যুদ্ধক্ষেত্র থেকে পিছু হটায় কঙ্গোর ২৭ সেনাকে মৃত্যুদণ্ড

বিদ্রোহীদের সঙ্গে সম্মুখ যুদ্ধক্ষেত্র থেকে পিছু হটা ও আদেশ অমান্য করার অভিযোগে আফ্রিকার দেশ গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্রের (ডিআর কঙ্গো) ২৭ সেনাকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন দেশটির একটি সামরিক আদালত।

রোববার (৪ অক্টোবর) তুর্কি সংবাদসংস্থা আনাদোলুর বরাতে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো আদালতের নথির ভিত্তিতে এ চাঞ্চল্যকর খবর নিশ্চিত করেছে।

প্রতিবেদনে জানানো হয়, দেশটির সশস্ত্র বিদ্রোহী গোষ্ঠী ‘এএফসি/এম২৩‘-এর বিরুদ্ধে লড়াই চলাকালীন সামনের সারি ছেড়ে পালিয়ে যাওয়ার কারণে ওই সেনাসদস্যদের বিরুদ্ধে ‘কাপুরুষতা’ ও শৃঙ্খলাভঙ্গের মারাত্মক অভিযোগ আনা হয় এবং বিচার শেষে তাঁদের দোষী সাব্যস্ত করে মৃত্যুদণ্ডের রায় দেওয়া হয়।

এর আগে গত ১৫ সেপ্টেম্বর দেশটির দক্ষিণ কিভু প্রদেশের উভিরা সামরিক আদালতে ২১ সিম্বা ব্যাটালিয়নের অন্তত ১১২ জন সেনার বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে বিচারপ্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল। গত আগস্টে পূর্ব কঙ্গোয় বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ চলাকালে আদেশ অমান্য করে যুদ্ধক্ষেত্র থেকে সরে যাওয়ার অপরাধে তাঁদের অভিযুক্ত করা হয়।

সামরিক আদালত গত শুক্রবার আরও ৫৪ জন সেনাকে আদালতের নির্দেশনা লঙ্ঘনের অভিযোগে পাঁচ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং ১০ জনকে ছয় মাসের কারাদণ্ড প্রদান করেন। তবে পর্যাপ্ত প্রমাণের অভাবে ৫ জন নারী সেনাসহ মোট ২১ জন সেনা বিচারিক প্রক্রিয়ায় খালাস পেয়েছেন।

কঙ্গো সরকারের রাষ্ট্রপক্ষ জানিয়েছে, কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উভিরা এলাকাকে বিদ্রোহীদের হাত থেকে সুরক্ষিত রাখতেই ওই সেনাদের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে মোতায়েন করা হয়েছিল। কিন্তু তারা দায়িত্ব ছেড়ে পালিয়ে যান। এর আগে গত মে মাসেও যুদ্ধক্ষেত্র থেকে পিছু হটার অপরাধে অপর একটি মামলায় ৫৮ জন সেনাকে তিন বছরের কারাদণ্ড দিয়েছিল কঙ্গোর সামরিক আদালত।

উল্লেখ্য, পূর্ব কঙ্গোয় দীর্ঘদিন ধরে চলমান সহিংস সংঘাতের পেছনে অন্যতম প্রধান শক্তি এম২৩ বিদ্রোহীরা। ২০২৫ সালের শুরুর দিকে গোমা ও বুকাভুসহ কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ একাধিক এলাকা দখল করে নেয় এই গোষ্ঠীটি। বর্তমানেও তারা ওই অঞ্চলের বৃহৎ এলাকা নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রেখেছে। কঙ্গো সরকার ও জাতিসংঘ প্রতিবেশি রুয়ান্ডার বিরুদ্ধে এসব বিদ্রোহীদের মদদ দেওয়ার অভিযোগ করলেও তা অস্বীকার করে আসছে কিগালি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *