সামির-নিশাঙ্কার ব্যাটে মুম্বাইকে সহজেই হারাল দিল্লি

দারুণ বোলিংয়ে মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সকে বড় রান গড়তে দেয়নি দিল্লি ক্যাপিটালস। সেই রান তাড়ায় নেমেও বড় ধাক্কা খায় দিল্লি। তবে দলের বিপদে কাণ্ডারি হয়ে দেখা দেন সামির রিজভী। তাকে সঙ্গ দেন পাথুম নিশাঙ্কা। এই দুই জনের ব্যাটিংয়ে জয় তুলে নেয় দিল্লি।

আজ শনিবার (৪ এপ্রিল) দিল্লির অরূণ জেটলি স্টেডিয়ামে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৬ উইকেট হারিয়ে ১৬২ রান করে মুম্বাই। জবাব দিতে নেমে ১৮.১ ওভারে ৪ উইকেট হারিয়ে লক্ষ্যে পৌঁছে যায় দিল্লি। জয় তুলে নেয় ৬ উইকেটের।

মাঝারি লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুতেই বড় ধাক্কা খায় মুম্বাই। ইনিংসের প্রথম দুই ওভারেই হারায় দুই উইকেট। ৩ বলে মাত্র ১ রান করে ফিরে যান ওপেনার কেএল রাহুল। দ্বিতীয় ওভারে কোনো রান না করেই রানআউটে কাটা পড়েন নিতিশ রানা।

তৃতীয় উইকেট জুটিতে প্রতিরোধ গড়ে সেই ধাক্কা সামাল দেন ওপেনার পাথুম নিশাঙ্কা আর সামির রিজভী। ৪৯ বলে ৬৬ রানের জুটিতে দলকে পথ দেখান এই দুজন। ৩০ বলে ৪৪ রান করে নিশাঙ্কা ফিরলে ভাঙে এই জুটি।

এরপর ডেভিড মিলারকে নিয়ে বিধ্বংসী জুটি গড়েন সামির। মাত্র ৩৯ বল থেকে ৭৮ রান আসে তাদের এই চতুর্থ উইকেট জুটি থেকে। বাইশ গজে ঝড় তুলে সেঞ্চুরির দিকে ছুটছিলেন সামির। তবে শেষ পর্যন্ত তিনি থেমেছেন নার্ভাস নাইটিতে। ৫১ বলে ৯০ রান এসেছে সামির ব্যাট থেকে।

সামির যখন ফিরলেন তখন দিল্লির জয়ের জন্য ১২ রান প্রয়োজন ছিল। ট্রিস্টান স্টাবসকে নিয়ে অনায়াসেই সেই রান তুলে নেন ডেভিড মিলার। ১৮ বলে ২১ রানে অপরাজিত থাকেন তিনি। আর ৪ বলে ৩ রানে অপরাজিত থাকেন স্টাবস।

মুম্বাইয়ের হয়ে সমান একটি করে উইকেট নেন দিপক চাহার, মিচেল স্যান্টনার আর করবিন বোশ।

এর আগে টস হেরে ব্যাট করতে নেমে শুরটা ভালো হয়নি মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের। দলীয় ১৮ রানের মাথায় হারায় দুই উইকেট। ১১ বলে ৯ রান করে ফিরে যান ওপেনার রায়ান রিকেল্টন আর রানের খাতা খোলার আগেই ফেরেন তিন নম্বরে নামা তিলক ভার্মা।

তৃতীয় উইকেট জুটিতে শুরুর সেই ধাক্কা সামাল দেন রোহিত শর্মা আর সূর্যকুমার যাদব। দুজন মিলে গড়েন ৫৩ রানের জুটি। ২৬ বলে ৩৫ রান করে রোহিত ফিরলে ভাঙে সেই জুটি। এরপর দ্রুতই ফিরে যান চার নম্বরে নামা শেরফান রাদারফোর্ড (৭ বলে ৫)।

একপ্রান্ত আগলে রেখে দলের রানের চাকা সচল রাখছিলেন সূর্যকুমার। ব্যক্তিগত হাফসেঞ্চুরিও তুলে নেন তিনি। তবে এরপর আর বেশি দূর যেতে পারেননি। শেষ পর্যন্ত ফিরেছেন ৩৬ বলে ৫১ রান করে।

মিডল অর্ডারে নেমে দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ে দলের রান বাড়িয়ে নেন নামান ধীর। ২১ বলে ২৮ রান করেন তিনি। আর শেষদিকে দলীয় রান দেড়শ পার করেন মিচেল স্যান্টনার আর করবিন বোশ। ১৩ বলে ১৮ রান করে অপরাজিত থাকেন স্যান্টনার আর ৪ বলে ১১ রানে বোশ।

দিল্লির হয়ে সর্বোচ্চ দুটি উইকেট শিকার করেন মুকেশ কুমার। একটি করে উইকেট যায় লুঙ্গি এনগিদি, অক্ষর প্যাটেল, বিপ্রজ নিগম আর থাঙ্গারাসু নটরাজনের ঝুলিতে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *