পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত মিলছে তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে বাড়তে থাকা অসন্তোষকে ঘিরে। সোমবার রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা শুরু হয় যে দলের একাংশ সাংসদ ও বিধায়ক আলাদা ব্লক গঠন করেছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র জল্পনা তৈরি হয়েছে।
ভারতের লোকসভায় তৃণমূল কংগ্রেসের একাংশ সাংসদ নতুন সংসদীয় গোষ্ঠী তৈরির উদ্যোগ নিয়েছেন। বিদ্রোহী শিবিরের দাবি, প্রায় ২০ জন সাংসদ তাদের সাথে রয়েছেন এবং তারা বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ-র সঙ্গে সমন্বয় রেখে কাজ করতে আগ্রহী। এই গোষ্ঠীর অন্যতম মুখ হিসেবে উঠে এসেছে বারাসাতের সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদারের নাম।
সোমবার দিল্লিতে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদবের বাসভবনে এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক হয় বলে জানা গিয়েছে। সেখানে উপস্থিত ছিলেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী ও বিজেপি নেতা বিপ্লব দেব। রাজনৈতিক সূত্রের মতে, ওই বৈঠকেই তৃণমূলের বিদ্রোহী শিবির নিজেদের ভবিষ্যৎ কৌশল নিয়ে আলোচনা করে।
অন্যদিকে পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভাতেও নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত মিলছে। বিদ্রোহী বিধায়কদের একটি অংশ ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে আলাদা ব্লক গঠন করেছে। তাদের বক্তব্য, দলের মধ্যে সাংগঠনিক ও রাজনৈতিক মতপার্থক্যের কারণেই এই অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে।
রাজনৈতিক জল্পনা আরও বাড়িয়েছে ফিরহাদ হাকিমের একটি বৈঠক। সূত্রের দাবি, তিনি বিদ্রোহী শিবিরের নেতৃত্বের সঙ্গে দীর্ঘক্ষণ আলোচনা করেছেন। যদিও এ বিষয়ে তার পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত কোনও আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করা হয়নি।
এদিকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বর্তমানে দিল্লিতে ইন্ডি জোটের বৈঠকে ব্যস্ত। সেই সময়েই রাজ্যে তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে রাজনৈতিক চর্চা শুরু হয়েছে।
তবে এখনও পর্যন্ত নির্বাচন কমিশন বা লোকসভার স্পিকারের তরফে বিদ্রোহী গোষ্ঠীকে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেওয়া হয়নি। ফলে “আসল তৃণমূল” কারা এবং দলীয় প্রতীক “জোড়া ফুল” কোন পক্ষের হাতে থাকবে, তা নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ভবিষ্যতেই স্পষ্ট হবে।
তবে সদ্য সমাপ্ত পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল ৮০টি আসনে জয়ী হলেও, বিদ্রোহী শিবিরে ইতিমধ্যেই ৫৮ জন বিধায়ক যোগ দিয়েছেন। এই নতুন গোষ্ঠীর নেতৃত্বে রয়েছেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। তাদের বক্তব্য, বিধানসভায় সংখ্যাগরিষ্ঠ সমর্থন তাদের পক্ষেই থাকায় তারাই প্রকৃত তৃণমূল কংগ্রেসের প্রতিনিধিত্ব করছে।
এর পাশাপাশি লোকসভায় তৃণমূল কংগ্রেসের মোট ২৮ জন সাংসদ সদস্য রয়েছেন। তাদের মধ্যে ২০ জন সোমবার বিদ্রোহী শিবিরের যোগ দিলেন। অর্থাৎ
২০ সাংসদ ও ৬০ বিধায়কের নতুন ব্লক তৈরি করলেন৷ সংখ্যা তত্ত্বের নিরিখে তারাই এখন আসল তৃণমুল। ফলে আরও চাপে পড়লেন মমতা।
এসএন/কে