বিশ্বকাপে কিছু ম্যাচ থাকে, যেগুলো শুধু নকআউটের আরেকটি লড়াই নয়; সঙ্গে বহন করে পুরোনো স্মৃতি, অপূর্ণ হিসাব আর নতুন ইতিহাস লেখার সুযোগ! যুক্তরাষ্ট্রের বোস্টন স্টেডিয়ামে আজ বৃহস্পতিবার রাতের ফ্রান্স-মরক্কো ম্যাচটি ঠিক তেমনই। কাগজে-কলমে এটি কোয়ার্টার ফাইনাল, কিন্তু আবেগের দিক থেকে এটি যেন ২০২২ কাতার বিশ্বকাপের সেমিফাইনালের দ্বিতীয় পর্ব।
চার বছর আগে মরক্কোর রূপকথার যাত্রা থামিয়ে ফাইনালে উঠেছিল ফ্রান্স। আফ্রিকার প্রথম দল হিসেবে বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ওঠা মরক্কোর সেই স্বপ্নভঙ্গের ক্ষত এখনো তাজা। তাই এবার বোস্টনের ম্যাচটি তাদের কাছে শুধু সেমিফাইনালে ওঠার লড়াই নয়, বরং অসমাপ্ত এক হিসাব মেলানোর সুযোগও।
অন্যদিক, ফ্রান্সের লক্ষ্য শুধুই জয় নয়। টানা দুই বিশ্বকাপে ফাইনাল খেলার পর এবারও শেষ চারের পথে এগিয়ে যেতে পারলে দিদিয়ের দেশমের দল আরও একটি অনন্য কীর্তির দিকে এগিয়ে যাবে। ফলে দুই দলের লক্ষ্য আলাদা হলেও গুরুত্ব একই-সেমিফাইনাল।
বাংলাদেশ সময় আজ রাত ২টায় বোস্টন স্টেডিয়ামে ম্যাচটি দিয়ে শুরু হবে বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনাল। এখান থেকে আর ভুলের সুযোগ নেই। ৯০ মিনিটে নিষ্পত্তি না হলে অপেক্ষা করবে অতিরিক্ত সময়, প্রয়োজন হলে টাইব্রেকার। অর্থাৎ একটি মুহূর্তই বদলে দিতে পারে পুরো টুর্নামেন্টের চিত্র।
এবারের বিশ্বকাপেও ফ্রান্স নিজেদের অন্যতম শিরোপাপ্রত্যাশী হিসেবে প্রমাণ করেছে। আক্রমণভাগের নেতৃত্বে আছেন কিলিয়ান এমবাপ্পে, যিনি গতি, ড্রিবলিং ও ফিনিশিং-সব মিলিয়ে যেকোনো রক্ষণভাগের জন্য বড় হুমকি। প্রতিপক্ষের ডিফেন্সে ছোট্ট একটি ফাঁক পেলেই ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারেন এই ফরাসি তারকা।
তবে মরক্কোকে শুধু রক্ষণাত্মক দল ভাবার সুযোগ নেই। তাদের সবচেয়ে বড় শক্তি সংগঠিত ডিফেন্স, কিন্তু সেই রক্ষণ থেকেই শুরু হয় ভয়ংকর সব পাল্টা আক্রমণ। অধিনায়ক আশরাফ হাকিমির নেতৃত্বে ‘আটলাস লায়ন্স’ ইতোমধ্যেই দেখিয়েছে, বলের দখল কম থাকলেও সুযোগ কাজে লাগিয়ে বড় দলকে হারানোর সামর্থ্য তাদের আছে।
পরিসংখ্যান অবশ্য ফ্রান্সের পক্ষেই কথা বলছে। দুই দলের আগের ছয় দেখায় চারটিতেই জিতেছে ফরাসিরা, বাকি দুটি ম্যাচ ড্র হয়েছে। মরক্কো এখনো ফ্রান্সের বিপক্ষে জয়ের দেখা পায়নি। কিন্তু বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে অতীতের হিসাব খুব কমই কাজে আসে। এখানে এক রাতেই বদলে যেতে পারে বহু বছরের ইতিহাস।
এই কারণেই বোস্টনের ম্যাচটি শুধু এমবাপে বনাম হাকিমি কিংবা ইউরোপ বনাম আফ্রিকার লড়াই নয়। এটি অভিজ্ঞতা বনাম ক্ষুধা, ইতিহাস বনাম প্রতিশোধেরও দ্বৈরথ।
বিশ্বকাপের শেষ আটে পৌঁছে প্রতিটি দলই বুঝে গেছে, এখন আর সুন্দর ফুটবল খেলাই যথেষ্ট নয়। প্রয়োজন সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়া, ছোট সুযোগকে বড় করে তোলা এবং চাপের মুহূর্তে স্নায়ু ধরে রাখা। যে দল সেটি পারবে, তারাই পাবে শেষ চারের টিকিট।
বোস্টনের রাত তাই শুধু একটি কোয়ার্টার ফাইনালের গল্প লিখবে না। এটি জানিয়ে দেবে, চার বছর আগের গল্পের পুনরাবৃত্তি হবে, নাকি মরক্কো লিখবে নতুন ইতিহাস!
কোয়ার্টার ফাইনাল
ফ্রান্স–মরক্কো
সরাসরি, রাত ২টা
বিটিভি, টি স্পোর্টস ও সময় টিভি
এসএন/পিডিকে
