দলবদল নিয়ে চলা নানা গুঞ্জন ও জল্পনা-কল্পনার মাঝে বেশ বড় এক দোটানায় পড়েছেন বাংলাদেশের মিডফিল্ডার হামজা চৌধুরী। গুঞ্জন সত্যি হলে লেস্টার সিটি ছেড়ে শিগগিরই নতুন কোনো ঠিকানায় নাম লেখাতে পারেন ২৮ বছর বয়সী এই তারকা। সম্প্রতি ইপসউইচ টাউনের বিপক্ষে লেস্টারের কারাবাও কাপের ম্যাচে স্কোয়াডে জায়গা না পাওয়ার পর থেকেই এই গুঞ্জন আরও জোরালো হয়েছে।
লেস্টারের সর্বশেষ ম্যাচ শেষে কোচ রাসেল মার্টিন জানিয়েছেন, ট্রান্সফার উইন্ডো নিয়ে চলা নানা আলোচনা এবং বিভিন্ন ক্লাবের আগ্রহের কারণেই হামজাকে স্কোয়াডের বাইরে রাখা হয়েছে।
চলতি মৌসুমের শুরুতে নটস কাউন্টি ও বার্টন অ্যালবিয়নের বিপক্ষে লিগের প্রথম দুই ম্যাচে বদলি হিসেবে মাঠে নেমেছিলেন হামজা। তবে পোর্টম্যান রোডে দলের সঙ্গেই ছিলেন না তিনি। ফুটবল পাড়ায় গুঞ্জন উঠেছে, আগামী ১ সেপ্টেম্বর দলবদলের বাজার বন্ধ হওয়ার আগেই হামজাকে নিজেদের তাঁবুতে ভেড়াতে জোর প্রচেষ্টা চালাচ্ছে ডার্বি কাউন্টি।
লেস্টারের একাডেমিতে বেড়ে ওঠা হামজা নিজের পেশাদার ক্যারিয়ারের বড় একটা সময় কিং পাওয়ার স্টেডিয়ামেই কাটিয়েছেন। যদিও মাঝে ধারে বার্টন অ্যালবিয়ন, ওয়াটফোর্ড ও শেফিল্ড ইউনাইটেডে খেলেছেন। তবুও সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে লেস্টারের জার্সিতে ১৬৬ ম্যাচ খেলার অভিজ্ঞতা রয়েছে তার। এখন প্রশ্ন উঠেছে, তবে কি পুরোনো এই ঠিকানা ছাড়ার সময় ঘনিয়ে এলো?
কোচ রাসেল মার্টিনের কথাতেও স্পষ্ট মিলল পরিবর্তনের সুর। কেবল হামজা একা নন, ওউট ফায়েস, কুলো ওয়ো কিংবা স্টেফি মাভিদিদির মতো ফুটবলারদের নিয়েও দলবদলের বাজারে ভালোই চর্চা চলছে।
বিষয়টি খোলাসা করে লেস্টার কোচ বলেছেন, ‘তাদের নিয়ে অন্য ক্লাবগুলোর বেশ আগ্রহ রয়েছে। তবে এখনো চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত আসেনি। আমার দায়িত্ব হলো মাঠে যারা থাকবে, তাদের নিয়ে ম্যাচের প্রস্তুতি নেওয়া। হামজা যদি শেষ পর্যন্ত ক্লাবে থেকে যায়, তবে তা দারুণ ব্যাপার হবে। আর যদি সে চলে যায়, তবে ক্লাব ও খেলোয়াড় উভয়ের জন্যই বিষয়টি লাভজনক হতে হবে। যাই হোক না কেন, সে তো এই মুহূর্তে লেস্টারেরই খেলোয়াড়।’
খেলোয়াড়রা যখন দলবদলের মানসিক দোলাচলে থাকেন, তখন মাঠের খেলায় শতভাগ মনোযোগ দেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে—এমনটাই বিশ্বাস কোচের। মূলত এই কারণেই কঠোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন মার্টিন।
তিনি জানান, খেলোয়াড়রা অনুশীলনে শতভাগ পেশাদারিত্ব দেখালেও ট্রান্সফারের অনিশ্চয়তার মাঝে মানসিক চাপ কাজ করে। তাই যারা এই মুহূর্তে কেবল ক্লাবের খেলায় পুরোপুরি মনোযোগী, তাদেরই দলে বেশি প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে।
নটস কাউন্টির বিপক্ষে ম্যাচের পর থেকেই টানা তিন ম্যাচে স্কোয়াডের বাইরে রাখা হয়েছে ফায়েস ও মাভিদিদিকে। তাহলে কি হামজাও আপাতত মূল দলের ভাবনার বাইরে চলে গেলেন? এমন প্রশ্নের জবাবে লেস্টার কোচ জানিয়েছেন, দলবদলের এই গুঞ্জনের মাঝে তিনি হামজাকে মাঠে নামাবেন না।
লেস্টার কোচ বলেন, ‘যে পরিমাণ দলবদলের গুঞ্জন চলছে, তাতে এই মুহূর্তে আমি তাকে মাঠে নামাব না। এর মানে এই নয় যে, খেলোয়াড় হিসেবে সে খারাপ কিছু করেছে। এই সিদ্ধান্তটি সম্পূর্ণ আমার। এক সপ্তাহ পর তারা যদি শেষ পর্যন্ত ক্লাবেই থেকে যায়, তবে কোনো সমস্যা নেই। তখন তারা আবার দলের সাফল্যে অবদান রাখতে পারবে।’
লেস্টার সিটি বর্তমানে ইংলিশ ফুটবল লিগের তৃতীয় স্তরে খেলছে। অন্যদিকে, ডার্বি কাউন্টি খেলছে দ্বিতীয় স্তর চ্যাম্পিয়নশিপে। একসময়ে ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে লেস্টারের হয়ে মাঠ মাতানো হামজা এখন কোন ঠিকানায় পাড়ি জমান, সেটাই এখন দেখার বিষয়।