে।’
