যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত পেট্রোলিয়াম মজুত (এসপিআর) থেকে জ্বালানি কোম্পানিগুলোর কাছে ৫ কোটি ৩৩ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল ঋণ দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন।
স্থানীয় সময় সোমবার (১১ মে) যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি বিভাগ (ডিওই) জানায়, ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যুদ্ধের কারণে অস্থির হয়ে ওঠা বৈশ্বিক তেলের বাজার স্থিতিশীল করতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। খবর রয়টার্সের।
ঋণ পাওয়া নয়টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে রয়েছে- এক্সন মোবিল, ট্রাফিগুরা এবং ম্যারাথন পেট্রোলিয়াম। তবে গত মাসে জ্বালানি বিভাগ যে ৯ কোটি ২৫ লাখ ব্যারেল তেল ঋণ দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছিল, কোম্পানিগুলো তার মাত্র ৫৮ শতাংশ গ্রহণ করেছে।
এর আগে চলতি বসন্তেই যুক্তরাষ্ট্র কৌশলগত মজুত থেকে প্রায় ৮ কোটি ব্যারেল তেল ঋণ দিয়েছিল। মোট ১৭ কোটি ২০ লাখ ব্যারেল তেল বাজারে ছাড়ার পরিকল্পনার অংশ হিসেবে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
গত মার্চে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থার (আইইএ) সদস্য ৩০টির বেশি দেশের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র একটি চুক্তিতে পৌঁছায়। সেই চুক্তি অনুযায়ী, বিশ্ববাজারে মোট প্রায় ৪০ কোটি ব্যারেল তেল ছাড়ার সিদ্ধান্ত হয়।
মূল উদ্দেশ্য ছিল, হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে যাওয়ার কারণে বেড়ে যাওয়া তেল ও জ্বালানির দাম নিয়ন্ত্রণে আনা। সাধারণত বিশ্বে প্রতিদিন সরবরাহ হওয়া মোট তেলের প্রায় ২০ শতাংশ এই প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়।
আইইএর প্রধান ফাতিহ বিরোল বলেছেন, চলমান যুদ্ধ ইতিহাসের সবচেয়ে বড় জ্বালানি সংকট তৈরি করেছে। তিনি সতর্ক করে বলেন, সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়া অব্যাহত থাকলে সদস্য দেশগুলো আরও তেল মজুত ছাড়তে প্রস্তুত রয়েছে।
বর্তমানে সদস্য দেশগুলো তাদের কৌশলগত মজুতের প্রায় ২০ শতাংশ ব্যবহার করেছে বলে জানান তিনি।
এদিকে জ্বালানির ঊর্ধ্বগতির কারণে রাজনৈতিক চাপেও পড়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। আগামী নভেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে কংগ্রেসে নিজেদের অল্প ব্যবধানের সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রাখতে লড়ছে রিপাবলিকানরা।
যুক্তরাষ্ট্রে সোমবার প্রতি গ্যালন পেট্রোলের গড় দাম দাঁড়িয়েছে ৪ দশমিক ৫২ ডলার, যা ২০২২ সালের পর সর্বোচ্চ বলে জানিয়েছে মোটর ক্লাব এএএ।
জ্বালানি বিভাগ জানিয়েছে, কোম্পানিগুলো ভবিষ্যতে অপরিশোধিত তেল ফিরিয়ে দেবে এবং এর সঙ্গে সর্বোচ্চ ২৪ শতাংশ পর্যন্ত অতিরিক্ত প্রিমিয়ামও দিতে হবে। সরকারের দাবি, এতে বাজার স্থিতিশীল হবে এবং করদাতাদের ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়বে না।
টেক্সাস ও লুইজিয়ানার উপকূলে চারটি স্থানে ভূগর্ভস্থ গুহায় সংরক্ষিত যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত তেল মজুতে বর্তমানে প্রায় ৩৮ কোটি ৪০ লাখ ব্যারেল তেল রয়েছে, যা বিশ্বের চার দিনের চাহিদারও কম।