যুক্তরাজ্যে আশ্রয়প্রার্থী ও শরণার্থীদের জন্য নতুন আইনি পথ তৈরির ঘোষণা দিয়েছে দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এর আওতায় কানাডার শাসনব্যবস্থার আদলে বিভিন্ন সামাজিক-কমিউনিটি সংস্থা ও বিশ্বস্ত বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে সরাসরি শরণার্থী স্পনসর (আর্থিক ও পুনর্বাসন ব্যবস্থার দায়িত্ব নেওয়া) করার অনুমতি দেওয়া হবে। স্থানীয় সময় শুক্রবার (২৬ জুন) রাতে যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাবানা মাহমুদ এই নতুন পরিকল্পনার কথা জানান। খবর এএফপির।
নতুন স্পনসরশিপ স্কিম ও সময়সূচি
চলতি বছরের শেষের দিকেই এই নতুন স্পনসরশিপ ব্যবস্থা কার্যকর হবে। এর আওতায় বিভিন্ন সামাজিক সংস্থা ও নির্দিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়গুলো শরণার্থীদের স্পনসর করতে পারবে। এই প্রক্রিয়ায় প্রথম দফায় শরণার্থীদের আগমন ২০২৭ সালের শরৎকালে হতে পারে।
আগামী বছর থেকে যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন কর্মসংস্থান বা নিয়োগকর্তাদের জন্যও শরণার্থীদের স্পনসর করার একটি আইনি পথ উন্মুক্ত করা হবে।
এই নতুন ব্যবস্থাটি পূর্বের ‘ইউকে রিসেটেলমেন্ট স্কিম’-এর চেয়ে অনেক বড় পরিসরে কাজ করবে। তবে মোট কতজন শরণার্থী এই সুবিধা পাবেন তা সুনির্দিষ্টভাবে না জানালেও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এতে একটি সর্বোচ্চ সীমা বা ‘ক্যাপ’ থাকবে। এর আগে সিরিয়া ও আফগানিস্তানের মতো নির্দিষ্ট দেশের নাগরিকদের জন্য এমন স্পনসরশিপ চালু করা হয়েছিল।
যুক্তরাজ্যে অভিবাসন ও শরণার্থী সংকট অত্যন্ত সংবেদনশীল একটি রাজনৈতিক ইস্যু, যেখানে অভিবাসী-বিরোধী হাওয়াকে কাজে লাগিয়ে কট্টর ডানপন্থি দল ‘রিফর্ম ইউকে’ অত্যন্ত জনপ্রিয় হয়ে উঠছে।
গত দুই বছর ধরে ক্ষমতায় থাকা যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার সম্প্রতি পদত্যাগের ঘোষণা দিলেও উত্তরসূরি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত অন্তর্বর্তীকালীন দায়িত্বে আছেন। তাঁর সরকার আগামী সপ্তাহেই পার্লামেন্টে একটি নতুন কঠোর অভিবাসন বিল তুলতে যাচ্ছে।
এই নতুন আইনের অধীনে যেসব আশ্রয়প্রার্থীর আবেদন বাতিল হবে, তাদের দ্রুত নিজ দেশে ফেরত পাঠানো সহজ করা হবে এবং শরণার্থীদের জন্য কেবল তাদের পরিবার বা নিকটাত্মীয়দের যুক্তরাজ্যে নিয়ে আসার সুযোগ সীমিত করা হবে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাবানা মাহমুদ জানিয়েছেন, আমি প্রকৃত শরণার্থীদের জন্য নতুন আইনি পথ উন্মুক্ত করছি, একই সঙ্গে অভিবাসন আইনের যেসব ফাঁকফোকরের অপব্যবহার করা হতো সেগুলো বন্ধ করছি। তবে এর আগে আফগানিস্তান, মিয়ানমার ও সুদানসহ বেশ কিছু দেশের ওপর শিক্ষা ভিসা নিষেধাজ্ঞা এবং শরণার্থীর মর্যাদাকে অস্থায়ী করার মতো কঠোর সিদ্ধান্তের জন্য নিজের দলের ভেতরেই সমালোচনার মুখে পড়েছিলেন তিনি। জুলাইয়ের শুরুতে কিয়ার স্টারমারের সম্ভাব্য উত্তরসূরি হিসেবে অ্যান্ডি বার্নহ্যাম ক্ষমতায় এলে শাবানা মাহমুদ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পদে থাকবেন কি না, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে অনিশ্চয়তা রয়েছে।