মেসিকে ভালোবাসে স্পেন, আবার হারাতেও চায়

আর্জেন্টাইন ফুটবল জাদুকর লিওনেল মেসি। ছবি : এএফপি

স্পেনের ফুটবল ইতিহাসে বিদেশি হয়েও খুব কম খেলোয়াড়ই লিওনেল মেসির মতো ভালোবাসা পেয়েছেন। বার্সেলোনার জার্সিতে তার পায়ের জাদুতে মুগ্ধ হয়েছে একাধিক প্রজন্ম। অনুপ্রাণিত হয়েছে আজকের স্পেন দলের অনেক ফুটবলারও। কিন্তু বিশ্বকাপের ফাইনাল আবেগের নয়, শ্রেষ্ঠত্বের মঞ্চ। সেখানে ভালোবাসার চেয়ে জয়ের মূল্যই বেশি। তাই অন্তত একটি সন্ধ্যার জন্য স্পেন চাইবে, লিওনেল মেসির পায়ের জাদু যেন আর না জ্বলে ওঠে।

বিশ্বকাপের ফাইনালে স্পেনের মুখোমুখি হওয়ার প্রসঙ্গ উঠতেই মুচকি হেসেছিলেন মেসি। বলেছিলেন, স্পেন দলের অনেক খেলোয়াড়কে তিনি ভালো করেই চেনেন। তাদের অনেকেই খেলেন বার্সেলোনায়। যে ক্লাবের সঙ্গে জড়িয়ে আছে তার জীবনের সবচেয়ে গৌরবময় অধ্যায়। ২০০০ সালে মাত্র ১৩ বছর বয়সে রোজারিও ছেড়ে বার্সেলোনায় যোগ দেন তিনি।

এরপর ২০০৪ সালে মূল দলে অভিষেকের পর ২০২১ সালে বিদায় নেওয়ার আগে ৭৭৮ ম্যাচে ৬৭২ গোল করেন মেসি। জেতেন ১০টি লা লিগা, ৪টি চ্যাম্পিয়ন্স লিগসহ ৩৫টি শিরোপা। নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন ক্লাবটির ইতিহাসের অন্যতম সেরা কিংবদন্তি হিসেবে।

মেসির প্রতিভায় এতটাই মুগ্ধ ছিল স্পেন যে, কৈশোরে তাকে নিজেদের জাতীয় দলের হয়ে খেলানোর চেষ্টাও হয়েছিল। কিন্তু আর্জেন্টিনার প্রতি তার টান ছিল অটুট। ২০০৫ সালে জাতীয় দলে অভিষেকের পর আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। স্পেনের নাগরিকত্ব নিলেও নিজের আর্জেন্টাইন পরিচয় ও উচ্চারণ কখনও বদলাননি। এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছিলেন, দেশের সঙ্গে নিজের পরিচয় হারাতে চান না বলেই সেই উচ্চারণ ধরে রেখেছেন।

এই ফাইনাল তাই স্পেনের অনেক ফুটবলারদের কাছেও আবেগের পরীক্ষা। লামিনে ইয়ামালের সঙ্গে ২০০৭ সালে তোলা সেই বিখ্যাত ছবিটি আজও আলোচনায়। দানি ওলমো, মিকেল ওইয়ারসাবালের মতো অনেকেই স্বীকার করেছেন, মেসির খেলা দেখেই তারা বড় হয়েছেন। কিন্তু এবার সেই নায়ককেই থামানোর দায়িত্ব তাদের কাঁধে।

দুই কোচের গল্পেও রয়েছে দারুণ মিল। আর্জেন্টিনার লিওনেল স্কালোনি ১৯৯৮ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত স্পেনের বিভিন্ন ক্লাবে খেলেছেন। কোচিং ক্যারিয়ারের শুরুতে তিনি বর্তমান স্পেন কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তের কাছ থেকেও দিকনির্দেশনা পেয়েছিলেন। এখন বিশ্বকাপের সবচেয়ে বড় মঞ্চে দুজনই দাঁড়িয়ে আছেন বিপরীত ডাগআউটে।

এই ফাইনাল তাই শুধু স্পেন ও আর্জেন্টিনার লড়াই নয়। এটি ভালোবাসা, স্মৃতি আর প্রতিদ্বন্দ্বিতারও এক অনন্য গল্প। যে মানুষটিকে একদিন নিজেদের জার্সিতে দেখতে চেয়েছিল স্পেন, সেই মানুষটিই আজ তাদের বিশ্বকাপ স্বপ্নের সবচেয়ে বড় বাধা। তাই মাত্র একটি সন্ধ্যার জন্য, গোটা স্পেন চাইবে লিওনেল মেসির পায়ের জাদু যেন নীরব হয়ে যায়।

ফুটবল বিশ্বকাপ ২০২৬ আর্জেন্টিনা ফুটবল দল স্পেন ফুটবল দল লিওনেল মেসি

sn/sks

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *