ভারতের বর্ষীয়ান অভিনেতা নানা পাটেকরের মৃত্যুর পর সামনে এসেছে তাঁর জীবনের শেষ কয়েক ঘণ্টার নানা তথ্য। মৃত্যুর মাত্র আড়াই ঘণ্টা আগে রাত সাড়ে ২টার দিকে এক বন্ধুকে বার্তা পাঠিয়েছিলেন তিনি। জানিয়েছিলেন, শরীর ভালো লাগছে না। এরপর সেই বন্ধুকে ফোনও করেন অভিনেতা।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের ইন্ডিয়া টুডের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তখন গোয়ার বাড়িতে ছিলেন নানা পাটেকর। গভীর রাতে পাঠানো বার্তাটি তাঁর বন্ধু তাৎক্ষণিকভাবে দেখতে পারেননি। পরে ফোন পেয়ে প্রায় ভোর ৪টার দিকে তিনি নানা পাটেকরের বাড়িতে পৌঁছান।
বাড়িতে পৌঁছে বন্ধুটি দেখতে পান, নানা পাটেকর ঘামছিলেন এবং ধীরে ধীরে অচেতন হয়ে পড়ছিলেন। এরপর দ্রুত চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়। বাড়িতেই তাঁর জরুরি চিকিৎসা শুরু করেন চিকিৎসকেরা। পরে ভোর ৪টা ২০ মিনিট থেকে ৪টা ৩০ মিনিটের মধ্যে তাঁকে গোয়ার মণিপাল হাসপাতালে নেওয়া হয়।
হাসপাতালে নেওয়ার পর প্রায় ৪৫ মিনিট ধরে নানা পাটেকরকে বাঁচানোর চেষ্টা করেন চিকিৎসকেরা। এর আগে বাড়িতেও তাঁর হৃদযন্ত্র সচল রাখতে জরুরি চিকিৎসা দেওয়া হয়েছিল। হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসকেরা দীর্ঘ সময় ধরে তাঁকে বাঁচানোর চেষ্টা চালিয়ে যান। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তাঁদের চেষ্টা সফল হয়নি।
ভোর ৫টা ২০ মিনিটের দিকে নানা পাটেকরকে মৃত ঘোষণা করা হয়। তাঁর বয়স হয়েছিল ৭৫ বছর। প্রাথমিকভাবে হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে তাঁর মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গেছে। মৃত্যুর কারণ নিশ্চিত করতে ময়নাতদন্তও করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম।
প্রায় পাঁচ দশকের অভিনয়জীবনে নানা পাটেকর হিন্দি ও মারাঠি সিনেমায় অসংখ্য স্মরণীয় চরিত্রে অভিনয় করেছেন। ‘পরিন্দা’, ‘ক্রান্তিবীর’, ‘অগ্নিসাক্ষী’, ‘আব তক ছাপ্পান’ ও ‘ওয়েলকাম’-এর মতো সিনেমায় তাঁর অভিনয় দর্শকদের কাছে ব্যাপকভাবে প্রশংসিত হয়েছে।
মৃত্যুর মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে বন্ধুকে পাঠানো সেই বার্তাই এখন নানা পাটেকরের জীবনের শেষ সময়ের অন্যতম আলোচিত ঘটনা হয়ে উঠেছে।