বিদ্যুৎ জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেছেন, সমুদ্র বিজয় নিয়ে অনেক লাফালাফি করা হয়েছে। বলা হয়েছে তারা হেরে গেছে, তারা কিন্তু সেসব জায়গা থেকে গ্যাস উত্তোলন করছে। সমুদ্রের খনিজ সম্পদ নিয়েও কথা বলা হয়েছে, কিন্তু কাজের কাজ কিছু করেনি। বিডিং রাউন্ড-২০২৬ এর মাধ্যমে অনেক দিনের জট খুলতে সক্ষম হয়েছেন বলে মনে করেন মন্ত্রী।
রোববার (২৪ মে) জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের সম্মেলন কক্ষে অফসোর বিডিং রাউন্ড উপলক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ মন্তব্য করেন।
মন্ত্রী আরও বলেন, অনেক কোম্পানি আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করছে, বিশেষ করে আমেরিকান ও চীনা কোম্পানি আগ্রহ দেখাচ্ছে। এবার সাগরে তেল-গ্যাস অনুসন্ধানের দরপত্র সফল হবে বলে আমার বিশ্বাস।
তিনি বলেন, আমার সঙ্গে আমেরিকান কোম্পানি এক্সোন মবিল যোগাযোগ করছে। মূলত যারা দরপত্রে অংশগ্রহণ করবে তারা কমফোর্ট জোন খোঁজে। আমরা জনগণের ম্যান্ডেট নিয়ে এসেছি। এখানে প্রশ্ন নেই, তাদের আস্থার জায়গা ঠিক রয়েছে।
তিনি বলেন, বিডিং রাউন্ডের মাধ্যমে অনেক দিনের জট খুলতে সক্ষম হয়েছি। অতীতে আমরা বিদেশমুখী হয়েছিলাম, অনেক ক্ষতি হয়েছে। দেশের অর্থনীতির উপর বিশাল চাপ পড়েছে। বিএনপি সব সময় জাতীয়তাবাদকে সামনে রেখে কাজ করেছে। ১৮০ দিনের পূর্বেই বিডিং করতে পেরেছি এটি আনন্দের সংবাদ।
মন্ত্রী বলেন, সর্বশেষ সফল বিডিং রাউন্ড হয়েছে আমাদের সরকারের সময় ১৯৯৩ সালে। ওই বিডিং রাউন্ড থেকেই করা চুক্তির মাধ্যমে গ্যাসের বড় একটি অংশ আসছে। জ্বালানি দেশের উন্নয়নের নিয়ামক শক্তি। আমরা নিরাপত্তা দিতে পারিনি। আমরা যখন ক্ষমতা গ্রহণ করেছি তখনেই এনার্জি নিরাপত্তা নিয়ে কাজ করছি, আগের থেকে এখন বেটার অবস্থায় গেছি।

তিনি বলেন, আমরা বলেছিলাম, বাপেক্সকে শক্তিশালী করবো। বাপেক্সকে বলা হয়েছে বিদেশি কোম্পানির সঙ্গে জেভি করে অংশগ্রহণ করতে।
এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, আন্তর্জাতিক সব চুক্তি বিশ্লেষণ করে দেশের স্বার্থ বিবেচনা করেই পিএসসি (উৎপাদন ও বণ্টন চুক্তি) চূড়ান্ত করা হয়েছে।
মডেল পিএসসি-২০২৩ এর আলোকে সর্বশেষ ২০২৪ সালের মার্চে দরপত্র আহ্বান করা হয়। এতে মার্কিন কোম্পানি এক্সোন মবিলসহ ৭টি আন্তর্জাতিক খ্যাতনামা কোম্পানি দরপত্র কিনেছিল, ২টি কোম্পানি পেট্রোবাংলা থেকে ডাটাও কিনেছিল। রাজনৈতিক পরিস্থিতিসহ নানা কারণে দরপত্র জমাদান থেকে বিরত থাকে। যে কারণে পরিত্যাক্ত করা হয় ২০২৪ এর বিডিং রাউন্ড।
মডেল পিএসসির সংশোধনীতে সুপারিশের ভিত্তিতে গভীর সমুদ্র থেকে স্থলভাগ পর্যন্ত পাইপলাইনের খরচ, ডব্লিউপিপিএফ ৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১.৫ শতাংশ করা হয়েছে। এছাড়া গ্যাসের দাম ব্রেন্ট ক্রুডের ১০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে গভীর সমুদ্রে ১১ শতাংশ এবং অগভীরে সাড়ে ১০ শতাংশ করা হয়েছে। যা মডেল পিএসসি-২০১৯ এ যথাক্রমে অগভীর ও গভীর সমুদ্রে ৫.৬ ডলার ও ৭.২৫ ডলার স্থির দর ছিল।
এক প্রশ্নের জবাবে জানানো হয়, গ্যাসের মূল্য নির্ধারণে ৫ বছরের গড় বাজারদর বিবেচনায় নেওয়া হবে। এতে দেখা গেছে সর্বোচ্চ মূল্য ৯৯ ডলার আর নিচে ৬৫ ডলার রেকর্ড করা হয়েছে। একইসঙ্গে তথ্য প্যাকেজ মূল্য ৫০ শতাংশ কমানো হয়েছে পিএসসি-২০২৬ এ।
বিদ্যুৎ জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, বিএনপির নির্বাচনী ইস্তেহারে দেশীয় তেল গ্যাস অনুসন্ধানে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। আমরা চাই ভবিষ্যতে দেশের জ্বালানি খাতকে স্বনির্ভর করে তুলতে। আমরা আশা করছি বিডিং রাউন্ড সফল হবে।
জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের সচিব মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, ২০২৪ সালের বিডিং রাউন্ডে কোন কোম্পানি দরপত্র জমা না দেওয়ার কারণ উদঘাটনে কমিটি করা হয়। সেই কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে গ্যাসের মূল্য, পাইপলাইনের খরচ, ডব্লিউপিপিএফ এবং তথ্য উপাত্তের বিষয়ে অনেকের সঙ্গে আলোচনা করে কিছুটা পরিবর্তন আনা হয়েছে।
অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান মোঃ আব্দুল মান্নান, বিদ্যুৎ জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের যুগ্ম মোঃ মোর্শেদা ফেরদৌস, পেট্রোবাংলার পরিচালক (পিএসসি) প্রকৌশলী মোহাম্মদ শোয়েব প্রমুখ।
এসএন/পিডিকে