মরার আগে মেয়ে হত্যার বিচার দেখে যেতে চাই : তনুর বাবা

কুমিল্লার বহুল আলোচিত সোহাগী জাহান তনু হত্যা মামলায় আবারও আশার আলো দেখছেন ভুক্তভোগী পরিবার। প্রায় এক দশক পেরিয়ে গেলেও বিচার না পাওয়ার ক্ষোভ ও হতাশা নিয়ে নতুন করে আদালতের তলবকে ঘিরে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে তাদের মধ্যে।

তনুর বাবা ও মামলার বাদী ইয়ার হোসেন বলেন, “মেয়ে হত্যার ১০ বছর পার হয়ে গেছে। অসংখ্যবার বিভিন্ন জায়গায় গিয়ে সাক্ষ্য দিয়েছি, কিন্তু এখনও কোনো ফল পাইনি। আজ তদন্ত কর্মকর্তা আদালতে থাকতে বলেছেন, আমি যাব। মরার আগে নতুন সরকারের কাছে মেয়ে হত্যার বিচার দেখে যেতে চাই।”

এদিকে, কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের ইতিহাস বিভাগের ছাত্রী ও নাট্যকর্মী সোহাগী জাহান তনু হত্যা মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআই-ঢাকার পরিদর্শক মো. তরিকুল ইসলামকে আজ আদালতে তলব করা হয়েছে। মামলার অগ্রগতি জানতে আদালত থেকে পিবিআইকে চিঠি পাঠানোর পরিপ্রেক্ষিতে তিনি আদালতে হাজির হয়ে তদন্তের অগ্রগতি নিয়ে লিখিত ব্যাখ্যা দেবেন।

আজ সোমবার (৬ এপ্রিল) সকালে তদন্ত কর্মকর্তা মো. তরিকুল ইসলাম বলেন, আদালত মামলার অগ্রগতি সম্পর্কে জানতে চেয়েছেন। তবে এখনই চার্জশিট বা চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেওয়া হচ্ছে না। তিনি আদালতে তদন্তের বিভিন্ন পর্যবেক্ষণ তুলে ধরবেন বলে জানান।

এর আগে সর্বশেষ গত বছরের ৭ এপ্রিল কুমিল্লা সেনানিবাস এলাকায় ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন তিনি। সে সময় পিবিআইয়ের তদন্ত দল মামলার বাদী ইয়ার হোসেনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে তার বক্তব্য গ্রহণ করে।

উল্লেখ্য, ২০১৬ সালের ২০ মার্চ সন্ধ্যায় কুমিল্লা সেনানিবাস এলাকায় টিউশনি করতে গিয়ে নিখোঁজ হন তনু। পরদিন সেনানিবাসের পাওয়ার হাউস সংলগ্ন জঙ্গলে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় তার বাবা কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করেন।

মামলাটি প্রথমে থানা-পুলিশ, পরে ডিবি ও সিআইডি তদন্ত করে। কিন্তু কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি না হওয়ায় ২০২০ সালের ২১ অক্টোবর এটি পিবিআইয়ে হস্তান্তর করা হয়। এরপর একাধিকবার তদন্ত কর্মকর্তা পরিবর্তন হয়েছে। বর্তমানে মামলাটি ষষ্ঠ তদন্ত কর্মকর্তার অধীনে রয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *