দীর্ঘদিন ধরে পরিবারের কাছে মোটরসাইকেল কেনার আবদার করে আসছিল জাবির খালেদ। অবশেষে পূরণ হয়েছিল তার সেই স্বপ্ন। কিন্তু নিয়তির নির্মম পরিহাস—স্বপ্নের সেই মোটরসাইকেলই কেড়ে নিল তার প্রাণ। এই দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছে তার আরেক বন্ধু রিয়াদ হোসেন।
দিনাজপুরের চিরিরবন্দরে ঘটে যাওয়া এই মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে পরিবার, স্বজন ও সহপাঠীদের মধ্যে।
আজ শনিবার (৩০ মে) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে উপজেলার ফতেজংপুর ইউনিয়নের দশমাইল হাইওয়ে থানার পশ্চিম পাশে গাড়োডাঙ্গি ব্রিজের ওপর একটি প্রাইভেটকারের সঙ্গে মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন চিরিরবন্দরের বিশিষ্ট চক্ষু সার্জন ডা. খালেদ সাগরের একমাত্র ছেলে জাবির খালেদ এবং তেঁতুলিয়া ইউনিয়নের বৈকুণ্ঠপুর গ্রামের শাহাপাড়া এলাকার মো. দুলাল হোসেনের ছেলে মো. রিয়াদ হোসেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, জাবির ও রিয়াদ দুজনেই আমেনা-বাকি রেসিডেন্সিয়াল মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজের একাদশ শ্রেণির মেধাবী শিক্ষার্থী। শনিবার বিকেলে তারা মোটরসাইকেলে করে সৈয়দপুরের উদ্দেশে রওনা দেন। পথে গাড়োডাঙ্গি ব্রিজ এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি প্রাইভেটকারের সঙ্গে তাদের মোটরসাইকেলটির মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়।
এ সময় তারা গুরুতর আহত হলে স্থানীয়রা দ্রুত উদ্ধার করে রংপুরের ডক্টরস হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর দুজনকেই মৃত ঘোষণা করেন।
স্বজনরা জানায়, জাবির দীর্ঘদিন ধরে মোটরসাইকেল কেনার আবদার করে আসছিল। সম্প্রতি পরিবারের পক্ষ থেকে তার সেই ইচ্ছে পূরণ করা হয়। কিন্তু আনন্দের সেই উপলক্ষ বেশিদিন স্থায়ী হয়নি। যে মোটরসাইকেল তাকে স্বপ্নপূরণের সুখ এনে দিয়েছিল, সেটিই শেষ পর্যন্ত তার জীবনের সমাপ্তির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। একই সঙ্গে নিভে যায় তার বন্ধু রিয়াদের সম্ভাবনাময় জীবনও।
দুই মেধাবী শিক্ষার্থীর আকস্মিক মৃত্যুতে পরিবারগুলোতে চলছে শোকের মাতম। সহপাঠী, শিক্ষক ও এলাকাবাসী তাদের নিয়ে গভীর শোক প্রকাশ করেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ছড়িয়ে পড়েছে শোকের আবহ।
চিরিরবন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহমুদুন নবী দুর্ঘটনায় দুই শিক্ষার্থীর মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ‘ঘটনাটি অত্যন্ত মর্মান্তিক ও দুঃখজনক। এ ঘটনায় এলাকায় একটি ইউডি মামলা হয়েছে। এ ছাড়া যদি তাদের পরিবার মামলা করে তাহলে তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’