শেয়ারবাজার লুটপাটকারীদের জবাবদিহিতার আওতায় আনতে হবে : রুমিন ফারহানা

বাংলাদেশের শেয়ারবাজারে গত ১৫ বছরে একটি বিশেষ গোষ্ঠী এক লাখ কোটি টাকার বেশি লুটপাট করে নিয়েছে, যা ছিল সাধারণ মানুষের কষ্টার্জিত সঞ্চয়। এই বিপুল অর্থ লুটপাটের সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত জবাবদিহিতার আওতায় নিয়ে আসার দাবি জানিয়েছেন সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা। আজ বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে ‘বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (সংশোধন) বিল’ পাসের জনমত যাচাইয়ের প্রস্তাব দিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অধিবেশনে রুমিন ফারহানা উল্লেখ করেন, ১৯৯৬ এবং ২০১০ সালে দেশের শেয়ারবাজারে যে ভয়াবহ ধস নামে, তাতে ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীরা সর্বস্ব হারিয়েছেন। শ্বেতপত্রের তথ্য অনুযায়ী গত ১৫ বছরে এক লাখ কোটি টাকার বেশি লুট হলেও প্রভাবশালী সেই সব চক্রকে কখনোই বিচারের মুখোমুখি করা হয়নি।

বর্তমানে দেশের আমদানি-রপ্তানি পরিস্থিতি সংকটে এবং পুঁজিবাজারের ওপর মানুষের আস্থা নেই উল্লেখ করে রুমিন ফারহানা শেয়ারবাজারকে আস্থার জায়গায় ফেরাতে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি-তে দক্ষ ও যোগ্য ব্যক্তিদের নিয়োগ দেওয়ার আহ্বান জানান।

একই আলোচনায় অংশ নিয়ে সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরী বলেন, ২০১০ সালের কেলেঙ্কারির মাধ্যমে হাজার হাজার কোটি টাকা বিদেশে পাচার হয়েছে এবং কোটি কোটি মানুষ পুঁজি হারিয়ে পথে বসেছে। তিনি প্রস্তাবিত বিলে লুটপাটের শাস্তি মাত্র পাঁচ বছর জেল ও পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা রাখায় আপত্তি জানান এবং বিএসইসি সদস্যদের অবসরের বয়সসীমা ৬৫ বছর তুলে দেওয়ার সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেন। তবে লিখিত প্রস্তাব না থাকায় ডেপুটি স্পিকার তার প্রস্তাবটি গ্রহণ করেননি।

সংসদ সদস্যদের বক্তব্যের জবাবে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী রুমিন ফারহানার বক্তব্যের সঙ্গে পূর্ণ একাত্মতা পোষণ করে বলেন, শেয়ারবাজারে অতীতে যা ঘটেছে তা অত্যন্ত দুঃখজনক এবং এই অব্যবস্থাপনা দূর করতেই কমিশনকে ঢেলে সাজানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। অর্থমন্ত্রী আরও জানান, ১৯৯৩ সালে আইনটি করার সময় গড় আয়ু ৫৭ বছর থাকলেও বর্তমানে তা ৭২ বছর হওয়ায় যোগ্য ও অভিজ্ঞ ব্যক্তিদের কাজে লাগাতে সংশোধন প্রয়োজন। তিনি দৃঢ়ভাবে আশ্বস্ত করেন, বিএনপি সরকারের আমলে যেমন শেয়ারবাজার লুটপাটের সুযোগ ছিল না, এবারও তেমন সুযোগ থাকবে না এবং অপরাধীদের অবশ্যই জবাবদিহিতার আওতায় আনা হবে। আলোচনা শেষে অর্থমন্ত্রী কর্তৃক উত্থাপিত বিলটি কণ্ঠভোটে পাস হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *