সুনামগঞ্জে এক সপ্তাহে ২০০ কোটি টাকার ফসলের ক্ষতি

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে সুনামগঞ্জে গত এক সপ্তাহে ২০০ কোটি টাকার বোরো ফসলের ক্ষতি হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) বিকেল পর্যন্ত ৫১ ভাগ ফসল কাটা হয়েছে। তবে কৃষকদের দেওয়া তথ্যমতে, এই ক্ষতি আরও অনেক বেশি হবে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানায়, এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহ থেকে বৃষ্টিপাত শুরু হলে সুনামগঞ্জের হাওরে জলাবদ্ধতা দেখা দেয়। এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহেই জলাবদ্ধতায় প্রথম দফায় পানির নিচে তলিয়ে নষ্ট হয় ধান। তখন ধান না পাকায় পানির নিচে তলিয়ে গেলেও কেটে আনা সম্ভব হয়নি। দ্বিতীয় দফায় আবার ২৬ এপ্রিল থেকে টানা বৃষ্টিপাত শুরু হলে পাকা ধান পানির নিচে তলিয়ে যায়। এ সময় পানি কম থাকলেও শ্রমিক সংকটে ধান কেটে আনা সম্ভব হয়নি। বৃষ্টির সঙ্গে বজ্রপাত শুরু হলে পাঁচ দিনে আট কৃষক নিহত হওয়ায় হাওরে বজ্রপাত আতংক শুরু হয়। গত রবি ও সোমবার রাত-দিন টানা বৃষ্টিপাতে সুনামগঞ্জের ১২ উপজেলার সব হাওরে বেশিরভাগ ধান ডুবে গেছে। পানির নিচে থাকায় সেই ধান কেটে আনতে পারেনি কৃষকরা।

এদিকে উচ্চ মূল্যে শ্রমিক দিয়ে এক সপ্তাহে যে ধান কেটে এনেছিলেন শুকাতে না পারায় সেই ধানও নষ্ট হয়ে গেছে। বর্তমানে হাওরজুড়ে ফসল হারা কৃষকের আর্তনাদ।

মোল্লাপাড়া ইউনিয়নের ইসলামপুর গ্রামের মো. রফিকুল ইসলাম জানান, যা জমি করেছি সব পানির নিচে। কেটে আনার সাধ্য নেই। যাও কিছু পানি ঢোকার আগে কেটে এনেছিলাম সেসব ধান খলাতেই পড়ে আছে চারা উঠে গেছে। আমাদের আর কিছুই করার নেই।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী সুনামগঞ্জে ১৩ হাজার ৭৯ হেক্টর বোরো ফসলের ক্ষতি হয়েছ যার প্রাথমিক মূল্য ধরা হয়েছে ২০০ কোটি টাটাকা। এ বছর দুই লাখ ২৩ হাজার হেক্টর বোরো ধানের আবাদ হয়েছে। বৃহস্পতিবার বিকেল  পর্যন্ত ৫১ ভাগ ফসল কাটা হয়েছে। জমিতে আরও ৪৯ ভাগ ফসল রয়ে গেছে। 

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. ওমর ফারুক বললেন, বাঁধ ভেঙেছে দুটি। এগুলো হচ্ছে- মধ্যনগরের এরন বিল এবং একই উপজেলার জিনারিয়া বাঁধ। এই বাঁধগুলো বড় হাওরের না হলেও এসব বাঁধ ভেঙে তিনটি ছোট হাওরে পানি ঢুকেছে। জলাবদ্ধতায় পড়ে পানিতে তলিয়েছে  ১৩ হাজার হাজার ৭৯ হেক্টর জমির ফসল। যার আনুমানিক বাজার মূল্য ২০০ কোটি টাকা।

জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ড বলছে আগামী ২ মে পর্যন্ত বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকবে। নদ-নদীর পানি বাড়ছে। এই পানি বাড়ার লক্ষ্মণ বলছে আগাম একটা বন্যা হবে। বৃষ্টি হলে হাওরে আরও পানি বাড়বে, পানি বাড়লে ফসলের আরও ক্ষতি হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *