ইরান যদি শান্তি আলোচনায় রাজি না হয় তবে আবারও দেশটিতে বোমা হামলার হুমকি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার প্রচেষ্টা স্থগিত করার পর ইরানের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে আজ বুধবার (৬ মে) নতুন করে এই হুমকি দিলেন তিনি। তবে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আলোচনার ক্ষেত্রে বড় ধরনের অগ্রগতি হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন। খবর বার্তা সংস্থা এএফপির।
এদিকে, কয়েক সপ্তাহের অচলাবস্থার পর দুই শত্রু দেশ পুনরায় আলোচনায় বসতে পারে এমন ইতিবাচক লক্ষণ জোরালো হয়েছে। ট্রাম্প হরমুজ প্রণালিতে তার তথাকথিত ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’ বন্ধ করার পর প্রধান মধ্যস্থতাকারী দেশ পাকিস্তান একটি চুক্তিতে পৌঁছানোর বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেছে।
ট্রাম্প তাঁর ‘ট্রুথ সোশ্যাল’ প্ল্যাটফর্মে লিখেছেন, “যদি ইরান রাজি হওয়া বিষয়গুলোতে সম্মত হয়… তবে ইতোমধ্যে কিংবদন্তি হয়ে ওঠা ‘এপিক ফিউরি’র সমাপ্তি ঘটবে এবং অত্যন্ত কার্যকর অবরোধ তুলে নিয়ে হরমুজ প্রণালি ইরানসহ সবার জন্য খুলে দেওয়া হবে।’
পাশাপাশি তিনি এটাও বলেন, যদি কোনো চুক্তি সম্পন্ন না হয়, তবে মার্কিন হামলা পুনরায় শুরু হবে যা আগের তুলনায় অনেক উচ্চতর পর্যায়ে এবং তীব্রতায় হবে।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাকাই স্থানীয় সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন যে, মার্কিন পরিকল্পনা এবং প্রস্তাবটি এখনও পর্যালোচনার অধীনে রয়েছে এবং তেহরান তাদের মতামত চূড়ান্ত করার পর পাকিস্তানকে জানাবে।
মার্কিন নেতা এই সতর্কতা জারির আগে একটি পোস্টে লিখেছিলেন যে, তেহরানের সঙ্গে একটি সম্পূর্ণ এবং চূড়ান্ত চুক্তির দিকে বড় ধরনের অগ্রগতি হয়েছে, যদিও তিনি বিস্তারিত কিছু জানাননি। তিনি আরও যোগ করেন, ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম… অল্প সময়ের জন্য স্থগিত রাখা হবে যাতে দেখা যায় যে চুক্তিটি চূড়ান্ত ও স্বাক্ষর করা যায় কি না।’
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প জানান, ইরানি বন্দরগুলোর ওপর মার্কিন নৌ-অবরোধ বহাল থাকবে কারণ তেহরানও এই গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক পথটি বন্ধ রেখেছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া মার্কিন-ইসরায়েলি অভিযানের প্রতিক্রিয়ায় ইরান এই পদক্ষেপ নিয়েছিল, যা বিশ্ববাজারকে কাঁপিয়ে দিয়েছিল এবং জ্বালানির দাম বাড়িয়ে দিয়েছিল।
গত মাসে ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত প্রাথমিক আলোচনার প্রধান ব্যক্তিত্ব পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরীফ ট্রাম্পের সাহসী নেতৃত্ব এবং সময়োপযোগী ঘোষণার প্রশংসা করে একটি চুক্তির বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন। তিনি এক্সে লিখেছেন, ‘আমরা অত্যন্ত আশাবাদী যে বর্তমান গতিশীলতা একটি দীর্ঘস্থায়ী চুক্তির দিকে নিয়ে যাবে যা এই অঞ্চল এবং তার বাইরেও স্থায়ী শান্তি ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করবে।’
মার্কিন সংবাদ মাধ্যম এক্সিওস দুজন মার্কিন কর্মকর্তার বরাত দিয়ে বুধবার জানিয়েছে যে, ওয়াশিংটন এখন আত্মবিশ্বাসী যে তারা ইরানকে দিয়ে গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথ খুলে দেওয়ার এবং সংঘাত বন্ধের চুক্তির খুব কাছাকাছি পৌঁছেছে। এতে বলা হয়েছে, উভয় পক্ষ যুদ্ধ শেষ করার জন্য একটি ‘এক পাতার সমঝোতা স্মারক’-এ সম্মত হওয়ার পর্যায়ে রয়েছে।