সিরিয়ার ক্ষমতাচ্যুত প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদ এবং তার ছোট ভাইকে মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) মানবতাবিরোধী অপরাধ ও যুদ্ধাপরাধের দায়ে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন সিরিয়ার একটি আদালত। দেশটিতে ১৪ বছরের সংঘাতে প্রায় পাঁচ লাখ মানুষ নিহত হয়েছেন। খবর সিএনএনের।
আসাদ পরিবারের পাঁচ দশকের শাসনের অবসানের প্রায় ২০ মাস পর, বাশার আল-আসাদ বা তার ঘনিষ্ঠ সহযোগীদের বিরুদ্ধে এটিই প্রথম কোনো রায়।
দামেস্কের চতুর্থ ফৌজদারি আদালতে এই রায় দেওয়া হয়। আদালতের শুনানি রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে সরাসরি সম্প্রচার করা হয়।
বিচারক ফাখারেদ্দিন আল-আরিয়ান বলেন, বাশার আসাদ যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটনে রাষ্ট্রীয় সংস্থাগুলো ব্যবহার করেছেন।
একই মামলায় আসাদের মায়ের দিকের আত্মীয় আতেফ নাজিবকেও মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। দক্ষিণাঞ্চলীয় দারা প্রদেশে সরকারবিরোধী আন্দোলন দমনের তদারকির জন্য তাকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে। ওই দমন-পীড়নের পরই বিদ্রোহ শুরু হয়, যা পরে গৃহযুদ্ধে রূপ নেয়।
২০২৪ সালের ডিসেম্বরে আসাদ সরকারের পতনের পর বাশার আল-আসাদ ও তার ভাই মাহের রাশিয়ায় পালিয়ে যান। পরে তারা রাশিয়ায় রাজনৈতিক আশ্রয় পান। এদিকে, সিরিয়ার নতুন শাসকরা রাশিয়ার কাছে দুই ভাইকে হস্তান্তরের দাবি জানিয়েছে।
এর আগে, ২০১১ সালের এপ্রিল মাসে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ মন্ত্রণালয় আতেফ নাজিবের ওপর নিষেধাজ্ঞা দেয়। পরে তাকে আটক করা হয়। আসাদ সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের মধ্যে তিনি অন্যতম, যিনি বিচারের মুখোমুখি হয়েছেন।
নাজিব সিরীয় সেনাবাহিনীর সাবেক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল। ২০১১ সালে তিনি দক্ষিণ সিরিয়ার দারা প্রদেশে রাজনৈতিক নিরাপত্তা শাখার প্রধান ছিলেন।
সে সময় দারার একটি স্কুলের দেয়ালে সরকারবিরোধী গ্রাফিতি লেখার অভিযোগে এক ডজনের বেশি কিশোরকে আটক ও নির্যাতন করা হয়। এই ঘটনা আসাদ সরকারের নিরাপত্তা বাহিনীর বিরুদ্ধে বড় বিক্ষোভের কারণ হয়ে ওঠে।
বিক্ষোভ শুরু হলে সরকার কঠোরভাবে তা দমন করে। পরে এই আন্দোলন ১৪ বছরের গৃহযুদ্ধে রূপ নেয়। বিদ্রোহীদের দ্রুত অভিযানের পর সেই যুদ্ধের অবসান ঘটে এবং আসাদ ক্ষমতাচ্যুত হন।
মাহের আল-আসাদ সিরীয় সামরিক বাহিনীর সাবেক কমান্ডার ছিলেন। সিরিয়ার বিরোধী পক্ষের কর্মীরা তার বিরুদ্ধে হত্যাকাণ্ড, নির্যাতন, চাঁদাবাজি ও মাদক পাচারের অভিযোগ করেছেন। তার বিরুদ্ধে নিজস্ব আটককেন্দ্র পরিচালনার অভিযোগও রয়েছে।