তামিলনাড়ুতে সরকার গঠন নিয়ে নতুন করে নাটকীয়তা তৈরি হয়েছে। সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ার দাবি করলেও শপথ গ্রহণের জন্য টিভিকের প্রধান থালাপতি বিজয়কে আমন্ত্রণ জানাননি রাজ্যপাল রাজেন্দ্র বিশ্বনাথ আরলেকার।
সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, টিভিকের নেতা বিজয় শুক্রবার (৮ মে) বিকেলে গভর্নর রাজেন্দ্র বিশ্বনাথ আরলেকারের সঙ্গে আবার বৈঠকে বসেন। টানা তিন দিনের মধ্যে এটা তাদের তৃতীয় বৈঠক হলো। বৈঠকের লক্ষ্য ছিল, তামিলনাড়ুতে নতুন সরকার গঠন নিয়ে চলমান অচলাবস্থা কাটানো।
সাক্ষাৎ করে সরকার গঠনের আবেদন জানান বিজয়। তিনি দাবি করেন, তার পক্ষে ১১৮ জন বিধায়কের সমর্থন রয়েছে। তবে আরলেকারের কার্যালয়ের সূত্র জানিয়েছে, আগামীকাল শনিবার মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেয়ার জন্য অভিনেতা-রাজনীতিবিদ বনে যাওয়া বিজয়কে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি।
সূত্র জানায়, বিজয়ের টিভিকে রাজ্যের ২৩৪ সদস্যের বিধানসভায় সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য প্রয়োজনীয় ১১৮ জন বিধায়কের সমর্থন প্রমাণ করতে পারেননি।
সূত্রগুলোর দাবি, ২৩৪ সদস্যের তামিলনাড়ু বিধানসভায় সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজন ১১৮ জন বিধায়কের সমর্থন। তবে টিভিকে নেতা বিজয় বর্তমানে ১১৬ জন বিধায়কের সমর্থন নিশ্চিত করতে পেরেছেন, যা সংখ্যাগরিষ্ঠতার চেয়ে দুই আসন কম।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিদুথালাই চিরুথাইগাল কাজির (ভিসিকে), এএমএমকে এবং আইইউএমএলের এক বিধায়কের সঙ্গে জোর আলোচনা চালিয়েও শেষ পর্যন্ত প্রয়োজনীয় সমর্থন আদায় করতে পারেননি বিজয়। বিশেষ করে ভিসিকে ও আইইউএমএলের সমর্থনপত্র তিনি গভর্নরের কাছে জমা দিতে পারেননি। এদিকে আইইউএমএল স্পষ্ট করে জানিয়েছে, তারা টিভিকে নেতৃত্বাধীন জোটের অংশ হবে না।
এবারের বিধানসভা নির্বাচনে বিজয়ের দল তামিলাগা ভেত্রি কাজাগাম চমক দেখিয়ে ২৩৪ আসনের মধ্যে ১০৮টি জিতে নেয়। নির্বাচনে প্রথমবার অংশ নিয়েই দলটি দ্রাবিড় মুনেত্রা কাজাগাম (ডিএমকে) ও এবং অল ইন্ডিয়া আন্না দ্রাবিড় মুনেত্রা কাজাগাম (এআইএডিএমকে)–এর ৬২ বছরের রাজনৈতিক আধিপত্য ভেঙে দেয়।