সিলেট টেস্ট

কাজের কাজটা করলেন তাইজুল

বাবর আজমকে ফিরিয়ে পাকিস্তানের প্রতিরোধ ভেঙেছিলেন তাইজুল ইসলাম। এরপর তোপ দাগলেন নাহিদ রানা। পরের ওভারে এসে আবারও পথের কাটা সরালেন তাইজুল। দ্রুতই তিন উইকেট হারিয়ে চাপে পড়েছে পাকিস্তান। জয়ের সুবাস পাচ্ছে বাংলাদেশ।

আজ মঙ্গলবার (১৯ মে) সিলেট ইন্টারন্যাশনাল ক্রিকেট স্টেডিয়ামে নিজেদের দ্বিতীয় ইনিংসে এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত ৫ উইকেট হারিয়ে ১৬২ রান তুলেছে পাকিস্তান। এখনো তারা পিছিয়ে আছে ২৭৫ রানে।

বাবর ফেরার পর উইকেটে এসেছিলেন সৌদ শাকিল। রক্ষণাত্মক ব্যাটিংয়ে খেলার চেষ্টা করছিলেন তিনি। ৪৪তম ওভারে তার সেই চেষ্টা বিফলে গেল। নাহিদ রানার গতির বল ব্যাট স্পর্শ করে জমা হয় লিটন দাসের গ্লাভসে। আম্পায়ার আউট দিলেও রিভিউ নিয়েছিলেন শাকিল। কিন্তু সেটি টিকল না। ২১ বলে ৬ রান করে ফিরে গেলেন তিনি।

পরের ওভারে কাজের কাজটাই যেন করলেন তাইজুল। উইকেটে থিতু হয়ে থাকা পাকিস্তান অধিনায়ক শান মাসুদকে মাহমুদুল হাসান জয়ের দারুণ ক্যাচ বানিয়ে ফেরত পাঠান তাইজুল। ১১৬ বলে ৭১ রানের ইনিংস থামে মাসুদের।

পাকিস্তানের প্রতিরোধ ভাঙলেন তাইজুল

দিনের শুরুতেই পাকিস্তানের দুই ওপেনারকে ফিরিয়ে দিয়েছিল বাংলাদেশ। শুরুর সেই ধাক্কা সামলে প্রতিরোধ গড়ে তুলেন শান মাসুদ আর বাবর আজম। দুজন মিলে আক্ষেপ বাড়াচ্ছিলেন বাংলাদেশের বোলারদের। বাবরকে ফিরিয়ে সেই প্রতিরোধ ভাঙলেন তাইজুল ইসলাম।

দুই ওপেনার ফেরার পর জুটি বাঁধেন দুই অভিজ্ঞ শান মাসুদ আর বাবর আজম। তৃতীয় উইকেটে প্রায় শতক ছোঁয়া জুটি গড়েছিলেন এই দুজন। মধ্যাহ্ন বিরতি থেকে ফেরার পর ৯২ রানের সেই জুটি ভাঙলেন তাইজুল।

৩৫তম ওভারে তাইজুলের লেগসাইডে বেড়িয়ে যাওয়া বল ব্যাট স্পর্শ করে জমা হয় উইকেটরক্ষক লিটন দাসের গ্লাভসে। ফেরার আগে ৫২ বলে ৪৭ রান করেন তিনি।

দারুণ ক্যাচের পর উইকেটও নিলেন মিরাজ

একটু আগেই নাহিদ রানার বলে স্লিপে দারুণ ক্যাচ নিয়েছিলেন মেহেদী হাসান মিরাজ। এবার নিজেও নাম লেখালেন উইকেট শিকারীর তালিকায়। ফেরালেন দারুণ ফর্মে থাকা পাকিস্তানি ওপেনার আজান আওয়াইশকে।

ঢাকা টেস্টে অভিষেক হওয়া পাকিস্তানি ওপেনার আজান বাংলাদেশের মাথা ব্যথার কারণ। তাকে ছেঁটে ফেলে সেই মাথাব্যথা দূর করলেন মেহেদী হাসান। ১৬তম ওভারে এলবিডব্লিউয়ের ফাঁদে ফেলে আজানকে ফেরান মিরাজ। রিভিও নিয়েও কাজ হয়নি আজানের। ফিরেছেন ৪৯ বলে ২১ রান করে।

নাহিদের আগ্রাসনে সকাল শুরু বাংলাদেশের

চতুর্থ দিনের শুরুটা মন্দ হলো না বাংলাদেশের। প্রথম উইকেটের দেখা পেতে খুব বেশি অপেক্ষা করতে হলো না স্বাগতিকদের। বাংলাদেশকে প্রথম ব্রেক-থ্রু এনে দিলেন নাহিদ রানা।

ম্যাচের ১১তম ওভারে নাহিদ রানার দ্বিতীয় বলে গালিতে দুর্দান্ত ক্যাচ নেন মেহেদী হাসান মিরাজ। ফেরার আগে পাকিস্তান ওপেনার আব্দুল্লাহ ফজলের ব্যাট থেকে এসেছে ২৮ বলে ৬ রান।

পাকিস্তানকে করতে হবে বিশ্বরেকর্ড

এর আগে কোনো উইকেট না হারিয়ে শূন্য রানে চতুর্থ দিন শুরু করেছিল পাকিস্তান। আগের দিন শেষ বিকেলে দুই ওভার ব্যাট করে কোনো রান যোগ করতে পারেননি পাকিস্তানের দুই ওপেনার আজান আওয়াইস ও আব্দুল্লাহ ফজল।

দুই ইনিংস মিলিয়ে পাকিস্তানকে ৪৩৭ রানের লক্ষ্য দিয়েছিল বাংলাদেশ। এই রান তাড়া করে জিততে হলে পাকিস্তানকে বিশ্বরেকর্ড গড়তে হবে। প্রায় দেড়শ বছরের টেস্ট ইতিহাসে ৪১৮ রানের বেশি তাড়া করে জিততে পারেনি কোনো দল। পাকিস্তানের ইতিহাসে সর্বোচ্চ ৩৭৭ রান তাড়া করার কীর্তি আছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *